ঢাকা ০৩:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

রানির পাশে আমায় কবর দিও না: ডেনমার্কের প্রিন্স

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ডেনমার্কের প্রিন্স হেনরিক ঘোষণা দিয়েছেন যে, তার স্ত্রী রানি মার্গ্রেথের কবরের পাশে তিনি সমাহিত হতে চান না। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, স্বামী হিসেবে তাকে রানি সমান মর্যাদা দেননি এবং এ কারণে তিনি অসুুুখী। ১৯৬৭ সালে মার্গ্রেথকে বিয়ে করেন হেনরিক। তখন তার নাম রাখা প্রিন্স কনসর্ট। কিন্তু তিনি বারবারই বলেছেন যে, তিনি রাজা কনসর্ট নামে পরিচিত হতে চান। রাজপ্রাসাদই হেনরিকের এ অভিপ্রায়ের কথা প্রকাশ করেছে।

প্রাসাদের মুখপাত্র লেনে ব্যালেভি বলেছেন, এটা গোপন করার কিছু নেই যে ড্যানিশ রাজতন্ত্র প্রিন্স হেনরিককে যে উপাধি দিয়েছে এবং তাকে যে ভূমিকা পালনের সুযোগ দেয়া হয়েছে তাতে তিনি অসুখী ছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার অসন্তোষ পুঞ্জীভূত হয়েছে। স্ত্রীর তাকে সমান চোখে না দেখায়, তিনি যে উপাধি চেয়েছিলেন এবং যে ভূমিকা রাখার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন রানি তা পূরণ না করায় তার পাশে কবর না নেয়ার যে ইচ্ছা প্রিন্স হেনরিক করেছেন তা খুব স্বাভাবিক পরিণতি।

ব্যালেভি বলেছেন, হেনরিকের এ সিদ্ধান্তও রানি মেনে নিয়েছেন। প্রিন্স হেনরিক গত বছর অবসর নিয়েছেন এবং উপাধি ত্যাগ করেছেন। তার বয়স এখন ৮৩ বছর। অবসরে যাওয়ার পর থেকে তিনি খুব কমই সরকারি অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছেন। তিনি ফ্রান্সের একটি বেসরকারি আঙুর বাগানে বেশিরভাগ সময় কাটাচ্ছেন। তবে সরকারিভাবে তারা এখনও বিবাহিত এবং একই ছাদের নিচে বাস করছেন।

ডেনমার্কে ঐতিহ্যগতভাবে স্বামী রাজা হওয়ার পর রাজকুমারী রানির আসনে বসেন। আশা করা হয় রানির পাশেই প্রিন্সের কবর হবে। লন্ডনে কূটনীতিকের দায়িত্ব পালনকালে ১৯৩৪ সালে তৎকালীন ক্রাউন প্রিন্সেস মার্গ্রেথের সঙ্গে সম্পর্ক হয় হেনরিকের। এখন মার্গ্রেথের বয়স ৭৭ বছর। ২০০৫ সালে হেনরিক এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ডেনমার্ক লিঙ্গ সমতার দেশ। কিন্তু সেখানেই একজন তার স্বামীকে তার চেয়ে ছোট মনে করেন। এটা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে কী বার্তা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, সন্তানের সমান মর্যাদাও তাকে দেননি রানি। রানি মারা গেলে কোথায় সমাহিত করা হবে তা ইতিমধ্যেই ঠিক করে রাখা হয়েছে। হেনরিকের জন্ম ফ্রান্সে। মার্গ্রেথকে বিয়ের করার জন্য তাকে বাবা-মায়ের দেয়া নামটিও বাদ দিতে হয়। ছাড়তে হয় ফরাসি নাগরিকত্ব।

এছাড়া ক্যাথলিক ধর্ম ছেড়ে প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্ম গ্রহণ করতে হয়েছে। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তাদের ঘরে এসেছে দুই সন্তান। কিন্তু এত দিনের সংসারেও তাদের সুুখী দম্পতির তকমা জুটল না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

রানির পাশে আমায় কবর দিও না: ডেনমার্কের প্রিন্স

আপডেট সময় ০৪:১৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ডেনমার্কের প্রিন্স হেনরিক ঘোষণা দিয়েছেন যে, তার স্ত্রী রানি মার্গ্রেথের কবরের পাশে তিনি সমাহিত হতে চান না। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, স্বামী হিসেবে তাকে রানি সমান মর্যাদা দেননি এবং এ কারণে তিনি অসুুুখী। ১৯৬৭ সালে মার্গ্রেথকে বিয়ে করেন হেনরিক। তখন তার নাম রাখা প্রিন্স কনসর্ট। কিন্তু তিনি বারবারই বলেছেন যে, তিনি রাজা কনসর্ট নামে পরিচিত হতে চান। রাজপ্রাসাদই হেনরিকের এ অভিপ্রায়ের কথা প্রকাশ করেছে।

প্রাসাদের মুখপাত্র লেনে ব্যালেভি বলেছেন, এটা গোপন করার কিছু নেই যে ড্যানিশ রাজতন্ত্র প্রিন্স হেনরিককে যে উপাধি দিয়েছে এবং তাকে যে ভূমিকা পালনের সুযোগ দেয়া হয়েছে তাতে তিনি অসুখী ছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার অসন্তোষ পুঞ্জীভূত হয়েছে। স্ত্রীর তাকে সমান চোখে না দেখায়, তিনি যে উপাধি চেয়েছিলেন এবং যে ভূমিকা রাখার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন রানি তা পূরণ না করায় তার পাশে কবর না নেয়ার যে ইচ্ছা প্রিন্স হেনরিক করেছেন তা খুব স্বাভাবিক পরিণতি।

ব্যালেভি বলেছেন, হেনরিকের এ সিদ্ধান্তও রানি মেনে নিয়েছেন। প্রিন্স হেনরিক গত বছর অবসর নিয়েছেন এবং উপাধি ত্যাগ করেছেন। তার বয়স এখন ৮৩ বছর। অবসরে যাওয়ার পর থেকে তিনি খুব কমই সরকারি অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছেন। তিনি ফ্রান্সের একটি বেসরকারি আঙুর বাগানে বেশিরভাগ সময় কাটাচ্ছেন। তবে সরকারিভাবে তারা এখনও বিবাহিত এবং একই ছাদের নিচে বাস করছেন।

ডেনমার্কে ঐতিহ্যগতভাবে স্বামী রাজা হওয়ার পর রাজকুমারী রানির আসনে বসেন। আশা করা হয় রানির পাশেই প্রিন্সের কবর হবে। লন্ডনে কূটনীতিকের দায়িত্ব পালনকালে ১৯৩৪ সালে তৎকালীন ক্রাউন প্রিন্সেস মার্গ্রেথের সঙ্গে সম্পর্ক হয় হেনরিকের। এখন মার্গ্রেথের বয়স ৭৭ বছর। ২০০৫ সালে হেনরিক এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ডেনমার্ক লিঙ্গ সমতার দেশ। কিন্তু সেখানেই একজন তার স্বামীকে তার চেয়ে ছোট মনে করেন। এটা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে কী বার্তা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, সন্তানের সমান মর্যাদাও তাকে দেননি রানি। রানি মারা গেলে কোথায় সমাহিত করা হবে তা ইতিমধ্যেই ঠিক করে রাখা হয়েছে। হেনরিকের জন্ম ফ্রান্সে। মার্গ্রেথকে বিয়ের করার জন্য তাকে বাবা-মায়ের দেয়া নামটিও বাদ দিতে হয়। ছাড়তে হয় ফরাসি নাগরিকত্ব।

এছাড়া ক্যাথলিক ধর্ম ছেড়ে প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্ম গ্রহণ করতে হয়েছে। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তাদের ঘরে এসেছে দুই সন্তান। কিন্তু এত দিনের সংসারেও তাদের সুুখী দম্পতির তকমা জুটল না।