অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়নের জন্য সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেককে চায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ। যদিও খালেক আর এই নির্বাচনে লড়াই করতে আগ্রহী নন বলে জানিয়েছেন।
সোমবার রাতে মহানগর আওয়ামী লীগের জরুরি বর্ধিত সভায় মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে খালেককেই সবচেয়ে যোগ্য বলে সবাই মত দেন। খালেককে আবার মনোনয়ন দেওয়ার প্রস্তাবও সর্বসম্মতিভাবে গৃহীত হয়। এ বিষয়ে সুপারিশও কেন্দ্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।
মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুল আলম সোহাগ জানান, সভায় মেয়র পদে লড়াইয়ের জন্য ১০ নেতার নাম প্রস্তাব করা হয়।
এরা হলেন-তালুকদার আবদুল খালেক, সাংসদ মিজানুর রহমান মিজান, কাজী এনায়েত হোসেন, শেখ সৈয়দ আলী, এম ডি এ বাবুল রানা, সাইফুল ইসলাম, আনিসুর রহমান পপলু, সিদ্দিকুর রহমান বুলু বিশ্বাস এবং শেখ সালাউদ্দীন জুয়েল ও শেখ সোহেল।
পরে তালুকদার আব্দুল খালেককে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি সভায় উত্থাপন করেন খুলনা সদর আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজান। এরপর উপস্থিত সবাই প্রস্তাবে প্রতি সমর্থন জানান।
এই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে পাঠানোর পাশাপাশি অন্য নয়জনের নামও পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয় সভায়।
আগামী ১৫ মে নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ সময় ১২ এপ্রিল। তবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৩ এপ্রিল।
গত ৩১ মার্চ খুলনার সঙ্গে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের তফসিলও ঘোষণা করা হয়েছে। আর এই দুই নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বাছাই ৮ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভা ডেকেছে আওয়ামী লীগ।
খুলনায় ২০০৮ সালের মেয়র নির্বাচনে তালুকদার আবদুল খালেক জিতলেও ২০১৩ সালের নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির কাছে প্রায় ৬০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে যান।
মেয়র থাকাকালে খুলনা মহানগরে দৃশ্যমান উন্নয়ন করা খালেকের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোনো অভিযোগও ছিল না। তারপরও নির্বাচনে বড় ব্যবধানে তার হারের পেছনে দলীয় কোন্দলকেই দায়ী করা হয়।
সিটি নির্বাচনে হারলেও বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মংলা) আসন থেকে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে জিতে সংসদ সদস্য হন তিনি।
স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী সিটি নির্বাচনে অংশ নিতে হলে তাকে সংসদ সদস্য পদ ছাড়তে হবে। কিন্তু অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে তার সংসদীয় আসনটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়াও মংলা বন্দর, ইপিজেড ও নানা শিল্প গড়ে উঠায়।
খালেক জানান, আগামী জাতীয় নির্বাচনে বাগেরহাট-৩ আসন থেকে তাকে আবার প্রার্থী করার ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে দলের কেন্দ্র থেকে।
এই বাস্তবতায় খুলনা মহানগরীতে মেয়র হতে আর আগ্রহ নেই তালুকদার আবদুল খালেকের। দৈনিক আকাশকে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আমি সিটিতে আর কোনো নির্বাচন করব না। যেখান থেকে আমি হেরে গেছি, সেখানে আর যেতে চাই না’
এই সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণ জানতে চাইলে কিছুটা অভিমানও ঝরে পড়ে তালুকদার খালেকের কণ্ঠে। বলেন, ‘এতো উন্নয়ন করার পরও যেখানে আমি জয় লাভ করতে পারিনি, সেখানে আর নির্বাচন করব না।’
‘আমার জীবনের প্রথম হার হচ্ছে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। পক্ষান্তরে রামপাল, মংলার লোক আমাকে গ্রহণ করেছে। আমি জীবনের বাকি সময়টুকু রামপাল মংলার মানুষের উন্নয়নে কাজ করে যেতে চাই।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























