অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনের বাইরে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের সদস্য আতিকুর রহমান (২৮) নিজের বুকে গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় করা মামলায় আদালতে পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। তবে আতিকুরের স্ত্রী পুলিশের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, তাঁর স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে।
গত ২৬ মে রাতে গণভবনের উত্তর ফটকে জামে মসজিদের পাশে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় আতিকুর রহমান গুলিবিদ্ধ হন। রাত দেড়টার দিকে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় গঠিত পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটালিয়নের (এসপিবিএন-২) নায়েক ছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আতিকুরের ব্যবহৃত চায়নিজ রাইফেল ও একটি গুলি জব্দ করে। পরে ওই রাইফেল ও গুলি ব্যালিস্টিক পরীক্ষার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় করা অপমৃত্যুর মামলা তদন্ত করে থানার পুলিশ। মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মোহা. আবদুল আলীম মাহমুদকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। গত ২৪ জুলাই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ।
অপমৃত্যু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিনহাজুল ইসলাম বলেন, প্রায় দুই মাস তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এসপিবিএনের সদস্য আতিকুর রহমান গণভবনের বাইরে কর্তব্যরত অবস্থায় তাঁর কাছে থাকা চায়নিজ রাইফেল বুকে ঠেকিয়ে গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আতিকুর রহমানের মৃত্যুতে কারও সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় এ ঘটনায় করা অপমৃত্যুর মামলায় গত ২৪ জুলাই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। আতিকুরের পারিবারিক সমস্যা ছিল। তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ থেকে পাঠানো আতিকুরের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ বলা হয়েছে, ‘সুইসাইডাল ইন ন্যাচার’। এ ছাড়া সিআইডির ব্যালিস্টিক পরীক্ষার প্রতিবেদনে বলা হয়, আতিকুরের ব্যবহৃত চায়নিজ রাইফেল থেকে গুলি বেরিয়েছে এবং সেই গুলি তাঁর চায়নিজ রাইফেলেরই।
তবে আতিকুরকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে গত রোববার তাঁর স্ত্রী আয়েশা আক্তার বলেন, ‘গত ২৬ মে আমাকে আতিকুর তাঁর পাঞ্জাবি ও ট্রাউজার ধুয়ে রাখার কথা বলে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানের ভাড়া বাসা থেকে গণভবনের বাইরে ডিউটিতে যান। বলেছিলেন, রাতে বাসায় ফিরে ওই পাঞ্জাবি পরে নামাজ পড়বেন। ডিউটিতে থাকাকালে চার দফায় আমার সঙ্গে তাঁর (আতিকুর) এক ঘণ্টার মতো ফোনে কথা হয়। প্রতিদিনের মতো সেদিনও আতিকুর আমার ও মেয়ের খোঁজখবর নেন। দেড় বছরের মেয়ে ছিল তাঁর কলিজার টুকরা। মেয়ে বড় হলে কীভাবে তার পড়াশোনা করাবেন, তা নিয়ে তিনি সব সময় ভাবতেন। স্বামী ও সন্তান নিয়ে আমার সুখের সংসার চলছিল। তখন তাঁর রাগ কিংবা টেনশন ছিল না। তাহলে তিনি বুকে গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করবেন কেন? কেউ আমার স্বামীকে হত্যা করেছে।’
আয়েশা আক্তার বলেন, মেয়েকে নিয়ে তিনি তাঁর বাবার বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়ায় অনেক কষ্টে আছেন। এসপিবিএন থেকে তাঁর এতিম সন্তানের জন্য ১ লাখ টাকা দিলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন ৫০ হাজার টাকা রেখে দেন। ধারদেনা দেওয়ার পর তাঁর হাতে এখন আর টাকা নেই। কেউ দয়া করে টাকা দিলে সেই টাকা দিয়ে মেয়ের জন্য দুধ কেনেন।ঘটনার পর আতিকুরের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান বলেছিলেন, আতিকুর স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে সুখী ছিলেন। আতিকুর কেন মারা গেলেন, তা তাঁরা বুঝতে পারছেন না।
তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ২৬ মে রাত ৯টা থেকে ১টা পর্যন্ত গণভবনের উত্তর ফটকে জামে মসজিদের পাশে আতিকুর দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর সঙ্গে কর্তব্যরত এসপিবিএনের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাঁটাহাঁটি করে দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও আতিকুর সেদিন নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক আবদুল আলীম মাহমুদ বলেন, বিষণ্নতায় ভুগে আতিকুর আত্মহত্যা করেছেন বলে কমিটির তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। কমিটি সম্প্রতি পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কমিটি এসপিবিএনের সদস্যদের মধ্যে কারা বিষণ্নতা ও সমস্যায় ভুগছেন, তা চিহ্নিত করে সমাধানে পদক্ষেপ নিতে সুপারিশ করেছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























