ঢাকা ০৯:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে বোমা হামলা আতঙ্ক

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ব্লুমিংটন সিটিতে এক মসজিদে বোমা হামলার ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দার-আল ফারুক নামের ওই মসজিদে শনিবার ভোর ৫টার পর ফজরের নামাজের সময় ইমামের অফিস কক্ষে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।

স্থানীয় পুলিশ বলছে, মসজিদের কাচের জানালা ভেঙে একটি বোমা ভেতরে ছুড়ে দেওয়া হলে তা বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণে ইমামের কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে ব্লুমিংটন সিটির পুলিশ প্রধান জেফ পটস জানান।

এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট রিচার্ড থমটন ঘটনাস্থলে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বোমাটি হাতে তৈরি ছিল বলে তারা ধারণা করছেন। “এফবিআইয়ের জয়েন্ট টেররিজম টাস্কফোর্স কাজ করছে। কারা, কেন এই হামলা করেছে তা উদঘাটনে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি।”

স্থানীয় প্রশাসনও এ ঘটনায় আলাদা তদন্ত শুরু হয়েছে। হামলাকারীর তথ্য দেওয়ার জন্য মুসলিম আমেরিকান সোসাইটির পক্ষ থেকে ১০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। তবে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। মসজিদ কমিটির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ ওমর জানান, বিস্ফোরণের পরপরই একটি পিকআপ ভ্যানকে দ্রুত মসজিদের পার্কিং এলাকা ত্যাগ করতে দেখা যায়।

বিস্ফোরণে মসজিদের ক্ষতির পাশাপাশি বেশ কিছু কাগজ পুড়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এটি ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক হামলা।” মসজিদ এলাকা ঘিরে বিভিন্ন বাহিনীর তদন্তের মধ্যেই মসজিদ প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে আসেন স্থানীয় মুসলিম আমেরিকান সোসাইটির পরিচালক আসাদ জামান।

তিনি বলেন, “ভয়ঙ্কর শব্দে বোমাটি বিস্ফোরিত হওয়ার পরপরই আশপাশে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের শিখাও দেখেছেন অনেকে।”

গত এক বছরে ওই এলাকায় মুসলমানদের ওপর ১৪টি হামলার ঘটনা ঘটেছে জানিয়ে মোহাম্মদ ওমর বলেন, “মাঝেমধ্যেই আমরা টেলিফোনে হুমকি পাই, ই-মেইলও আসে। সেখানে অশ্লিল ভাষায় বলা হয় এদেশ থেকে চলে যেতে। আমরা নাকি এই সমাজের বোঝা, আমরা নাকি আমেরিকার সমাজ-ব্যবস্থার হুমকি।”

এ মসজিদে নামাজ পড়তে আসা ইয়াসির আব্দেল রহমান বলেন, ব্লুমিংটন মেট্রো এলাকার শিশু-কিশোররাও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এই মসজিদে আসে, আরবি শিখতে আসে। বোমা হামলার ঘটনার পর বাবা-মায়েরা আর তাদের পাঠাতে সাহস করবেন না।

২০১১ সালে এই মসজিদ প্রতিষ্ঠার আগে ভবনটি ছিল নর্থগেট এলিমেন্টারি স্কুল ও কনকর্ডিয়া হাই স্কুলের। এখনও মসজিদের পাশের একটি কক্ষ ‘ম্যারানাথা কম্যুনিটি চার্চ’ হিসেবে ব্যবহার করেন স্থানীয় খ্রিস্টানরা। মসজিদে বোমা হামলার পর অন্যান্য ধর্মের অনুসারীরাও আতঙ্কিত হয়ে উঠেছেন।

মিনেসোটা কাউন্সিল অব চার্চের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেভারেন্ড কার্টিস ডিইয়ং বলেন, “মসজিদে হামলার অর্থ হচ্ছে চার্চে হামলা, সিনগগে হামলা। এর মধ্য দিয়ে সকল ধর্ম বিশ্বাসীদের প্রতি হুমকির স্পষ্ট আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে।”

মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের জুইশ কম্যুনিটি রিলেশন্স কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক স্টিভ হানেগস বলেন, “মুসলমানরা যেন নিজেদের অসহায় না ভাবেন। আমরাও তাদের পাশে রয়েছি।”

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে বোমা হামলা আতঙ্ক

আপডেট সময় ০৪:১০:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ব্লুমিংটন সিটিতে এক মসজিদে বোমা হামলার ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দার-আল ফারুক নামের ওই মসজিদে শনিবার ভোর ৫টার পর ফজরের নামাজের সময় ইমামের অফিস কক্ষে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।

স্থানীয় পুলিশ বলছে, মসজিদের কাচের জানালা ভেঙে একটি বোমা ভেতরে ছুড়ে দেওয়া হলে তা বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণে ইমামের কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে ব্লুমিংটন সিটির পুলিশ প্রধান জেফ পটস জানান।

এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট রিচার্ড থমটন ঘটনাস্থলে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বোমাটি হাতে তৈরি ছিল বলে তারা ধারণা করছেন। “এফবিআইয়ের জয়েন্ট টেররিজম টাস্কফোর্স কাজ করছে। কারা, কেন এই হামলা করেছে তা উদঘাটনে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি।”

স্থানীয় প্রশাসনও এ ঘটনায় আলাদা তদন্ত শুরু হয়েছে। হামলাকারীর তথ্য দেওয়ার জন্য মুসলিম আমেরিকান সোসাইটির পক্ষ থেকে ১০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। তবে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। মসজিদ কমিটির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ ওমর জানান, বিস্ফোরণের পরপরই একটি পিকআপ ভ্যানকে দ্রুত মসজিদের পার্কিং এলাকা ত্যাগ করতে দেখা যায়।

বিস্ফোরণে মসজিদের ক্ষতির পাশাপাশি বেশ কিছু কাগজ পুড়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এটি ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক হামলা।” মসজিদ এলাকা ঘিরে বিভিন্ন বাহিনীর তদন্তের মধ্যেই মসজিদ প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে আসেন স্থানীয় মুসলিম আমেরিকান সোসাইটির পরিচালক আসাদ জামান।

তিনি বলেন, “ভয়ঙ্কর শব্দে বোমাটি বিস্ফোরিত হওয়ার পরপরই আশপাশে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের শিখাও দেখেছেন অনেকে।”

গত এক বছরে ওই এলাকায় মুসলমানদের ওপর ১৪টি হামলার ঘটনা ঘটেছে জানিয়ে মোহাম্মদ ওমর বলেন, “মাঝেমধ্যেই আমরা টেলিফোনে হুমকি পাই, ই-মেইলও আসে। সেখানে অশ্লিল ভাষায় বলা হয় এদেশ থেকে চলে যেতে। আমরা নাকি এই সমাজের বোঝা, আমরা নাকি আমেরিকার সমাজ-ব্যবস্থার হুমকি।”

এ মসজিদে নামাজ পড়তে আসা ইয়াসির আব্দেল রহমান বলেন, ব্লুমিংটন মেট্রো এলাকার শিশু-কিশোররাও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এই মসজিদে আসে, আরবি শিখতে আসে। বোমা হামলার ঘটনার পর বাবা-মায়েরা আর তাদের পাঠাতে সাহস করবেন না।

২০১১ সালে এই মসজিদ প্রতিষ্ঠার আগে ভবনটি ছিল নর্থগেট এলিমেন্টারি স্কুল ও কনকর্ডিয়া হাই স্কুলের। এখনও মসজিদের পাশের একটি কক্ষ ‘ম্যারানাথা কম্যুনিটি চার্চ’ হিসেবে ব্যবহার করেন স্থানীয় খ্রিস্টানরা। মসজিদে বোমা হামলার পর অন্যান্য ধর্মের অনুসারীরাও আতঙ্কিত হয়ে উঠেছেন।

মিনেসোটা কাউন্সিল অব চার্চের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেভারেন্ড কার্টিস ডিইয়ং বলেন, “মসজিদে হামলার অর্থ হচ্ছে চার্চে হামলা, সিনগগে হামলা। এর মধ্য দিয়ে সকল ধর্ম বিশ্বাসীদের প্রতি হুমকির স্পষ্ট আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে।”

মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের জুইশ কম্যুনিটি রিলেশন্স কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক স্টিভ হানেগস বলেন, “মুসলমানরা যেন নিজেদের অসহায় না ভাবেন। আমরাও তাদের পাশে রয়েছি।”