ঢাকা ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

মসজিদ, মাদ্রাসা বাদ দিয়ে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করুন, শাবানাকে তসলিমা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলা চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানা। শাবানা অভিনয় ছেড়েছেন ১৯৯৭ সালে। শুধু চলচ্চিত্রই নয়, দেশও ছাড়েন এই অভিনেত্রী। যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান ২০০০ সালে সর্বশেষ শাবানা যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে এসেছেন গত মে মাসে।

গত মঙ্গলবার সকালে চিত্রনায়িকা শাবানা ও তার স্বামী ওয়াহিদ সাদিকের অর্থায়নে নির্মিত মসজিদ ও কোরআন শিক্ষা কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়। এসময় স্বশরীরে উপস্থিত ছিলেন শাবানা ও তার স্বামী। তবে শাবানার মসজিদ নির্মান নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেননি বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সাম্প্রতি তিনি তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এই আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হল, “বাংলাদেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শাবানা এখন আর অভিনয় করেন না, এখন তিনি বোরখা পরেন। ইসলামের গভীর জলে শরীর মন সব ডুবিয়ে দিয়েছেন এবং মুসলমানের দেশ ত্যাগ করে ইহুদি নাসারাদের দেশ যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় একযুগ আগে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য চলে গেছেন। তবে দেশে ফিরে ক’দিন আগে দেশের মানুষের জন্য একটি মসজিদ আর কোরান শিক্ষার ইস্কুল বানিয়ে দিয়েছেন। তিনি নিশ্চিতই বেহেস্তে যেতে চান। এতকাল অভিনয় করে, পরপুরুষকে আলিঙ্গণ করে, তাদের সঙ্গে কোমর দুলিয়ে নেচে যে ‘পাপ’ কামিয়েছেন, তা মোচন করতে নামাজ রোজা তো করছেনই, হজে যাচ্ছেন, মসজিদ মাদ্রাসা বানাচ্ছেন।

টাকা থাকলে আমাদের দেশের বেহেস্তলোভী মূর্খগুলো ঠিক এই কাজই করে। মহল্লায় মহল্লায় এখন শত শত অপ্রয়োজনীয় মসজিদ। এই মসজিদগুলোর খুতবা শুনে শুনে ছেলেরা বিপথে যাচ্ছে, জিহাদি হচ্ছে, যুক্তিবাদিদের, মানববাদিদের, অমুসলিমদের, নারীদের ঘৃণা করা শিখছে। বাংলাদেশের মসজিদ মাদ্রাসাগুলোয় কী শেখানো হয়, কী হয় — তা লক্ষ রাখার জন্য কোনও সরকারি ব্যবস্থা নেই। একটা রুগ্ন, পঙ্গু, অসুস্থ, দুর্বল, বিকৃত,লোভী,স্বার্থপর প্রজন্ম তৈরি করার জন্য মসজিদ মাদ্রাসার ভূমিকা অপরিসীম।

যুক্তরাষ্ট্রে বাসই শুধু করেন শাবানা, ভালো কিছু শেখেননি ওখানে। যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ধনীদের দানের টাকায় চলে। আপনার টাকা পয়সা প্রচুর। আপনি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে দিন। বাংলাদেশে কোরান শিক্ষার ইস্কুলের অভাব নেই, অভাব বিজ্ঞান শিক্ষার ইস্কুলের। অভাব ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র, নারী স্বাধীনতা, সমানাধিকার, মানবাধিকার, ইত্যাদি ভালো জিনিস শেখার ইস্কুলের। দেশের ভালো চাইলে ছেলেদের নারীবিদ্বেষী মোল্লা আর জিহাদি জঙ্গী না বানিয়ে মানুষ বানানোর চেষ্টা করুন।”

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ায় ২৬৫ বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ ২০ জন আটক

মসজিদ, মাদ্রাসা বাদ দিয়ে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করুন, শাবানাকে তসলিমা

আপডেট সময় ০৩:৪৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জুলাই ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলা চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানা। শাবানা অভিনয় ছেড়েছেন ১৯৯৭ সালে। শুধু চলচ্চিত্রই নয়, দেশও ছাড়েন এই অভিনেত্রী। যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান ২০০০ সালে সর্বশেষ শাবানা যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে এসেছেন গত মে মাসে।

গত মঙ্গলবার সকালে চিত্রনায়িকা শাবানা ও তার স্বামী ওয়াহিদ সাদিকের অর্থায়নে নির্মিত মসজিদ ও কোরআন শিক্ষা কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়। এসময় স্বশরীরে উপস্থিত ছিলেন শাবানা ও তার স্বামী। তবে শাবানার মসজিদ নির্মান নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেননি বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সাম্প্রতি তিনি তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এই আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হল, “বাংলাদেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শাবানা এখন আর অভিনয় করেন না, এখন তিনি বোরখা পরেন। ইসলামের গভীর জলে শরীর মন সব ডুবিয়ে দিয়েছেন এবং মুসলমানের দেশ ত্যাগ করে ইহুদি নাসারাদের দেশ যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় একযুগ আগে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য চলে গেছেন। তবে দেশে ফিরে ক’দিন আগে দেশের মানুষের জন্য একটি মসজিদ আর কোরান শিক্ষার ইস্কুল বানিয়ে দিয়েছেন। তিনি নিশ্চিতই বেহেস্তে যেতে চান। এতকাল অভিনয় করে, পরপুরুষকে আলিঙ্গণ করে, তাদের সঙ্গে কোমর দুলিয়ে নেচে যে ‘পাপ’ কামিয়েছেন, তা মোচন করতে নামাজ রোজা তো করছেনই, হজে যাচ্ছেন, মসজিদ মাদ্রাসা বানাচ্ছেন।

টাকা থাকলে আমাদের দেশের বেহেস্তলোভী মূর্খগুলো ঠিক এই কাজই করে। মহল্লায় মহল্লায় এখন শত শত অপ্রয়োজনীয় মসজিদ। এই মসজিদগুলোর খুতবা শুনে শুনে ছেলেরা বিপথে যাচ্ছে, জিহাদি হচ্ছে, যুক্তিবাদিদের, মানববাদিদের, অমুসলিমদের, নারীদের ঘৃণা করা শিখছে। বাংলাদেশের মসজিদ মাদ্রাসাগুলোয় কী শেখানো হয়, কী হয় — তা লক্ষ রাখার জন্য কোনও সরকারি ব্যবস্থা নেই। একটা রুগ্ন, পঙ্গু, অসুস্থ, দুর্বল, বিকৃত,লোভী,স্বার্থপর প্রজন্ম তৈরি করার জন্য মসজিদ মাদ্রাসার ভূমিকা অপরিসীম।

যুক্তরাষ্ট্রে বাসই শুধু করেন শাবানা, ভালো কিছু শেখেননি ওখানে। যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ধনীদের দানের টাকায় চলে। আপনার টাকা পয়সা প্রচুর। আপনি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে দিন। বাংলাদেশে কোরান শিক্ষার ইস্কুলের অভাব নেই, অভাব বিজ্ঞান শিক্ষার ইস্কুলের। অভাব ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র, নারী স্বাধীনতা, সমানাধিকার, মানবাধিকার, ইত্যাদি ভালো জিনিস শেখার ইস্কুলের। দেশের ভালো চাইলে ছেলেদের নারীবিদ্বেষী মোল্লা আর জিহাদি জঙ্গী না বানিয়ে মানুষ বানানোর চেষ্টা করুন।”