ঢাকা ১১:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

৩৫ বছর পর সৌদিতে সিনেমা প্রদর্শিত

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

রক্ষণশীল দেশ সৌদি আরবে দীর্ঘ ৩৫ বছর সিনেমা প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা ছিল। তবে রোববার প্রথমবারের সেখানে একটি সিনেমা প্রদর্শন করা হয়। আরব নিউজ জানাচ্ছে, শিশুদের জন্য সিনেমা হলে একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়। খবর আরব নিউজের।

দেশটিতে সাম্প্রতিক যে সংস্কার চলছে এরই অংশ হিসেবে সিনেমা হলে এই চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হলো। এর আগে কনসার্ট ও কমেডি শোতে অংশগ্রহণ, মেয়েদের গাড়ি চালাতে দেয়াসহ নতুন করে সিনেমা হলগুলোতে চলচ্চিত্র দেখার অনুমতি দিয়েছে সরকার। তবে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলো যেন সৌদি আরবের নৈতিক মূল্যবোধের বাইরে না যায় সেদিকেও খেয়াল রাখা হবে। আগামী মার্চ মাসের শুরুতেই প্রথম স্থায়ী সিনেমা হল চালু হবে।

বর্তমানে সরকার জেদ্দায় কিছু অস্থায়ী সিনেমা হলে প্রজেক্টর, লাল গালিচা ও একটি পপকর্ন মেশিন দিয়ে সহযোগিতা করছে। সপ্তাহব্যাপী এই চলচ্চিত্র প্রদর্শন আয়োজন করেছে ‘সিনেমা ৭০’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মামদোহ সেলিম বলেন, সিনেমা হল বানানোর জন্য এখন পর্যন্ত আমাদের হাতে পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই। আমরা চেষ্টা করছি বিকল্প কোনো স্থানে অস্থায়ী সিনেমা হল বানানোর। গত বছরের ১১ ডিসেম্বরে সিনেমা প্রদর্শনের আইন পাশ হওয়ার প্রেক্ষিতে এবং মূল সিনেমা শুরু করার লক্ষ্যেই প্রথমে শিশুদের জন্য অ্যানিমেটেড সিনেমা মুক্তি দিচ্ছি।

১৯৮০ সালের শুরুর দিকে ধর্মীয় নেতাদের চাপের কারণে সৌদি আরবে সিনেমা হলে গিয়ে চলচ্চিত্র দেখা এবং পুরুষ ও নারীর সঙ্গে অবাধ মেলামেশাকে নিরুৎসাহিত করা হয়। কিন্তু ৩২ বছর বয়সী সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দেশের অর্থনীতির আকার আরো বড় করতে এবং তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে ওইসব বিধিনিষেধ তুলে নিচ্ছেন।

রোববার ‘দ্য ইমোজি’সিনেমা প্রদর্শিত হয় এই অস্থায়ী হলে। স্বপরিবারে সিনেমা দেখে আসার পর ২৮ বছর বয়সী সুলতান আল ওতাইবি বলেন, সৌদির নাগরিকরা এখন ঘরে বসে থেকে চলচ্চিত্র দেখার চেয়ে সিনেমা হলে গিয়ে দেখতে পেরে অনেক খুশি। এটি আমাদের জন্য খুবই ভালো হবে এবং প্রতি সপ্তাহের একঘেয়েমি কাজ থেকে কিছুটা মুক্তি মিলবে।

আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ২ হাজার পর্দা ও তিনশটি হল নিয়ে একটি সিনেমা শিল্প গড়ে তুলবে সৌদি সরকার। যা দেশের অর্থনীতিতে ৯০ বিলিয়ন রিয়েল ও ৩০ হাজার লোকের জন্য স্থায়ী কর্মক্ষেত্র তৈরিতে অবদান রাখবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মেট্রোরেলসহ ৩ প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে অর্থায়ন চাইল বাংলাদেশ

৩৫ বছর পর সৌদিতে সিনেমা প্রদর্শিত

আপডেট সময় ০৭:০৬:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

রক্ষণশীল দেশ সৌদি আরবে দীর্ঘ ৩৫ বছর সিনেমা প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা ছিল। তবে রোববার প্রথমবারের সেখানে একটি সিনেমা প্রদর্শন করা হয়। আরব নিউজ জানাচ্ছে, শিশুদের জন্য সিনেমা হলে একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়। খবর আরব নিউজের।

দেশটিতে সাম্প্রতিক যে সংস্কার চলছে এরই অংশ হিসেবে সিনেমা হলে এই চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হলো। এর আগে কনসার্ট ও কমেডি শোতে অংশগ্রহণ, মেয়েদের গাড়ি চালাতে দেয়াসহ নতুন করে সিনেমা হলগুলোতে চলচ্চিত্র দেখার অনুমতি দিয়েছে সরকার। তবে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলো যেন সৌদি আরবের নৈতিক মূল্যবোধের বাইরে না যায় সেদিকেও খেয়াল রাখা হবে। আগামী মার্চ মাসের শুরুতেই প্রথম স্থায়ী সিনেমা হল চালু হবে।

বর্তমানে সরকার জেদ্দায় কিছু অস্থায়ী সিনেমা হলে প্রজেক্টর, লাল গালিচা ও একটি পপকর্ন মেশিন দিয়ে সহযোগিতা করছে। সপ্তাহব্যাপী এই চলচ্চিত্র প্রদর্শন আয়োজন করেছে ‘সিনেমা ৭০’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মামদোহ সেলিম বলেন, সিনেমা হল বানানোর জন্য এখন পর্যন্ত আমাদের হাতে পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই। আমরা চেষ্টা করছি বিকল্প কোনো স্থানে অস্থায়ী সিনেমা হল বানানোর। গত বছরের ১১ ডিসেম্বরে সিনেমা প্রদর্শনের আইন পাশ হওয়ার প্রেক্ষিতে এবং মূল সিনেমা শুরু করার লক্ষ্যেই প্রথমে শিশুদের জন্য অ্যানিমেটেড সিনেমা মুক্তি দিচ্ছি।

১৯৮০ সালের শুরুর দিকে ধর্মীয় নেতাদের চাপের কারণে সৌদি আরবে সিনেমা হলে গিয়ে চলচ্চিত্র দেখা এবং পুরুষ ও নারীর সঙ্গে অবাধ মেলামেশাকে নিরুৎসাহিত করা হয়। কিন্তু ৩২ বছর বয়সী সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দেশের অর্থনীতির আকার আরো বড় করতে এবং তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে ওইসব বিধিনিষেধ তুলে নিচ্ছেন।

রোববার ‘দ্য ইমোজি’সিনেমা প্রদর্শিত হয় এই অস্থায়ী হলে। স্বপরিবারে সিনেমা দেখে আসার পর ২৮ বছর বয়সী সুলতান আল ওতাইবি বলেন, সৌদির নাগরিকরা এখন ঘরে বসে থেকে চলচ্চিত্র দেখার চেয়ে সিনেমা হলে গিয়ে দেখতে পেরে অনেক খুশি। এটি আমাদের জন্য খুবই ভালো হবে এবং প্রতি সপ্তাহের একঘেয়েমি কাজ থেকে কিছুটা মুক্তি মিলবে।

আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ২ হাজার পর্দা ও তিনশটি হল নিয়ে একটি সিনেমা শিল্প গড়ে তুলবে সৌদি সরকার। যা দেশের অর্থনীতিতে ৯০ বিলিয়ন রিয়েল ও ৩০ হাজার লোকের জন্য স্থায়ী কর্মক্ষেত্র তৈরিতে অবদান রাখবে।