ঢাকা ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপিল শুনানিতে কোনো ধরনের পক্ষপাত করিনি : সিইসি নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা ভাববে এনসিপি : আসিফ মাহমুদ প্রশাসন ধীরে ধীরে একটি রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে : আব্দুল্লাহ মো. তাহের একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে আনছে: ফখরুলের অভিযোগ নরসিংদীতে দুই ব্যবসায়ীর ঝগড়ায় একজনের মৃত্যু, অভিযুক্তর বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন ৭ কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ চূড়ান্ত আমি এসেছি শুধু শুনতে, শিখতে এবং একসঙ্গে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে: জাইমা রহমান চাকরির ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়েছে কিনা তা দেখা উচিত : আমীর খসরু ওসমানী হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রেকেও খেসারত দিতে হবে, ফরাসি কৃষিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

সুপ্রিমকোর্ট বারে আ.লীগপন্থীদের হারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের পরাজয়ের পেছনে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ পাওয়ার কথা জানিয়েছে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার করে নেয়া অনুসন্ধান কমিটি।

গত দুই দিন ধরে এই কমিটি কাজ করছে এ বিষয়ে। মঙ্গলবার তারা কথা বলে নির্বাচনে পরাজিত দুই প্রার্থীর সঙ্গে। আর পরদিন আজ তারা কথা বলেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমহসহ সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে।

গত ৩১ মার্চ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বহী সংসদের এক বৈঠকে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের এই কমিটি করে দেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ, দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান।

এই কমিটিকে আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টে প্রাঙ্গনে ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত আইনজীবীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগে দ্বন্দ্ব ও কোন্দলের বিষয়েও প্রতিবেদন দিতে হবে এই কমিটিকে। এই কোন্দলে জড়িতদের তালিকা দেখে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে আওয়ামী লীগ।

কমিটি প্রথমে কাজ শুরু করেছে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের পরাজয় নিয়ে।

এই নির্বাচনে ১৪টি পদের মধ্যে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল ১০টি এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল পেয়েছে চারটি পদ। যদিও আগের বছর আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল জিতেছিল ছয়টি পদে।

ভোটের পরই গণমাধ্যমে সর্বোচ্চ আদালতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের বিরোধের বিষয়টি সামনে আসে। আর জাতীয় নির্বাচনের আগে এই ধরনের বিরোধ মীসাংসায় জোর দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

কমিটি গঠনের তিন দিন পর মঙ্গলবার আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীদের কাছ থেকে ভোটে হারার কারণগুলো জেনে নেয় অনুসন্ধান কমিটি।

পরদিন আজ বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীতে কাজী জাফরউল্যাহর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে আগের দিনের বৈঠকে পাওয়া তথ্যগুলো খতিয়ে দেখতে সুপ্রিম কোর্টের বেশ কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেন তিনি ও অনুসন্ধান কমিটির অন্য সদস্যরা।

অনুসন্ধান কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান, নজীবুল্লাহ হীরু প্রমুখ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। আরো তথ্য পাবো বলে আশা করছি। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) আবার বসব আমরা।’

জানতে চাইলে সৈয়দ রেজাউর রহমান দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আপনি কাজী জাফরউল্যাহ সাহেবকে জিজ্ঞেস করুন। তিনি এ বিষয়ে ব্রিফিং করবেন।’

আরেক আইনজীবী নাজিবুল্লাহ হিরু বলেন, ‘কাজী জাফরউল্যাহ সাহেবের অফিসে আড্ডা হয়েছে।’

সারাদেশে কোন্দলের বিষয়ে কাজ শুরু ৭ এপ্রিল

সারা দেশের যে সব জেলায় আওয়ামী লীগে অধিক কোন্দল রয়েছে, সে সব নেতাদের ঢাকায় তলবের সিদ্ধান্তও নিয়েছে অনুসন্ধান কমিটি। সারাদেশের দলীয় কোন্দলের কারণ অনুসন্ধানে আগামী ৭ এপ্রিল দলের আট বিভাগের দায়িত্বে থাকা সাংগঠনিক সম্পাকদের সঙ্গে বৈঠক করবে অনুসন্ধান কমিটি।

ওই বৈঠকে সাংগঠনিক সম্পাদকদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করবে কমিটি। তথ্য সংগ্রহ করে সবচেয়ে বেশি কোন্দলপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে ওইসব এলাকার নেতাদের ঢাকায় তলব করা হবে।

অনুসন্ধান কমিটি তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে কোন্দল মীমাংসার চেষ্টা করবে। পাশাপাশি তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন তৈরি করবেন কমিটির সদস্যরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সুপ্রিমকোর্ট বারে আ.লীগপন্থীদের হারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

আপডেট সময় ১১:৫৩:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের পরাজয়ের পেছনে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ পাওয়ার কথা জানিয়েছে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার করে নেয়া অনুসন্ধান কমিটি।

গত দুই দিন ধরে এই কমিটি কাজ করছে এ বিষয়ে। মঙ্গলবার তারা কথা বলে নির্বাচনে পরাজিত দুই প্রার্থীর সঙ্গে। আর পরদিন আজ তারা কথা বলেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমহসহ সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে।

গত ৩১ মার্চ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বহী সংসদের এক বৈঠকে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের এই কমিটি করে দেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ, দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান।

এই কমিটিকে আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টে প্রাঙ্গনে ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত আইনজীবীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগে দ্বন্দ্ব ও কোন্দলের বিষয়েও প্রতিবেদন দিতে হবে এই কমিটিকে। এই কোন্দলে জড়িতদের তালিকা দেখে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে আওয়ামী লীগ।

কমিটি প্রথমে কাজ শুরু করেছে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের পরাজয় নিয়ে।

এই নির্বাচনে ১৪টি পদের মধ্যে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল ১০টি এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল পেয়েছে চারটি পদ। যদিও আগের বছর আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল জিতেছিল ছয়টি পদে।

ভোটের পরই গণমাধ্যমে সর্বোচ্চ আদালতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের বিরোধের বিষয়টি সামনে আসে। আর জাতীয় নির্বাচনের আগে এই ধরনের বিরোধ মীসাংসায় জোর দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

কমিটি গঠনের তিন দিন পর মঙ্গলবার আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীদের কাছ থেকে ভোটে হারার কারণগুলো জেনে নেয় অনুসন্ধান কমিটি।

পরদিন আজ বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীতে কাজী জাফরউল্যাহর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে আগের দিনের বৈঠকে পাওয়া তথ্যগুলো খতিয়ে দেখতে সুপ্রিম কোর্টের বেশ কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেন তিনি ও অনুসন্ধান কমিটির অন্য সদস্যরা।

অনুসন্ধান কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান, নজীবুল্লাহ হীরু প্রমুখ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। আরো তথ্য পাবো বলে আশা করছি। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) আবার বসব আমরা।’

জানতে চাইলে সৈয়দ রেজাউর রহমান দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আপনি কাজী জাফরউল্যাহ সাহেবকে জিজ্ঞেস করুন। তিনি এ বিষয়ে ব্রিফিং করবেন।’

আরেক আইনজীবী নাজিবুল্লাহ হিরু বলেন, ‘কাজী জাফরউল্যাহ সাহেবের অফিসে আড্ডা হয়েছে।’

সারাদেশে কোন্দলের বিষয়ে কাজ শুরু ৭ এপ্রিল

সারা দেশের যে সব জেলায় আওয়ামী লীগে অধিক কোন্দল রয়েছে, সে সব নেতাদের ঢাকায় তলবের সিদ্ধান্তও নিয়েছে অনুসন্ধান কমিটি। সারাদেশের দলীয় কোন্দলের কারণ অনুসন্ধানে আগামী ৭ এপ্রিল দলের আট বিভাগের দায়িত্বে থাকা সাংগঠনিক সম্পাকদের সঙ্গে বৈঠক করবে অনুসন্ধান কমিটি।

ওই বৈঠকে সাংগঠনিক সম্পাদকদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করবে কমিটি। তথ্য সংগ্রহ করে সবচেয়ে বেশি কোন্দলপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে ওইসব এলাকার নেতাদের ঢাকায় তলব করা হবে।

অনুসন্ধান কমিটি তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে কোন্দল মীমাংসার চেষ্টা করবে। পাশাপাশি তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন তৈরি করবেন কমিটির সদস্যরা।