ঢাকা ০৯:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায় পটুয়াখালীতে দুই বান্ধবীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ধর্ষকের মা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জরুরি নির্দেশনা শিশু পানিতে পড়লেই বাজবে সাইরেন, কল যাবে ফোনে,দাবি ভোলার তরুণ উদ্ভাবকএর আমেরিকার উস্কানিতে ইরানে বিক্ষোভ : মাসুদ পেজেশকিয়ান আমার মনোনয়ন বাতিল করার কোনো কারণ ছিল না: মাহমুদুর রহমান মান্না ব্রিটিশ সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিলেন ইলন মাস্ক ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনে বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে না : শেখ বশিরউদ্দীন

জানালা ভেঙে বাবাকে ফোন, অপহৃত ২ বোন উদ্ধার

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দিনাজপুর শহর থেকে দুই বোন কাকলী (১২) ও আমিনাকে (৪) অপহরণ করা হয় ২২ জানুয়ারি। তাদের আটকে রাখা হয় জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের রাজারামপুর চৌধুরীপাড়া গ্রামে।

সোমবার সকালে অপহৃত কাকলী তাদের আটক করে রাখা ঘরের জানালা ভেঙে পালিয়ে যায়। পরে সে একজনের মোবাইল দিয়ে তার বাবাকে ফোন করলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। দুপুরে পুলিশ অপহৃত দুই বোনকে উদ্ধার করে।

দুপুরে ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের রাজারামপুর চৌধুরীপাড়া গ্রাম থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। এ সময় সায়েরা বেগম ও ইতি বেগম নামে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে এজাহারভুক্ত চার আসামিকেও আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ২২ জানুয়ারি দুপুরে দিনাজপুর শহরের কসবা ফকিরপাড়া এলাকার কামরুল ইসলামের দুই শিশুকন্যা কাকলী ও আমিনা বাসার পাশে খেলা করতে যায়। সেখান থেকে তারা নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ওই দিনই পরিবারের পক্ষ থেকে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি এবং পরবর্তী সময়ে ২৪ জানুয়ারি চারজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহার নামীয় আসামি লিটন, জান্নাতুল ফেরদৌস, রোখসানা ও নাজমা বেগমকে আটক করে। দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নওয়াবুদ রহমান জানান, শিশু দুটি তাদের বাবার কাছে মোবাইল করলে সেই নম্বর ট্রাকিং করে কাকলী ও অমেনাকে উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় সায়রাকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বলেন, তার বোন ইতি বেগম ওই শিশু দুটিকে রেখে গেছেন। তাদের অনেকবার বাড়ির ঠিকানা জানতে চাইলেও তারা বলেনি তাই আমি কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি নাই। তারপর থেকে তারা এখানেই আছে।

এদিকে উপজেলার পশ্চিম গৌরীপাড়া গড়ইসলামপুর এন্তাজ আলীর ভাড়া বাড়িতে বসবাসরত সায়রার বোন ইতির সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, তিনি ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের সেবিকার বাসায় কাজ করেন। এক সপ্তাহ আগে কাজ শেষে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এক রিকশাচালক ওই বাচ্চা দুটোকে কাজে রাখার কথা বলে আমার কাছে রেখে যায়।

রিকশাচালক বলেন ইতিকে জানায়, শিশু দুটি এতিম তাদের এখানে কেউ নেই। ইতি তার বাড়িতে দুই দিন রাখার পর বাসায় থাকার জায়গা না থাকায় তিনি শিশু দুটিকে তার বোনের বাড়ি রাজারামপুর চৌধুরীপাড়ায় রেখে আসেন।

এ ব্যাপারে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার হামিদুল আলম জানান, শিশু দুটি অপহরণ না অন্যকিছু তা তদন্ত করেই বলা যাবে। তবে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের পর অপরাধীদের রেহাই দেয়া হবে না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কী কারণে ভাঙছে তাহসান-রোজার সংসার

জানালা ভেঙে বাবাকে ফোন, অপহৃত ২ বোন উদ্ধার

আপডেট সময় ১২:৪৭:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দিনাজপুর শহর থেকে দুই বোন কাকলী (১২) ও আমিনাকে (৪) অপহরণ করা হয় ২২ জানুয়ারি। তাদের আটকে রাখা হয় জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের রাজারামপুর চৌধুরীপাড়া গ্রামে।

সোমবার সকালে অপহৃত কাকলী তাদের আটক করে রাখা ঘরের জানালা ভেঙে পালিয়ে যায়। পরে সে একজনের মোবাইল দিয়ে তার বাবাকে ফোন করলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। দুপুরে পুলিশ অপহৃত দুই বোনকে উদ্ধার করে।

দুপুরে ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের রাজারামপুর চৌধুরীপাড়া গ্রাম থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। এ সময় সায়েরা বেগম ও ইতি বেগম নামে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে এজাহারভুক্ত চার আসামিকেও আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ২২ জানুয়ারি দুপুরে দিনাজপুর শহরের কসবা ফকিরপাড়া এলাকার কামরুল ইসলামের দুই শিশুকন্যা কাকলী ও আমিনা বাসার পাশে খেলা করতে যায়। সেখান থেকে তারা নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ওই দিনই পরিবারের পক্ষ থেকে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি এবং পরবর্তী সময়ে ২৪ জানুয়ারি চারজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহার নামীয় আসামি লিটন, জান্নাতুল ফেরদৌস, রোখসানা ও নাজমা বেগমকে আটক করে। দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নওয়াবুদ রহমান জানান, শিশু দুটি তাদের বাবার কাছে মোবাইল করলে সেই নম্বর ট্রাকিং করে কাকলী ও অমেনাকে উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় সায়রাকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বলেন, তার বোন ইতি বেগম ওই শিশু দুটিকে রেখে গেছেন। তাদের অনেকবার বাড়ির ঠিকানা জানতে চাইলেও তারা বলেনি তাই আমি কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি নাই। তারপর থেকে তারা এখানেই আছে।

এদিকে উপজেলার পশ্চিম গৌরীপাড়া গড়ইসলামপুর এন্তাজ আলীর ভাড়া বাড়িতে বসবাসরত সায়রার বোন ইতির সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, তিনি ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের সেবিকার বাসায় কাজ করেন। এক সপ্তাহ আগে কাজ শেষে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এক রিকশাচালক ওই বাচ্চা দুটোকে কাজে রাখার কথা বলে আমার কাছে রেখে যায়।

রিকশাচালক বলেন ইতিকে জানায়, শিশু দুটি এতিম তাদের এখানে কেউ নেই। ইতি তার বাড়িতে দুই দিন রাখার পর বাসায় থাকার জায়গা না থাকায় তিনি শিশু দুটিকে তার বোনের বাড়ি রাজারামপুর চৌধুরীপাড়ায় রেখে আসেন।

এ ব্যাপারে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার হামিদুল আলম জানান, শিশু দুটি অপহরণ না অন্যকিছু তা তদন্ত করেই বলা যাবে। তবে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের পর অপরাধীদের রেহাই দেয়া হবে না।