ঢাকা ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

বাংলাদেশে এইডস রোগী প্রায় ১২ হাজার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশে এইডস রোগীর সংখ্যা ১২ হাজারের কাছাকাছি (১১ হাজার ৭০০) বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। এদের মধ্যে চিহ্নিত হয়েছে সাড়ে পাঁচ হাজারের মতো। তবে এই রোগে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা জনসংখ্যার এক শতাংশ বা ১৬ লাখ। বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস পালিত হয়েছে। কিন্তু দিবসটিতে ঢাকায় সরকারি কর্মসূচি করা যায়নি। আগামী বুধবার কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মসূচি পালন করা হবে। সেদিন রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আলোচনা সভায় এইডস আক্রান্ত নতুন রোগীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ২০১৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ৭৭ হাজার ৭২৫ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে ৮৬৫ জনের মধ্যে এইচআইভি শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৩৯ জন পুরুষ, ২১৩ জন নারী, ১৩ জন তৃতীয় লিঙ্গের। ৬৩ জন রোহিঙ্গা নতুন করে এইডসে আক্রান্ত হয়েছেন বলেও জানান মন্ত্রী। সবমিলিয়ে ১৯৮৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এইচআইভিতে আক্রান্ত রোগী চিহ্নিত হয়েছে পাঁচ হাজার ৫৮৬ জন।

প্রধানত যৌনবাহিত এইচআইভি ভাইরাসের প্রভাবেই শরীরে এইডস রোগ হয়। এই রোগে আক্রান্ত হলে মৃত্যু অবধারিত। ইদানীং কিছু ওষুধ বের হলেও তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আর এই রোগীরা সামাজিকভাবেও বিচ্ছিন্ন জীবন কাটাতে বাধ্য হন। ৯০ দশকে এই রোগটির বিস্তার নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল বিশ্বজুড়ে। বাংলাদেশও এর বাইরে ছিল না।

অরক্ষিত যৌন মিলন ছাড়াও একজনের শরীর থেকে অপর জনের শরীরে রক্তের মাধ্যমেও রোগটি ছড়াতে পারে। যৌন মিলন ছাড়াও সিরিঞ্জের সুঁইয়ের মাধ্যমেও রোগটি ছড়ায়। তবে বাংলাদেশে এইডস রোগের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেনি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এইডস এর সংক্রমণ ঢাকার কিছু অঞ্চলে বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে আছে। কিছু রোহিঙ্গার শরীরে এইডস্‌ পাওয়া গেছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

নাসিম বলেন, ‘সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশকে এইডসের দিক থেকে সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ রাখতে সক্ষম হয়েছি। সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এইচআইভি বিষয়ক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছি।…এসডিজি থ্রি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে এইডস নির্মূলে সক্ষম হব বলে আশা করছি।’

স্বাস্থ্যসচিব সিরাজুল হক খান ও স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব ফয়েজ আহমদ প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশে এইডস রোগী প্রায় ১২ হাজার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় ১০:৪২:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশে এইডস রোগীর সংখ্যা ১২ হাজারের কাছাকাছি (১১ হাজার ৭০০) বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। এদের মধ্যে চিহ্নিত হয়েছে সাড়ে পাঁচ হাজারের মতো। তবে এই রোগে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা জনসংখ্যার এক শতাংশ বা ১৬ লাখ। বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস পালিত হয়েছে। কিন্তু দিবসটিতে ঢাকায় সরকারি কর্মসূচি করা যায়নি। আগামী বুধবার কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মসূচি পালন করা হবে। সেদিন রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আলোচনা সভায় এইডস আক্রান্ত নতুন রোগীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ২০১৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ৭৭ হাজার ৭২৫ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে ৮৬৫ জনের মধ্যে এইচআইভি শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৩৯ জন পুরুষ, ২১৩ জন নারী, ১৩ জন তৃতীয় লিঙ্গের। ৬৩ জন রোহিঙ্গা নতুন করে এইডসে আক্রান্ত হয়েছেন বলেও জানান মন্ত্রী। সবমিলিয়ে ১৯৮৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এইচআইভিতে আক্রান্ত রোগী চিহ্নিত হয়েছে পাঁচ হাজার ৫৮৬ জন।

প্রধানত যৌনবাহিত এইচআইভি ভাইরাসের প্রভাবেই শরীরে এইডস রোগ হয়। এই রোগে আক্রান্ত হলে মৃত্যু অবধারিত। ইদানীং কিছু ওষুধ বের হলেও তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আর এই রোগীরা সামাজিকভাবেও বিচ্ছিন্ন জীবন কাটাতে বাধ্য হন। ৯০ দশকে এই রোগটির বিস্তার নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল বিশ্বজুড়ে। বাংলাদেশও এর বাইরে ছিল না।

অরক্ষিত যৌন মিলন ছাড়াও একজনের শরীর থেকে অপর জনের শরীরে রক্তের মাধ্যমেও রোগটি ছড়াতে পারে। যৌন মিলন ছাড়াও সিরিঞ্জের সুঁইয়ের মাধ্যমেও রোগটি ছড়ায়। তবে বাংলাদেশে এইডস রোগের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেনি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এইডস এর সংক্রমণ ঢাকার কিছু অঞ্চলে বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে আছে। কিছু রোহিঙ্গার শরীরে এইডস্‌ পাওয়া গেছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

নাসিম বলেন, ‘সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশকে এইডসের দিক থেকে সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ রাখতে সক্ষম হয়েছি। সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এইচআইভি বিষয়ক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছি।…এসডিজি থ্রি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে এইডস নির্মূলে সক্ষম হব বলে আশা করছি।’

স্বাস্থ্যসচিব সিরাজুল হক খান ও স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব ফয়েজ আহমদ প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।