ঢাকা ০৯:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায় পটুয়াখালীতে দুই বান্ধবীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ধর্ষকের মা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জরুরি নির্দেশনা শিশু পানিতে পড়লেই বাজবে সাইরেন, কল যাবে ফোনে,দাবি ভোলার তরুণ উদ্ভাবকএর আমেরিকার উস্কানিতে ইরানে বিক্ষোভ : মাসুদ পেজেশকিয়ান আমার মনোনয়ন বাতিল করার কোনো কারণ ছিল না: মাহমুদুর রহমান মান্না ব্রিটিশ সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিলেন ইলন মাস্ক ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনে বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে না : শেখ বশিরউদ্দীন

বাঁচানো গেল না সেই বুড়ো শিশুকে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মাগুরায় বিরল প্রজেরিয়া রোগে আক্রান্ত বৃদ্ধের মতো দেখতে সাড়ে পাঁচ বছর বয়সী বায়েজিদ সোমবার সন্ধ্যায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে।

বায়েজিদের বাবা লাবলু শিকদার জানান, প্রস্রাব বন্ধ হয়ে পেট ফুলে যাওয়ায় রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বায়েজিদকে মাগুরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার অবস্থার আরও অবনতি হলে ভোরে তাকে ফরিদপুর মেডিকেলে নেওয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সে মারা যায়। সকালে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার খালিয়ায় নিজ গ্রামে বায়েজিদের দাফন সম্পন্ন হবে।

বায়েজিদকে নিয়ে গত বছরের মে মাসে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে মাগুরা সদর হাসপাতালে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে পাঠায়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে পাঠানো হয়। অনেকেই শিশু বায়েজিদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার হাত বাড়ান। কিন্তু দেড় মাস চিকিৎসা শেষে শরীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় তাকে বাড়ি ফেরত আনা হয়।

বাড়ি ফেরার পর থেকে সে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় সে মাগুরা সদর হাসপাতালের মেডিসিন চিকিৎসক দেবাশীষ বিশ্বাসের অধীনে চিকিৎসাধীন ছিল।

দেবাশীষ বিশ্বাস জানান, পুরুষাঙ্গের চামড়া বেড়ে তার প্রস্রাবের রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এ অবস্থায় তার অপারেশন প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বায়েজিদ যেহেতু জন্মগতভাবে জটিল প্রজেরিয়া রোগে আক্রান্ত, তাই তার জন্য এ অপারেশন ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রজেরিয়া রিসার্চ ফাউন্ডেশনের মতে সাধারণত প্রতি ৪০ থেকে ৮০ লাখ শিশুর মধ্যে একজন প্রজেরিয়া আক্রান্ত হয়। এ পর্যন্ত বিশ্বে দুইশ’ প্রজেরিয়া আক্রান্ত শিশু পাওয়া গেছে। জিনগত এ রোগে বৃদ্ধের মতো শরীরের চামড়া ঝুলে যায়, চুল পেকে যাওয়াসহ দাঁতও পড়ে যেতে পারে শিশুদের। তাদের বেশিরভাগই হৃদরোগে আক্রান্ত হয় এবং ১৬ বছর বয়সের আগেই মৃত্যুবরণ করে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শার্টের বুকে ‘কাপুর’ লিখে আলোচনায় আলিয়া ভাট

বাঁচানো গেল না সেই বুড়ো শিশুকে

আপডেট সময় ০২:১৫:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মাগুরায় বিরল প্রজেরিয়া রোগে আক্রান্ত বৃদ্ধের মতো দেখতে সাড়ে পাঁচ বছর বয়সী বায়েজিদ সোমবার সন্ধ্যায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে।

বায়েজিদের বাবা লাবলু শিকদার জানান, প্রস্রাব বন্ধ হয়ে পেট ফুলে যাওয়ায় রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বায়েজিদকে মাগুরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার অবস্থার আরও অবনতি হলে ভোরে তাকে ফরিদপুর মেডিকেলে নেওয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সে মারা যায়। সকালে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার খালিয়ায় নিজ গ্রামে বায়েজিদের দাফন সম্পন্ন হবে।

বায়েজিদকে নিয়ে গত বছরের মে মাসে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে মাগুরা সদর হাসপাতালে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে পাঠায়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে পাঠানো হয়। অনেকেই শিশু বায়েজিদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার হাত বাড়ান। কিন্তু দেড় মাস চিকিৎসা শেষে শরীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় তাকে বাড়ি ফেরত আনা হয়।

বাড়ি ফেরার পর থেকে সে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় সে মাগুরা সদর হাসপাতালের মেডিসিন চিকিৎসক দেবাশীষ বিশ্বাসের অধীনে চিকিৎসাধীন ছিল।

দেবাশীষ বিশ্বাস জানান, পুরুষাঙ্গের চামড়া বেড়ে তার প্রস্রাবের রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এ অবস্থায় তার অপারেশন প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বায়েজিদ যেহেতু জন্মগতভাবে জটিল প্রজেরিয়া রোগে আক্রান্ত, তাই তার জন্য এ অপারেশন ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রজেরিয়া রিসার্চ ফাউন্ডেশনের মতে সাধারণত প্রতি ৪০ থেকে ৮০ লাখ শিশুর মধ্যে একজন প্রজেরিয়া আক্রান্ত হয়। এ পর্যন্ত বিশ্বে দুইশ’ প্রজেরিয়া আক্রান্ত শিশু পাওয়া গেছে। জিনগত এ রোগে বৃদ্ধের মতো শরীরের চামড়া ঝুলে যায়, চুল পেকে যাওয়াসহ দাঁতও পড়ে যেতে পারে শিশুদের। তাদের বেশিরভাগই হৃদরোগে আক্রান্ত হয় এবং ১৬ বছর বয়সের আগেই মৃত্যুবরণ করে।