ঢাকা ০৫:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপত্তি থাকলে আগেই বলুন, বিল পাশের পর বলছেন আমি কিছু বুঝিলাম না:জামায়াত আমিরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপির উচিত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডগুলো ৬ মাসের মধ্যেই শেষ করে ফেলা: সামান্থা খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু এসএসসির খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা শত্রুতামূলক আচরণ না করলে হরমুজ দিয়ে মার্কিন জাহাজ চলতে পারবে: ইরান লেবাননে কোনো যুদ্ধবিরতি চলছে না, হামলা অব্যাহত থাকবে: নেতানিয়াহু বাংলা নববর্ষ উদযাপন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার ডিএমপির উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল ১৬ বছরের দুর্নীতি-লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

বাঁচানো গেল না সেই বুড়ো শিশুকে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মাগুরায় বিরল প্রজেরিয়া রোগে আক্রান্ত বৃদ্ধের মতো দেখতে সাড়ে পাঁচ বছর বয়সী বায়েজিদ সোমবার সন্ধ্যায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে।

বায়েজিদের বাবা লাবলু শিকদার জানান, প্রস্রাব বন্ধ হয়ে পেট ফুলে যাওয়ায় রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বায়েজিদকে মাগুরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার অবস্থার আরও অবনতি হলে ভোরে তাকে ফরিদপুর মেডিকেলে নেওয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সে মারা যায়। সকালে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার খালিয়ায় নিজ গ্রামে বায়েজিদের দাফন সম্পন্ন হবে।

বায়েজিদকে নিয়ে গত বছরের মে মাসে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে মাগুরা সদর হাসপাতালে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে পাঠায়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে পাঠানো হয়। অনেকেই শিশু বায়েজিদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার হাত বাড়ান। কিন্তু দেড় মাস চিকিৎসা শেষে শরীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় তাকে বাড়ি ফেরত আনা হয়।

বাড়ি ফেরার পর থেকে সে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় সে মাগুরা সদর হাসপাতালের মেডিসিন চিকিৎসক দেবাশীষ বিশ্বাসের অধীনে চিকিৎসাধীন ছিল।

দেবাশীষ বিশ্বাস জানান, পুরুষাঙ্গের চামড়া বেড়ে তার প্রস্রাবের রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এ অবস্থায় তার অপারেশন প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বায়েজিদ যেহেতু জন্মগতভাবে জটিল প্রজেরিয়া রোগে আক্রান্ত, তাই তার জন্য এ অপারেশন ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রজেরিয়া রিসার্চ ফাউন্ডেশনের মতে সাধারণত প্রতি ৪০ থেকে ৮০ লাখ শিশুর মধ্যে একজন প্রজেরিয়া আক্রান্ত হয়। এ পর্যন্ত বিশ্বে দুইশ’ প্রজেরিয়া আক্রান্ত শিশু পাওয়া গেছে। জিনগত এ রোগে বৃদ্ধের মতো শরীরের চামড়া ঝুলে যায়, চুল পেকে যাওয়াসহ দাঁতও পড়ে যেতে পারে শিশুদের। তাদের বেশিরভাগই হৃদরোগে আক্রান্ত হয় এবং ১৬ বছর বয়সের আগেই মৃত্যুবরণ করে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ: এডিবি

বাঁচানো গেল না সেই বুড়ো শিশুকে

আপডেট সময় ০২:১৫:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মাগুরায় বিরল প্রজেরিয়া রোগে আক্রান্ত বৃদ্ধের মতো দেখতে সাড়ে পাঁচ বছর বয়সী বায়েজিদ সোমবার সন্ধ্যায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে।

বায়েজিদের বাবা লাবলু শিকদার জানান, প্রস্রাব বন্ধ হয়ে পেট ফুলে যাওয়ায় রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বায়েজিদকে মাগুরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার অবস্থার আরও অবনতি হলে ভোরে তাকে ফরিদপুর মেডিকেলে নেওয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সে মারা যায়। সকালে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার খালিয়ায় নিজ গ্রামে বায়েজিদের দাফন সম্পন্ন হবে।

বায়েজিদকে নিয়ে গত বছরের মে মাসে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে মাগুরা সদর হাসপাতালে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে পাঠায়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে পাঠানো হয়। অনেকেই শিশু বায়েজিদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার হাত বাড়ান। কিন্তু দেড় মাস চিকিৎসা শেষে শরীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় তাকে বাড়ি ফেরত আনা হয়।

বাড়ি ফেরার পর থেকে সে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় সে মাগুরা সদর হাসপাতালের মেডিসিন চিকিৎসক দেবাশীষ বিশ্বাসের অধীনে চিকিৎসাধীন ছিল।

দেবাশীষ বিশ্বাস জানান, পুরুষাঙ্গের চামড়া বেড়ে তার প্রস্রাবের রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এ অবস্থায় তার অপারেশন প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বায়েজিদ যেহেতু জন্মগতভাবে জটিল প্রজেরিয়া রোগে আক্রান্ত, তাই তার জন্য এ অপারেশন ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রজেরিয়া রিসার্চ ফাউন্ডেশনের মতে সাধারণত প্রতি ৪০ থেকে ৮০ লাখ শিশুর মধ্যে একজন প্রজেরিয়া আক্রান্ত হয়। এ পর্যন্ত বিশ্বে দুইশ’ প্রজেরিয়া আক্রান্ত শিশু পাওয়া গেছে। জিনগত এ রোগে বৃদ্ধের মতো শরীরের চামড়া ঝুলে যায়, চুল পেকে যাওয়াসহ দাঁতও পড়ে যেতে পারে শিশুদের। তাদের বেশিরভাগই হৃদরোগে আক্রান্ত হয় এবং ১৬ বছর বয়সের আগেই মৃত্যুবরণ করে।