ঢাকা ০৮:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

চলতি মৌসুমে ৬ শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর

চলতি শীত মৌসুমে বাংলাদেশে ছয়টি পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে দুই থেকে তিনটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এসব তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সময় তাপমাত্রা কমে ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় বজ্রসহ দমকা ও ঝোড়ো হাওয়াও বয়ে যায়।

১ নভেম্বর প্রকাশিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস অনুযায়ী, নভেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে মোট চার থেকে ছয়টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়তে পারে দেশ। এর মধ্যে মৃদু শৈত্যপ্রবাহে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে।

তাপমাত্রার পাশাপাশি শীতে কুয়াশার দাপটও বাড়বে। রাতের শেষভাগ থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে, যা বিশেষ করে নদ-নদী অববাহিকায় বেশি প্রভাব ফেলবে। ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান কমে আসবে, ফলে তাপমাত্রা তুলনামূলক সহনীয় থাকলেও শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হবে।

আগামী তিন মাসের আবহাওয়ায় বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে চারটি লঘুচাপ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে এক থেকে দুটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। একই সময়ে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে বিভাগভেদে বৃষ্টির তারতম্য থাকবে; ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও খুলনায় স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর ও বরিশাল বিভাগে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নভেম্বর মাসে মাটির আর্দ্রতা ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

চলতি বছরের অক্টোবরে স্বাভাবিকের তুলনায় ৬৮ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ৯ অক্টোবর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায়ের পর বঙ্গোপসাগরে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছিল, যার একটি ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এ রূপ নেয়। ঘূর্ণিঝড়টি পরে শক্তিশালী হয়ে ২৮ অক্টোবর ভারতের অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানে। পরে ঘূর্ণিঝড়টি প্রবল ও অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে ২৮ অক্টোবর ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করে।

গত মাসে ২ অক্টোবর সিলেটের শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বোচ্চ দৈনিক বৃষ্টিপাত ৬৪ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়। তাপমাত্রার বিষয়ে অধিদপ্তর জানায়, অক্টোবর মাসে সিলেটে সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল। অন্যদিকে মাসের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২৭ অক্টোবর তেঁতুলিয়ায় রেকর্ড করা হয়। এছাড়া অক্টোবর মাসে গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। সিলেটে ১৭ অক্টোবর ওই মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই পূর্বাভাস তৈরিতে আধুনিক জলবায়ু মডেল, বায়ুমণ্ডলের স্তর বিশ্লেষণ, এল-নিনো ও লা-নিনার পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেলদুয়ারে সেতুর অভাবে তিন ইউনিয়নের মানুষের চরম দুর্ভোগ

চলতি মৌসুমে ৬ শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর

আপডেট সময় ০৭:৫০:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

চলতি শীত মৌসুমে বাংলাদেশে ছয়টি পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে দুই থেকে তিনটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এসব তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সময় তাপমাত্রা কমে ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় বজ্রসহ দমকা ও ঝোড়ো হাওয়াও বয়ে যায়।

১ নভেম্বর প্রকাশিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস অনুযায়ী, নভেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে মোট চার থেকে ছয়টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়তে পারে দেশ। এর মধ্যে মৃদু শৈত্যপ্রবাহে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে।

তাপমাত্রার পাশাপাশি শীতে কুয়াশার দাপটও বাড়বে। রাতের শেষভাগ থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে, যা বিশেষ করে নদ-নদী অববাহিকায় বেশি প্রভাব ফেলবে। ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান কমে আসবে, ফলে তাপমাত্রা তুলনামূলক সহনীয় থাকলেও শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হবে।

আগামী তিন মাসের আবহাওয়ায় বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে চারটি লঘুচাপ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে এক থেকে দুটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। একই সময়ে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে বিভাগভেদে বৃষ্টির তারতম্য থাকবে; ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও খুলনায় স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর ও বরিশাল বিভাগে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নভেম্বর মাসে মাটির আর্দ্রতা ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

চলতি বছরের অক্টোবরে স্বাভাবিকের তুলনায় ৬৮ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ৯ অক্টোবর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায়ের পর বঙ্গোপসাগরে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছিল, যার একটি ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এ রূপ নেয়। ঘূর্ণিঝড়টি পরে শক্তিশালী হয়ে ২৮ অক্টোবর ভারতের অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানে। পরে ঘূর্ণিঝড়টি প্রবল ও অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে ২৮ অক্টোবর ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করে।

গত মাসে ২ অক্টোবর সিলেটের শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বোচ্চ দৈনিক বৃষ্টিপাত ৬৪ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়। তাপমাত্রার বিষয়ে অধিদপ্তর জানায়, অক্টোবর মাসে সিলেটে সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল। অন্যদিকে মাসের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২৭ অক্টোবর তেঁতুলিয়ায় রেকর্ড করা হয়। এছাড়া অক্টোবর মাসে গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। সিলেটে ১৭ অক্টোবর ওই মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই পূর্বাভাস তৈরিতে আধুনিক জলবায়ু মডেল, বায়ুমণ্ডলের স্তর বিশ্লেষণ, এল-নিনো ও লা-নিনার পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে।