ঢাকা ০৪:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ক্রীড়ার বিকল্প নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী যেকোনো দুর্যোগে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে: জুবাইদা রহমান নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান রিজভীর ভাইরাল ভিডিওর নারীকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি জামায়াত এমপির প্রবাসী কার্ডধারীদের ভূমি সেবা সহজ করতে ভূমিমন্ত্রীর নির্দেশ মানবতাবিরোধী অপরাধে মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ নারায়ণগঞ্জে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৮ রাজধানীতে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড সাইবার বুলিং শক্ত হাতে দমনে সরকার বদ্ধপরিকর: তথ্য উপদেষ্টা মুন্সীগঞ্জে চাচাতো ভাইকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যাচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেফতার

রাজশাহীতে পৌরসভার প্যানেল মেয়রকে পেটালেন কাউন্সিলর

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহীর তানোর পৌরসভার প্যানেল মেয়রকে বেধড়ক পিটিয়েছে এক কাউন্সিলর। মেয়রের উনুপস্থিতে পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্রে স্বাক্ষর করার কারণে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে তাকে মারপিট করা হয়।বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে পৌর সদরের চার নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও পৌর যুবদলের সভাপতি আবদুল মান্নান তাকে মারপিট করে পৌর অফিস থেকে বের করে দেন। এ ঘটনায় পৌরসভার কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শম্ভুনাথ হলদারকে সংখ্যা গরিষ্ঠভাবে প্যানেল মেয়র নির্বাচিত করা হয়। এখানে পৌর সদরের চার নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও পৌর যুবদলের সভাপতি আবদুল মান্নানের সমর্থন ছিল না। ফলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে পৌরসভার বিভিন্ন সভা-সেমিনার ও লোকসমাজে তাকে বিভিন্নভাবে অপমান অপদস্ত করে আসছিলেন।এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার পৌর মেয়র পরিষদে অনুপস্থিত থাকায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর করা নিয়ে প্যানেল মেয়র শম্ভুনাথের সঙ্গে বিতর্কের একপর্যায়ে, কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে চেয়ারের বাতা দিয়ে পেটাতে পেটাতে অফিস থেকে বের করে দেন কাউন্সিলর আবদুল মান্নান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কাউন্সিলর জানান, সবার মতামতের ভিত্তিতেই প্যানেল মেয়র করা হয় শম্ভুনাথকে। কিন্তু মান্নান এটা মানতে নারাজ। যার ফলে মেয়রের অনুপস্থিতিতে পরিষদের কাজে প্যানেল মেয়রকে বাধা দেয়া হয়। এনিয়ে চলে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব। এর আগেও প্যানেল মেয়র শম্ভুনাথকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে অফিস থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল।কাউন্সিলররা আরো জানান, বেপরোয়া কাউন্সিলর মান্নান প্রতিনিয়তই কারো না কারো সঙ্গে গোলমাল করে চলেছেন। কয়েকদিন আগে এক কর্মচারীকে পেটানোর জন্য তেড়ে যান। কাউন্সিলর মান্নানের এমন আচরণে মেয়রও ক্ষুব্ধ। কিন্তু তার আপন খালাতো বড়ভাই হবার সুবাদে কিছু বলতে পারেন না তিনি। ফলে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন কাউন্সিলর মান্নান।

জানতে চাইলে কাউন্সিলর আবদুল মান্নান জানান, সব কাউন্সিলর তাকে এক নম্বর প্যানেল মেয়র করতে চাই। কিন্তু শম্ভুনাথ মেয়রকে ম্যানেজ করে প্যানেল মেয়র সেজেছেন। এসব নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। তবে মারপিটের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।প্যানেল মেয়র শম্ভুনাথ হলদার ভীত হয়ে এ প্রতিবেদককে জানান, কাউন্সিলর মান্নান আমাকে পৌর অফিসে যেতে নিষেধ করেছেন। গেলে না কি পুনরায় আমাকে মারপিট করা হবে। কাউন্সিলর মান্নানের বাড়ি সদরে। কিন্তু আমার বাড়ি পৌরসভার শেষ সীমানায়। এছাড়া আমি সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক। এজন্য মান্নানের এতো দাপট।

এ বিষয়ে তানোর পৌরসভার মেয়র মিজানুর রহমান মিজান বলেছেন, আমি পৌরসভার কাজে এলাকার বাইরে রয়েছি। বিষয়টি এমন হয়ে থাকলে উভয়কে নিয়ে বসে সমাধান করা হবে বলে জানান মেয়র।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ক্রীড়ার বিকল্প নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

রাজশাহীতে পৌরসভার প্যানেল মেয়রকে পেটালেন কাউন্সিলর

আপডেট সময় ০১:১৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ জুলাই ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহীর তানোর পৌরসভার প্যানেল মেয়রকে বেধড়ক পিটিয়েছে এক কাউন্সিলর। মেয়রের উনুপস্থিতে পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্রে স্বাক্ষর করার কারণে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে তাকে মারপিট করা হয়।বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে পৌর সদরের চার নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও পৌর যুবদলের সভাপতি আবদুল মান্নান তাকে মারপিট করে পৌর অফিস থেকে বের করে দেন। এ ঘটনায় পৌরসভার কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শম্ভুনাথ হলদারকে সংখ্যা গরিষ্ঠভাবে প্যানেল মেয়র নির্বাচিত করা হয়। এখানে পৌর সদরের চার নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও পৌর যুবদলের সভাপতি আবদুল মান্নানের সমর্থন ছিল না। ফলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে পৌরসভার বিভিন্ন সভা-সেমিনার ও লোকসমাজে তাকে বিভিন্নভাবে অপমান অপদস্ত করে আসছিলেন।এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার পৌর মেয়র পরিষদে অনুপস্থিত থাকায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর করা নিয়ে প্যানেল মেয়র শম্ভুনাথের সঙ্গে বিতর্কের একপর্যায়ে, কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে চেয়ারের বাতা দিয়ে পেটাতে পেটাতে অফিস থেকে বের করে দেন কাউন্সিলর আবদুল মান্নান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কাউন্সিলর জানান, সবার মতামতের ভিত্তিতেই প্যানেল মেয়র করা হয় শম্ভুনাথকে। কিন্তু মান্নান এটা মানতে নারাজ। যার ফলে মেয়রের অনুপস্থিতিতে পরিষদের কাজে প্যানেল মেয়রকে বাধা দেয়া হয়। এনিয়ে চলে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব। এর আগেও প্যানেল মেয়র শম্ভুনাথকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে অফিস থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল।কাউন্সিলররা আরো জানান, বেপরোয়া কাউন্সিলর মান্নান প্রতিনিয়তই কারো না কারো সঙ্গে গোলমাল করে চলেছেন। কয়েকদিন আগে এক কর্মচারীকে পেটানোর জন্য তেড়ে যান। কাউন্সিলর মান্নানের এমন আচরণে মেয়রও ক্ষুব্ধ। কিন্তু তার আপন খালাতো বড়ভাই হবার সুবাদে কিছু বলতে পারেন না তিনি। ফলে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন কাউন্সিলর মান্নান।

জানতে চাইলে কাউন্সিলর আবদুল মান্নান জানান, সব কাউন্সিলর তাকে এক নম্বর প্যানেল মেয়র করতে চাই। কিন্তু শম্ভুনাথ মেয়রকে ম্যানেজ করে প্যানেল মেয়র সেজেছেন। এসব নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। তবে মারপিটের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।প্যানেল মেয়র শম্ভুনাথ হলদার ভীত হয়ে এ প্রতিবেদককে জানান, কাউন্সিলর মান্নান আমাকে পৌর অফিসে যেতে নিষেধ করেছেন। গেলে না কি পুনরায় আমাকে মারপিট করা হবে। কাউন্সিলর মান্নানের বাড়ি সদরে। কিন্তু আমার বাড়ি পৌরসভার শেষ সীমানায়। এছাড়া আমি সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক। এজন্য মান্নানের এতো দাপট।

এ বিষয়ে তানোর পৌরসভার মেয়র মিজানুর রহমান মিজান বলেছেন, আমি পৌরসভার কাজে এলাকার বাইরে রয়েছি। বিষয়টি এমন হয়ে থাকলে উভয়কে নিয়ে বসে সমাধান করা হবে বলে জানান মেয়র।