ঢাকা ০২:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬ দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা রাষ্ট্রদূতকে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়: শামা ওবায়েদ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে

জেল এড়াতে নিজেকে কফিনবন্দি করে ভুয়া সৎকার,

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর সাজা এবং সম্ভাব্য কারাবাস থেকে বাঁচতে নিজের মৃত্যুর নাটক সাজিয়েও শেষ রক্ষা হলো না এক চীনা নাগরিকের। চীনের হুনান প্রদেশের পুলিশ সম্প্রতি এই অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে, যা বিশ্বজুড়ে অনেককেই তাজ্জব করে তুলেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সি নামের এক ব্যক্তি মদ পান করে গাড়ি চালানো অবস্থায় পুলিশের হাতে ধরা পড়েন।

পুলিশি নথিতে দেখা যায়, এর আগেও তিনি দুইবার ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন। তৃতীয়বার একই অপরাধে ধরা পড়ার পর তিনি আশঙ্কা করেন, এবার তাকে সরাসরি জেলে যেতে হবে।

জামিনে মুক্ত থাকা অবস্থায় শাস্তি এড়াতে তিনি এক জটিল পরিকল্পনা আঁকেন। নিজের ভুয়া মৃত্যু ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার নাটক সাজাতে তিনি পরিবারের সদস্যদের রাজি করান।

পরিকল্পনা অনুযায়ী তার পরিবার আগেই একটি কফিন কিনে রাখে এবং ঘরের চারপাশে ওষুধের খালি বোতল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখে। ওষুধের ওভারডোজে মৃত্যু হয়েছে প্রমাণের জন্য ওই ব্যক্তি নিজের শ্বাস চেপে রাখেন এবং শরীরের তাপমাত্রা কমাতে বিশেষ কুলিং যন্ত্র ব্যবহার করেন।

ভুয়া শেষকৃত্যের সময় তার মা ও দাদি কাপড়ে তার মুখ ঢেকে প্রতিবেশীদের জানান যে, ওষুধের প্রভাবে সির মুখ বিকৃত হয়ে গেছে। নাটক সাজানোর দিনই তাকে তড়িঘড়ি করে দাফন করার ব্যবস্থা করা হয়। কফিনটি যখন কবরে নামানো হচ্ছিল, ঠিক তখনই তিনি চতুরতার সঙ্গে চম্পট দিয়ে অন্য প্রদেশে পালিয়ে যান।

তবে এই প্রতারণা বেশিদিন টেকেনি। ঘটনার তদন্তে নেমে বেশ কিছু অসঙ্গতি খুঁজে পেয়ে পুলিশের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে।

তদন্তে দেখা যায়, রিপোর্ট করা মৃত্যুর আগেই কফিনটি কেনা হয়েছিল। তার পরিবার কোনো জরুরি অ্যাম্বুলেন্স ডাকেনি কিংবা পুলিশকেও জানায়নি। এমনকি কোনো ডেথ সার্টিফিকেট নেওয়া হয়নি এবং তার সৎকার করার কোনো দাপ্তরিক রেকর্ডও ছিল না।

পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের দেওয়া তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে ওই ব্যক্তি জীবিত আছেন।

অবশেষে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। আদালত তাকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড এবং ২০,০০০ ইউয়ান জরিমানা করেছেন।

অন্যদিকে, অপরাধ আড়াল করা এবং সত্য গোপনের অভিযোগে ওই ব্যক্তির মা ও দাদির বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

ছিনতাইয়ের হুমকির মুখে মার্কিন বিমান, মাঝআকাশ থেকে ফিরে গ্রেপ্তার যাত্রী

জেল এড়াতে নিজেকে কফিনবন্দি করে ভুয়া সৎকার,

আপডেট সময় ১০:৩০:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর সাজা এবং সম্ভাব্য কারাবাস থেকে বাঁচতে নিজের মৃত্যুর নাটক সাজিয়েও শেষ রক্ষা হলো না এক চীনা নাগরিকের। চীনের হুনান প্রদেশের পুলিশ সম্প্রতি এই অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে, যা বিশ্বজুড়ে অনেককেই তাজ্জব করে তুলেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সি নামের এক ব্যক্তি মদ পান করে গাড়ি চালানো অবস্থায় পুলিশের হাতে ধরা পড়েন।

পুলিশি নথিতে দেখা যায়, এর আগেও তিনি দুইবার ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন। তৃতীয়বার একই অপরাধে ধরা পড়ার পর তিনি আশঙ্কা করেন, এবার তাকে সরাসরি জেলে যেতে হবে।

জামিনে মুক্ত থাকা অবস্থায় শাস্তি এড়াতে তিনি এক জটিল পরিকল্পনা আঁকেন। নিজের ভুয়া মৃত্যু ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার নাটক সাজাতে তিনি পরিবারের সদস্যদের রাজি করান।

পরিকল্পনা অনুযায়ী তার পরিবার আগেই একটি কফিন কিনে রাখে এবং ঘরের চারপাশে ওষুধের খালি বোতল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখে। ওষুধের ওভারডোজে মৃত্যু হয়েছে প্রমাণের জন্য ওই ব্যক্তি নিজের শ্বাস চেপে রাখেন এবং শরীরের তাপমাত্রা কমাতে বিশেষ কুলিং যন্ত্র ব্যবহার করেন।

ভুয়া শেষকৃত্যের সময় তার মা ও দাদি কাপড়ে তার মুখ ঢেকে প্রতিবেশীদের জানান যে, ওষুধের প্রভাবে সির মুখ বিকৃত হয়ে গেছে। নাটক সাজানোর দিনই তাকে তড়িঘড়ি করে দাফন করার ব্যবস্থা করা হয়। কফিনটি যখন কবরে নামানো হচ্ছিল, ঠিক তখনই তিনি চতুরতার সঙ্গে চম্পট দিয়ে অন্য প্রদেশে পালিয়ে যান।

তবে এই প্রতারণা বেশিদিন টেকেনি। ঘটনার তদন্তে নেমে বেশ কিছু অসঙ্গতি খুঁজে পেয়ে পুলিশের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে।

তদন্তে দেখা যায়, রিপোর্ট করা মৃত্যুর আগেই কফিনটি কেনা হয়েছিল। তার পরিবার কোনো জরুরি অ্যাম্বুলেন্স ডাকেনি কিংবা পুলিশকেও জানায়নি। এমনকি কোনো ডেথ সার্টিফিকেট নেওয়া হয়নি এবং তার সৎকার করার কোনো দাপ্তরিক রেকর্ডও ছিল না।

পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের দেওয়া তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে ওই ব্যক্তি জীবিত আছেন।

অবশেষে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। আদালত তাকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড এবং ২০,০০০ ইউয়ান জরিমানা করেছেন।

অন্যদিকে, অপরাধ আড়াল করা এবং সত্য গোপনের অভিযোগে ওই ব্যক্তির মা ও দাদির বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।