ঢাকা ১২:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রুমায় দুর্গম পাড়ায় হামের উপসর্গে ১৫ দিনে ৮ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪১ মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী সারের ঘাটতি নেই, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা: কৃষিমন্ত্রী ছাত্রলীগের প্রতি মায়াকান্না দেখানো সাংবাদিকদের জড়ো করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ পক্ষপাতদুষ্ট নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে: গোলাম পরওয়ার বাংলাদেশকে ‘কম দামে’ ইউরিয়া সার দিতে চায় রাশিয়া প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে : ডিএনসিসি প্রশাসক নতুন আরেকটি সিটি করপোরেশন হচ্ছে ধর্ষকদের রক্ষাকারীকে শিক্ষামন্ত্রী বানিয়েছে মোদি সরকার: রাহুল গান্ধী

জেল এড়াতে নিজেকে কফিনবন্দি করে ভুয়া সৎকার,

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর সাজা এবং সম্ভাব্য কারাবাস থেকে বাঁচতে নিজের মৃত্যুর নাটক সাজিয়েও শেষ রক্ষা হলো না এক চীনা নাগরিকের। চীনের হুনান প্রদেশের পুলিশ সম্প্রতি এই অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে, যা বিশ্বজুড়ে অনেককেই তাজ্জব করে তুলেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সি নামের এক ব্যক্তি মদ পান করে গাড়ি চালানো অবস্থায় পুলিশের হাতে ধরা পড়েন।

পুলিশি নথিতে দেখা যায়, এর আগেও তিনি দুইবার ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন। তৃতীয়বার একই অপরাধে ধরা পড়ার পর তিনি আশঙ্কা করেন, এবার তাকে সরাসরি জেলে যেতে হবে।

জামিনে মুক্ত থাকা অবস্থায় শাস্তি এড়াতে তিনি এক জটিল পরিকল্পনা আঁকেন। নিজের ভুয়া মৃত্যু ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার নাটক সাজাতে তিনি পরিবারের সদস্যদের রাজি করান।

পরিকল্পনা অনুযায়ী তার পরিবার আগেই একটি কফিন কিনে রাখে এবং ঘরের চারপাশে ওষুধের খালি বোতল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখে। ওষুধের ওভারডোজে মৃত্যু হয়েছে প্রমাণের জন্য ওই ব্যক্তি নিজের শ্বাস চেপে রাখেন এবং শরীরের তাপমাত্রা কমাতে বিশেষ কুলিং যন্ত্র ব্যবহার করেন।

ভুয়া শেষকৃত্যের সময় তার মা ও দাদি কাপড়ে তার মুখ ঢেকে প্রতিবেশীদের জানান যে, ওষুধের প্রভাবে সির মুখ বিকৃত হয়ে গেছে। নাটক সাজানোর দিনই তাকে তড়িঘড়ি করে দাফন করার ব্যবস্থা করা হয়। কফিনটি যখন কবরে নামানো হচ্ছিল, ঠিক তখনই তিনি চতুরতার সঙ্গে চম্পট দিয়ে অন্য প্রদেশে পালিয়ে যান।

তবে এই প্রতারণা বেশিদিন টেকেনি। ঘটনার তদন্তে নেমে বেশ কিছু অসঙ্গতি খুঁজে পেয়ে পুলিশের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে।

তদন্তে দেখা যায়, রিপোর্ট করা মৃত্যুর আগেই কফিনটি কেনা হয়েছিল। তার পরিবার কোনো জরুরি অ্যাম্বুলেন্স ডাকেনি কিংবা পুলিশকেও জানায়নি। এমনকি কোনো ডেথ সার্টিফিকেট নেওয়া হয়নি এবং তার সৎকার করার কোনো দাপ্তরিক রেকর্ডও ছিল না।

পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের দেওয়া তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে ওই ব্যক্তি জীবিত আছেন।

অবশেষে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। আদালত তাকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড এবং ২০,০০০ ইউয়ান জরিমানা করেছেন।

অন্যদিকে, অপরাধ আড়াল করা এবং সত্য গোপনের অভিযোগে ওই ব্যক্তির মা ও দাদির বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রুমায় দুর্গম পাড়ায় হামের উপসর্গে ১৫ দিনে ৮ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪১

জেল এড়াতে নিজেকে কফিনবন্দি করে ভুয়া সৎকার,

আপডেট সময় ১০:৩০:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর সাজা এবং সম্ভাব্য কারাবাস থেকে বাঁচতে নিজের মৃত্যুর নাটক সাজিয়েও শেষ রক্ষা হলো না এক চীনা নাগরিকের। চীনের হুনান প্রদেশের পুলিশ সম্প্রতি এই অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে, যা বিশ্বজুড়ে অনেককেই তাজ্জব করে তুলেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সি নামের এক ব্যক্তি মদ পান করে গাড়ি চালানো অবস্থায় পুলিশের হাতে ধরা পড়েন।

পুলিশি নথিতে দেখা যায়, এর আগেও তিনি দুইবার ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন। তৃতীয়বার একই অপরাধে ধরা পড়ার পর তিনি আশঙ্কা করেন, এবার তাকে সরাসরি জেলে যেতে হবে।

জামিনে মুক্ত থাকা অবস্থায় শাস্তি এড়াতে তিনি এক জটিল পরিকল্পনা আঁকেন। নিজের ভুয়া মৃত্যু ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার নাটক সাজাতে তিনি পরিবারের সদস্যদের রাজি করান।

পরিকল্পনা অনুযায়ী তার পরিবার আগেই একটি কফিন কিনে রাখে এবং ঘরের চারপাশে ওষুধের খালি বোতল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখে। ওষুধের ওভারডোজে মৃত্যু হয়েছে প্রমাণের জন্য ওই ব্যক্তি নিজের শ্বাস চেপে রাখেন এবং শরীরের তাপমাত্রা কমাতে বিশেষ কুলিং যন্ত্র ব্যবহার করেন।

ভুয়া শেষকৃত্যের সময় তার মা ও দাদি কাপড়ে তার মুখ ঢেকে প্রতিবেশীদের জানান যে, ওষুধের প্রভাবে সির মুখ বিকৃত হয়ে গেছে। নাটক সাজানোর দিনই তাকে তড়িঘড়ি করে দাফন করার ব্যবস্থা করা হয়। কফিনটি যখন কবরে নামানো হচ্ছিল, ঠিক তখনই তিনি চতুরতার সঙ্গে চম্পট দিয়ে অন্য প্রদেশে পালিয়ে যান।

তবে এই প্রতারণা বেশিদিন টেকেনি। ঘটনার তদন্তে নেমে বেশ কিছু অসঙ্গতি খুঁজে পেয়ে পুলিশের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে।

তদন্তে দেখা যায়, রিপোর্ট করা মৃত্যুর আগেই কফিনটি কেনা হয়েছিল। তার পরিবার কোনো জরুরি অ্যাম্বুলেন্স ডাকেনি কিংবা পুলিশকেও জানায়নি। এমনকি কোনো ডেথ সার্টিফিকেট নেওয়া হয়নি এবং তার সৎকার করার কোনো দাপ্তরিক রেকর্ডও ছিল না।

পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের দেওয়া তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে ওই ব্যক্তি জীবিত আছেন।

অবশেষে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। আদালত তাকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড এবং ২০,০০০ ইউয়ান জরিমানা করেছেন।

অন্যদিকে, অপরাধ আড়াল করা এবং সত্য গোপনের অভিযোগে ওই ব্যক্তির মা ও দাদির বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।