অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
৫০ হাজার টাকার অভাবে জুলমত মিয়াকে হয়ত আর পঙ্গু হতে হচ্ছে না। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে পঙ্গু হতে বসা হত দরিদ্র মানুষটির দুর্দশার খবরে সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন ১১ জন। আর এই টাকায় পায়ে অস্ত্রোপচার হয়েছে।
জুলমত এখন হাসপাতালের বিছানায়। আরও কয়েক মাস শুয়ে বসে থাকতে হবে হাঁটার শক্তি অর্জনে। ভ্যান চালিয়ে আট সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণ চালানো মানুষটি এই সময়ে কী খাওয়াবেন তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে? স্ত্রী কন্যাকে? স্বামী পরিত্যাক্তা বোনকে?
হাসপাতাল শয্যায় অনিশ্চয়তা নিয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন অসম্ভব পরিশ্রমী মানুষটি। আপাতত পঙ্গু জীবন থেকে বাঁচার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু জীবনের চাকা কি থেমে যাবে তার?
‘পঞ্চাশ হাজার টাকার অভাবে পঙ্গু হতে বসেছেন জুলমত’ শিরোনামে মঙ্গলবার দৈনিক আকাশে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। জুলমত মিয়া মির্জাপুর পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ড বাওয়ার কুমারজানী গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে।
এই খবর প্রকাশ হওয়ার পর পর পাঁচ জন জুলমতের চিকিৎসার জন্য ৩৪ হাজার টাকা অনুদান দেন। শুক্রবার এগিয়ে এসেছেন আরও ছয় জন। আগের ৩৩ হাজার টাকার সঙ্গে তাদের ৩৪ হাজার টাকা মিলিয়ে এখন অবধি অনুদান মিলেছে ৬৭ হাজার টাকা।
এই অনুদানের টাকায় ইতিমধ্যে জুলমতের ভাঙা পায়ে সফল অস্ত্রোপচার শেষ হয়েছে।
মির্জাপুর বাজারের বাওয়ার রোডে অবস্থিত দেওয়ান অর্থোপেডিক হাসপাতালের জুলমতের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসক মেহেদী হাসান জানান, জুলমতের পায়ের হাড় কয়েকটি খণ্ড হয়ে গিয়েছিল। সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্ভব হয়েছে। কয়েক মাস চিকিৎসাধীন থাকলে তিনি আবার দাঁড়াতে পারবেন।
জুলমতের বাবা নুরু মিয়া দীর্ঘ দেড় যুগের বেশি সময় ধরে বাওয়ার কুমারজানী গ্রামে বসবাস করছেন। তাদের কোনো জমিজমা নেই। অন্যের জায়গায় থাকে আট সদস্যের পরিবারটি।
শারীরিক অক্ষমতার কারণে নুরু মিয়া কোন কাজকর্ম করতে পারেন না। ফলে পুরো পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব পড়ে তার একমাত্র ছেলে জুলমত মিয়ার ওপর। দুর্ঘটনার পর খাওয়া পড়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন জুলমতের বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী, একমাত্র শিশু সন্তান, স্বামী পরিত্যাক্তা বোন ও দুই ভাগিনা।
সোমবার সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর বাইপাসে ডিম বোঝাই ট্রলিভ্যান নিয়ে পার হওয়ার সময় একটি কাভার্ড ভ্যান জুলমতকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এ দুর্ঘটনায় তার টলি ভেঙে খণ্ড বিখণ্ড হয় এবং পায়ে ও শরীরে গুরুতর আঘাত পান জুলমত ও বাবুর আলী নামে অপর এক দিনমজুর।
হাসপাতালে নিয়ে এক্সরে করার পর দেখা যায় জুলমতের ডান পায়ের হাড় ভেঙে কয়েকটি খণ্ড হয়েছে। কিন্ত টাকার অভাবে তার অস্ত্রোপচার বন্ধ হয়ে ছিল।
এই সংবাদ প্রকাশের পর তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তায় এগিয়ে আসেন মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও চীনের প্রাদেশিক শহর হংকং শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ লিটন, মির্জাপুর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক শামীম আল মামুন, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা, মির্জাপুর উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের তেলিনা গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম রুদ্র ও পৌর সদরের বাওয়ার কুমারজানী গ্রামের প্রবাসী ফারহান আলী।
শুক্রবার আরও সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসেন টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ সদস্য মোস্তফা চৌধুরী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি আব্দুল মোমেন, মির্জাপুর উপজেলা আজগানা ইউনিয়নের বেলতৈল গ্রামের আব্দুস ছামাদ, বাওয়ার কুমারজানী গ্রামের প্রবাসী সাইরুল ইসলাম, শাফিকুল ইসলাম, ও শরিফুল ইসলাম।
এর পাশাপাশি জুলমতের বোন সেলিনা ও তার দুই শিশু সন্তানের জন্য বাড়ি করতে সরকারি খাস জমি বরাদ্দের আশ্বাস দিয়েছেন মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজগর হোসেন।
সহায়তাকারীদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন জুলমতের বৃদ্ধ বাবা নুরু মিয়া ও পরিবারের সদস্যরা। সেই সঙ্গে তাদের আয়ের একটি বন্দোবস্ত এবং সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার ব্যবস্থা করে দেয়ার অনুরোধ করেছেন তারা।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























