অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা শহরের তিনটি নামি বেসরকারি হাসপাতালে শিশুসহ তিনটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। প্রতি ক্ষেত্রেই চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ। যার জেরে শহরের তিন প্রান্তে দেখা দেয় বিক্ষোভ।
মুকুন্দপুর আমরি, অ্যাপোলো এবং উডল্যান্ডস। ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে মৃতদের পরিবারগুলি। যদিও গাফিলতি মানতে নারাজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষগুলি। জ্বর নিয়ে গত সোমবার কামালগাজির বাসিন্দা আড়াই বছরের ঐত্রী দে-কে মুকুন্দপুরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরিবারের দাবি, শিশুটি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছিল। বুধবার সকালে তাকে দুটি ইঞ্জেকশন দেয়া হয়। এরপরই আচমকা আড়াই বছরের ঐত্রীর মৃত্যু হয় বলে দাবি আত্মীয়দের। কী ইঞ্জেকশন দেয়া হয়েছিল জানতে চাইলে, জবাব দিতে রাজি হয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিক্ষুব্ধ পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখান। পরে যাদবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করে মৃতের পরিবার।
গত ১৫ জানুয়ারি ফ্লাইওভারে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন বছর ৩৪-এর গৌতম পাল। প্রথমে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছিল লিলুয়ার বাসিন্দা গৌতমকে। পরে স্থানান্তরিত করা হয় উডল্যান্ডসে।
পরিবারের দাবি, ভর্তির সময়ই ৫০ হাজার রুপি নেয়া হয়। চিকিৎসাও শুরু হয়। মঙ্গলবার রাত আটটা নাগাদ বাড়িতে ফোন করে হাসপাতাল জানায়, গৌতমের অবস্থার অবনতি হয়েছে। রাত সাড়ে দশটায় মৃত্যু হয় তার। মৃত্যুর কারণ জানায়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে, মৃতের পরিবার আলিপুর ও বেনিয়াপুকুর থানায় দুটি অভিযোগ দায়ের করেছে।
অ্যাপোলো হাসপাতালের বিরুদ্ধেও আবার চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর দেড় ঘণ্টা ফেলে রাখা হয় রোগীকে। সে কারণেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি আত্মীয়দের।
কসবার বাসিন্দা বছর ৫৪-র ওই ব্যক্তির নাম অলোক দাস। রাজাবাজার সায়েন্স কলেজের কর্মী ওই ব্যক্তি শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। পরিবার ফুলবাগান থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।যদিও অ্যাপোলো কর্তৃপক্ষ গাফিলতির কথা অস্বীকার করেছে।
তাদের দাবি, প্রথমেই পরিবারকে জানানো হয়েছিল হাসপাতালে কোনও বেড ফাঁকা নেই। চিকিৎসকেরা দ্রুত রোগীকে পরীক্ষাও করেন। তখনই রোগীর স্পন্দন মেলেনি বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা।
ডানকুনির বাসিন্দা সঞ্জয় রায়ের মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল হয়েছিল কলকাতা। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে অ্যাপোলোর সেই কাণ্ডের পর নড়েচড়ে বসেছিল রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরও।অ্যাপোলোর বিরুদ্ধে শুধু চিকিৎসা গাফিলতি নয়, জালিয়াতির অভিযোগও তুলেছিল মৃতের পরিবার।
ঘটনার জেরে হাসপাতালের নির্বাহীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়েছিল রূপালি বসুকে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীও শহরের সব বেসরকারি হাসপাতালের নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। হাসপাতালগুলিতে মানবিক হওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন।
কিন্তু আজ বুধবার শহরে নতুন করে তিন হাসপাতালের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালগুলির তরফে কোনও প্রতিক্রিয়াও মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে ফের এক বার প্রশ্ন উঠছে বেসরকারি হাসপাতালগুলির সেবার মান নিয়ে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























