ঢাকা ০২:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

যুক্তিসংগত সময়ে খালেদার কারাদণ্ডের রায়ের কপি দেওয়া হবে: আইনমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের রায়ের অনুলিপি (কপি) যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যেই দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। তিনি আরো বলেন, আদালত থেকে রায়ের কপি দেওয়া হচ্ছে না বলে বিএনপির আইনজীবীরা যে অভিযোগ করছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

আজ শুক্রবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এতিম শিশুদের মধ্যে কম্বল বিতরণ ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ বিতরণের সময় আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমি গতকাল শুনেছি যে রায়ের কপি নিয়ে এজলাসে তাঁরা (খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা) জোর করার মতো অবস্থা তৈরি করেছেন, কখন রায়ের কপি দেওয়া হবে। উনারা কোনো আইনকানুন মানেন না বলেই এমনটা করছেন। রায়ের কপি যখন বিজ্ঞ আদালত তৈরি করবেন, তখন দেবেন। এর সঙ্গে সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। সে ক্ষেত্রে ৬৩২ পাতার রায় যুক্তিসংগতভাবে যতটুকু সময় লাগে, ততটুকু সময়ের মধ্যে দেবে।’

আনিসুল হক আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠন এতিমের টাকা মারে না। তাদের টাকা মেরে বড়লোক হয় না আর লন্ডনে গিয়ে পড়াশোনা করে না। আমরা এতিমের সঙ্গে থাকি। যারা এতিম, তারা আমাদের সন্তান।’

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনএ) হাসিনা ইসলাম, উপজেলা চেয়ারম্যান আনিসুল হক ভূইয়া, মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) অ্যাডভোকেট রাশেদ কায়সার জীবন, পৌরসভা মেয়র এমরান উদ্দিন জুয়েল ও উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মনির হোসেন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করেন বিশেষ আদালতের বিচারক ডা. মো. আখতারুজ্জামান। রায়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এঁদের মধ্যে তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান পলাতক।

রায়ের পর থেকে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলছেন, তারা রায়ের অনুলিপি হাতে পেলে জামিন আবেদন করবেন। এ ছাড়া আজ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকারের নির্দেশে রায়ের সত্যায়িত কপি দেওয়া হচ্ছে না।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন-আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তিসংগত সময়ে খালেদার কারাদণ্ডের রায়ের কপি দেওয়া হবে: আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৫:০১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের রায়ের অনুলিপি (কপি) যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যেই দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। তিনি আরো বলেন, আদালত থেকে রায়ের কপি দেওয়া হচ্ছে না বলে বিএনপির আইনজীবীরা যে অভিযোগ করছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

আজ শুক্রবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এতিম শিশুদের মধ্যে কম্বল বিতরণ ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ বিতরণের সময় আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমি গতকাল শুনেছি যে রায়ের কপি নিয়ে এজলাসে তাঁরা (খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা) জোর করার মতো অবস্থা তৈরি করেছেন, কখন রায়ের কপি দেওয়া হবে। উনারা কোনো আইনকানুন মানেন না বলেই এমনটা করছেন। রায়ের কপি যখন বিজ্ঞ আদালত তৈরি করবেন, তখন দেবেন। এর সঙ্গে সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। সে ক্ষেত্রে ৬৩২ পাতার রায় যুক্তিসংগতভাবে যতটুকু সময় লাগে, ততটুকু সময়ের মধ্যে দেবে।’

আনিসুল হক আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠন এতিমের টাকা মারে না। তাদের টাকা মেরে বড়লোক হয় না আর লন্ডনে গিয়ে পড়াশোনা করে না। আমরা এতিমের সঙ্গে থাকি। যারা এতিম, তারা আমাদের সন্তান।’

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনএ) হাসিনা ইসলাম, উপজেলা চেয়ারম্যান আনিসুল হক ভূইয়া, মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) অ্যাডভোকেট রাশেদ কায়সার জীবন, পৌরসভা মেয়র এমরান উদ্দিন জুয়েল ও উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মনির হোসেন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করেন বিশেষ আদালতের বিচারক ডা. মো. আখতারুজ্জামান। রায়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এঁদের মধ্যে তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান পলাতক।

রায়ের পর থেকে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলছেন, তারা রায়ের অনুলিপি হাতে পেলে জামিন আবেদন করবেন। এ ছাড়া আজ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকারের নির্দেশে রায়ের সত্যায়িত কপি দেওয়া হচ্ছে না।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন-আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।