ঢাকা ০৬:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশের পাশে থাকতে চায় চীন: মাহদী আমিন মুক্তিযোদ্ধা ভাতা জুলাইযোদ্ধাদের চেয়ে বেশি করার প্রস্তাব ফজলুর রহমানের ভেনেজুয়েলার পর জাপানে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প সাভারে পাঁচ মাসের মধ্যে মাদক নির্মূল হবে: এমপি সালাউদ্দিন গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতায় বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ‘সরকার ৪ মাসে দেশকে আরও এক লাখ কোটি টাকার ঋণের জালে বেঁধেছে’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী পদত্যাগের কথা ভাবলেন না কেন, সংসদে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই খেলাপি ঋণে ব্যাংক খাত সম্পূর্ণ বেহাল: সংসদে রেজা কিবরিয়া ১ টাকার দুর্নীতি বের করতে পারলে ইস্তফা দেব, সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ

সুন্দরগঞ্জে শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত, তিনজনের মৃত্যু

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে প্রচণ্ড শীতে জনজীবনে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে এই পর্যন্ত উপজেলায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় গত ১২ দিন ধরে বইছে হিমেল হাওয়া, ঘন কুয়াশায় বাড়ছে শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব। এতে শিশু, বৃদ্ধ, গৃহ-পালিত পশু-পাখি, শ্রম ও পেশাজীবীদের মধ্যে চরম দূরাবস্থা দেখা দিয়েছে।

শীতজনিত কারণে কোল্ড ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, সর্দি-জ্বর, শ্বাসকষ্টসহ নানান রোগে আক্রান্ত রোগীদের ভিড় লেগেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে।

ঠান্ডায় আক্রান্ত হয়ে বেলকা ইউনিয়নের বেলকা গ্রামের ফরিদুল ইসলামের মেয়ে মজিদপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী তানজিনা আক্তার তৃষা, ছাপড়হাটী ইউনিয়নের উত্তর মরুয়াদহ গ্রামের আব্দুর রহমান (৭০) ও একই গ্রামের বঙ্কিম চন্দ্র (৬০) নামে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

ডাক্তার না থাকায় বন্ধ রয়েছে ১০ শয্যা বিশিষ্ট ছাপড়হাটী ইউনিয়ন (শোভাগঞ্জ) উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র। ঘন কুয়াশার ফলে দিনে লাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করলেও সন্ধ্যার পরেই তা বন্ধ হয়ে যায়। সন্ধ্যার পরপরই হাট-বাজারগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতা শূন্য হওয়ায় ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। কোনো কোনো হাট-বাজারের দোকানদাররা বেচাকেনার আশায় দোকানের বাইরে বা রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে তাপ গ্রহণ করেন।

শীতের তীব্রতায় বোরো ধানের চারা, শাক-সব্জিসহ রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় ভুগছেন চাষিরা। উপজেলা পরিসংখ্যান অফিস জানিয়েছে, পৌরসভাসহ ১৫ ইউনিয়নে সববয়সের প্রায় পৌনে ছয় লাখ জনগোষ্ঠী রয়েছে। এরমধ্যে নদীমাতৃক ছয় ইউনিয়নসহ পুরো জনগোষ্ঠীর প্রায় ৬৫ শতাংশই নিম্ন মধ্যবৃত্ত, দরিদ্র ও অতি-দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুন্নবী সরকার দৈনিক আকাশকে জানান, চলতি শীত মৌসুমে এ পর্যন্ত নয় হাজার ৮০০ কম্বল বরাদ্দ এসেছে। তা যথারীতি শীতার্তদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। আরও কমপক্ষে ১০ হাজার কম্বল বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন দপ্তরে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত ও যথাযথভাবেই শীতার্ত মানুষদের মাঝে পৌঁছে দেবেন বলে জানান তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশের পাশে থাকতে চায় চীন: মাহদী আমিন

সুন্দরগঞ্জে শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত, তিনজনের মৃত্যু

আপডেট সময় ০১:৪৭:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে প্রচণ্ড শীতে জনজীবনে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে এই পর্যন্ত উপজেলায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় গত ১২ দিন ধরে বইছে হিমেল হাওয়া, ঘন কুয়াশায় বাড়ছে শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব। এতে শিশু, বৃদ্ধ, গৃহ-পালিত পশু-পাখি, শ্রম ও পেশাজীবীদের মধ্যে চরম দূরাবস্থা দেখা দিয়েছে।

শীতজনিত কারণে কোল্ড ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, সর্দি-জ্বর, শ্বাসকষ্টসহ নানান রোগে আক্রান্ত রোগীদের ভিড় লেগেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে।

ঠান্ডায় আক্রান্ত হয়ে বেলকা ইউনিয়নের বেলকা গ্রামের ফরিদুল ইসলামের মেয়ে মজিদপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী তানজিনা আক্তার তৃষা, ছাপড়হাটী ইউনিয়নের উত্তর মরুয়াদহ গ্রামের আব্দুর রহমান (৭০) ও একই গ্রামের বঙ্কিম চন্দ্র (৬০) নামে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

ডাক্তার না থাকায় বন্ধ রয়েছে ১০ শয্যা বিশিষ্ট ছাপড়হাটী ইউনিয়ন (শোভাগঞ্জ) উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র। ঘন কুয়াশার ফলে দিনে লাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করলেও সন্ধ্যার পরেই তা বন্ধ হয়ে যায়। সন্ধ্যার পরপরই হাট-বাজারগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতা শূন্য হওয়ায় ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। কোনো কোনো হাট-বাজারের দোকানদাররা বেচাকেনার আশায় দোকানের বাইরে বা রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে তাপ গ্রহণ করেন।

শীতের তীব্রতায় বোরো ধানের চারা, শাক-সব্জিসহ রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় ভুগছেন চাষিরা। উপজেলা পরিসংখ্যান অফিস জানিয়েছে, পৌরসভাসহ ১৫ ইউনিয়নে সববয়সের প্রায় পৌনে ছয় লাখ জনগোষ্ঠী রয়েছে। এরমধ্যে নদীমাতৃক ছয় ইউনিয়নসহ পুরো জনগোষ্ঠীর প্রায় ৬৫ শতাংশই নিম্ন মধ্যবৃত্ত, দরিদ্র ও অতি-দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুন্নবী সরকার দৈনিক আকাশকে জানান, চলতি শীত মৌসুমে এ পর্যন্ত নয় হাজার ৮০০ কম্বল বরাদ্দ এসেছে। তা যথারীতি শীতার্তদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। আরও কমপক্ষে ১০ হাজার কম্বল বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন দপ্তরে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত ও যথাযথভাবেই শীতার্ত মানুষদের মাঝে পৌঁছে দেবেন বলে জানান তিনি।