ঢাকা ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘আবরার ফাহাদ’ নামে হল নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব: শিক্ষামন্ত্রী সীমান্তে বিজিবি এখন সাহস ফিরে পেয়েছে: রাশেদ খান জনবান্ধব নয় গরিবের ওপর চাপানো বাজেট:সংসদে রফিকুল ইসলাম খান বুয়েটকে বিশ্বমানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে: মাহদী আমিন সাবেক এমপি নুর মোহাম্মদ আটক যেপথে গেছেন শেখ হাসিনা, সেপথে যাবেন তারেক রহমান: মামুনুল হক চাঁদাবাজির সাজা এখন মুচলেকা: সংসদে জামায়াতের টিপ্পনি কক্সবাজার যাওয়ার পথে রেস্টুরেন্টে ফেলে যাওয়া শিশু ফিরে পেল পাকিস্তানি পরিবার ঢাকা-কুয়ালালামপুর কৌশলগত অংশীদারিত্ব নতুন উচ্চতায় বদির অনুপস্থিতিতে মাদকের ‘দায়িত্বে’ কে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলেন গয়েশ্বর

শনাক্ত হয়নি স্বামীর মরদেহ, স্ত্রীর দাফন সম্পন্ন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নেপালে ইউএস-বাংলা বিমান দুর্ঘটনায় নিহত আক্তারা বেগমের মরদেহ রাজশাহীতে দাফন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে রাজশাহী মহানগরীর গোরহাঙ্গা গোরস্তান মসজিদের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হন তিনি।নিহত আক্তারা নগরীর উপশহর এলাকার নজরুল ইসলামের স্ত্রী।এ দুর্ঘটনায় স্বামী নজরুল ইসলামও নিহত হয়েছেন। তবে তার মরদেহ শনাক্ত না হওয়ায় এখনও দেশে আসেনি।

জানা যায়, সোমবার আক্তারা বেগমের মরদেহ ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় স্বজনদের দেখার জন্য। এর পর মঙ্গলবার সকালে মরদেহ রাজশাহী আনা হয়।

সকাল ৯টা ২০ মিনিটে তার মরদেহ উপশহর ক্রীড়া সংঘের মাঠে পৌঁছায়। এখানে তার শেষ জানাজায় মানুষের ঢল নামে। রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ এ জানাজায় অংশ নেন। স্বজনদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে। সবাই কফিন ছুঁয়ে শেষ বিদায় জানান তাকে।

জানাজায় রাজশাহী সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি লিয়াকত আলী লিকুসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন।

আক্তারা বেগমের জামাতা অ্যাডভোকেট ইমরান আলী জানান, তার শাশুড়ির মরদেহ দেশে এলেও শ্বশুর নজরুল ইসলামের মরদেহ শনাক্ত হওয়া নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। তাই প্রথম দফায় মরদেহ পাঠায়নি নেপাল সরকার। কবে পাঠাবে তাও তারা নিশ্চিত নন।

মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য রাষ্ট্রের সহযোগিতা কামনা করেন ইমরান আলী।

নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় রাজশাহীর তিন দম্পতিসহ মোট সাতজন ছিলেন। তাদের মধ্যে ছয়জনই নিহত হয়েছেন। নিহত ছয়জনের মধ্যে সোমবার পাঁচজনের মরদেহ দেশে আসে। এর মধ্যে কেবল আক্তারা বেগমের মরদেহ দাফনের জন্য রাজশাহী নিয়ে যাওয়া হয়। বাকি চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ ঢাকার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

রাজশাহীর নওদাপাড়া এলাকার গোলাম কিবরিয়ার নিউইয়র্ক প্রবাসী মেয়ে বিলকিস আরা মিতু, শিরোইল এলাকার বেগম হুরুন নাহার ওরফে বিলকিস বানু ও তার স্বামী হাসান ইমামকে ঢাকায় দাফন করা হয়েছে। আর রুয়েট শিক্ষক এমরানা কবির হাসির স্বামী রকিবুল হাসানের মরদেহ দাফন করা হয়েছে তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বাগুটিয়া গ্রামে। শিক্ষক হাসিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেপাল থেকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

গত ১২ মার্চ নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণকালে বিধ্বস্ত হয় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট। এতে নিহত হন ৫১ জন। তাদের মধ্যে ২৬ বাংলাদেশি। ময়নাতদন্ত সাপেক্ষে এদের মধ্যে ২৩ জনের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। অবশিষ্ট তিন মরদেহ শনাক্ত করারও প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘আবরার ফাহাদ’ নামে হল নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব: শিক্ষামন্ত্রী

শনাক্ত হয়নি স্বামীর মরদেহ, স্ত্রীর দাফন সম্পন্ন

আপডেট সময় ০৫:০৩:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নেপালে ইউএস-বাংলা বিমান দুর্ঘটনায় নিহত আক্তারা বেগমের মরদেহ রাজশাহীতে দাফন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে রাজশাহী মহানগরীর গোরহাঙ্গা গোরস্তান মসজিদের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হন তিনি।নিহত আক্তারা নগরীর উপশহর এলাকার নজরুল ইসলামের স্ত্রী।এ দুর্ঘটনায় স্বামী নজরুল ইসলামও নিহত হয়েছেন। তবে তার মরদেহ শনাক্ত না হওয়ায় এখনও দেশে আসেনি।

জানা যায়, সোমবার আক্তারা বেগমের মরদেহ ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় স্বজনদের দেখার জন্য। এর পর মঙ্গলবার সকালে মরদেহ রাজশাহী আনা হয়।

সকাল ৯টা ২০ মিনিটে তার মরদেহ উপশহর ক্রীড়া সংঘের মাঠে পৌঁছায়। এখানে তার শেষ জানাজায় মানুষের ঢল নামে। রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ এ জানাজায় অংশ নেন। স্বজনদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে। সবাই কফিন ছুঁয়ে শেষ বিদায় জানান তাকে।

জানাজায় রাজশাহী সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি লিয়াকত আলী লিকুসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন।

আক্তারা বেগমের জামাতা অ্যাডভোকেট ইমরান আলী জানান, তার শাশুড়ির মরদেহ দেশে এলেও শ্বশুর নজরুল ইসলামের মরদেহ শনাক্ত হওয়া নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। তাই প্রথম দফায় মরদেহ পাঠায়নি নেপাল সরকার। কবে পাঠাবে তাও তারা নিশ্চিত নন।

মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য রাষ্ট্রের সহযোগিতা কামনা করেন ইমরান আলী।

নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় রাজশাহীর তিন দম্পতিসহ মোট সাতজন ছিলেন। তাদের মধ্যে ছয়জনই নিহত হয়েছেন। নিহত ছয়জনের মধ্যে সোমবার পাঁচজনের মরদেহ দেশে আসে। এর মধ্যে কেবল আক্তারা বেগমের মরদেহ দাফনের জন্য রাজশাহী নিয়ে যাওয়া হয়। বাকি চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ ঢাকার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

রাজশাহীর নওদাপাড়া এলাকার গোলাম কিবরিয়ার নিউইয়র্ক প্রবাসী মেয়ে বিলকিস আরা মিতু, শিরোইল এলাকার বেগম হুরুন নাহার ওরফে বিলকিস বানু ও তার স্বামী হাসান ইমামকে ঢাকায় দাফন করা হয়েছে। আর রুয়েট শিক্ষক এমরানা কবির হাসির স্বামী রকিবুল হাসানের মরদেহ দাফন করা হয়েছে তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বাগুটিয়া গ্রামে। শিক্ষক হাসিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেপাল থেকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

গত ১২ মার্চ নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণকালে বিধ্বস্ত হয় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট। এতে নিহত হন ৫১ জন। তাদের মধ্যে ২৬ বাংলাদেশি। ময়নাতদন্ত সাপেক্ষে এদের মধ্যে ২৩ জনের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। অবশিষ্ট তিন মরদেহ শনাক্ত করারও প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।