ঢাকা ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ ‘আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনো দল লাগে না’ গুম হওয়া পরিবারের আর্তনাদ শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে : আলী রীয়াজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী ওসমানী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, চলছে কর্মবিরতি নির্বাচন ব্যর্থ হলে শুধু সরকার নয়, পুরো দেশবাসীকেই এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হবে : দুদু আন্দোলনের সুফল একটি দলের ঘরে নেওয়ার চেষ্টা বিফলে যাবে : ডা. জাহিদ ঢাকাকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করল রংপুর রাইডার্স খালেদা জিয়ার আদর্শই হবে আগামীর চালিকাশক্তি : খন্দকার মোশাররফ

স্ত্রীর চলে যাওয়া ঠেকাতে সৎ শিশু ছেলেকে হত্যা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে নিখোঁজ হওয়ার ২০ দিন পর তিন বছরের শিশু ফাহিমের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গাজীপুর সদর উপজেলার কড্ডা এলাকার নদীর পাড় থেকে শিশুটির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ ফাহিমের সত্বাবা সোহাগ মিয়াকে আটক করেছে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহাগ তাঁর সেছলেকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের বাড়ি চাঁদপুরের ছেঙ্গারচর থানার মাইজকান্দি এলাকায়।

পুলিশ বলছে, সোহাগ জানিয়েছে, ফাহিম তাঁর স্ত্রী ফারজানার আগের স্বামীর সন্তান। সম্প্রতি ফারজানাকে তাঁর আগের স্বামী আবার বিয়ে করে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান। ফারজানার চলে যাওয়া ঠেকাতেই তিনি গত ২৯ অক্টোবর গোপনে বাড়ি থেকে নিয়ে ফাহিমকে কড্ডা সেতুর ওপর থেকে নদীতে ফেলে দেন।

নিহতের পরিবার, পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, চার বছর আগে প্রথমে চাঁদপুরের ছেঙ্গারচর থানার মাইজকান্দি এলাকার সোহাগের সঙ্গে একই এলাকার ফারজানার বিয়ে হয়। এর মাস ছয়েক পরে ফারজানা সোহাগকে ছেড়ে একই এলাকার ময়জুদ্দিনকে বিয়ে করেন। সেই ঘরে ফাহিমের জন্ম হয়।

এর পর ময়জুদ্দিন বিদেশে চলে যান। তখন ফারজানা ময়জুদ্দিনকে ছেড়ে আবার সোহাগকে বিয়ে করেন। তখন ফাহিমের বয়স ছিল ছয় মাস। ফাহিমকে নিয়ে সোহাগ ও ফারজানা পরে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের রাখালিয়াচালা এলাকায় এসে ভাড়াবাসায় বসবাস শুরু করেন। সেখানে ফারজানা স্থানীয় লিজফ্যাশন কারখানায় চাকরি নেন। সোহাগ কিছুদিন অন্য একটি কারখানায় চাকরি করে তা ছেড়ে দেন। প্রায় এক বছর চাকরি করার পর ফারজানাও চাকরি ছেড়ে দেন।

এর মধ্যে সোহাগ জানতে পারেন যে ফারজানার আগের স্বামী ময়জুদ্দিন বিদেশ থেকে বাড়িতে চলে এসেছেন। তিনি আবার ফারজানাকে বিয়ে করতে চান। এ খবরে সোহাগ গত ২৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় গোপনে ফাহিমকে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে কড্ডা সেতুর ওপর থেকে ফেলে দেন। পরে বাড়িতে এসে সোহাগই আবার ফারজানার কাছে ফাহিমের কথা জানতে চান। তখন ফারজানাকে নিয়ে সোহাগ এদিক-সেদিক খোঁজাখুঁজির নাটক করে না পেয়ে বিষয়টি থানায় জানান।

পুলিশ জানায়, ফাহিম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা পুলিশকে জানালেও দুই-এক দিন পর সোহাগ আত্মগোপন করেন। এতে পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে মোবাইল ফোন ট্রাক করে গত শুক্রবার রাতে ঢাকার গুলিস্তান থেকে সোহাগকে আটক করে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ। পরে সোহাগের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কড্ডা সেতুর কিছুু দূরে বাইমাইল এলাকা থেকে ফাহিমের লাশ উদ্ধার করা হয়।

কালিয়াকৈর থানার এসআই আতিকুর রহমান রাসেল বলেন, ফাহিমের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ফাহিমের মা ফারজানা বাদী হয়ে সোহাগকে আসামি করে থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ

স্ত্রীর চলে যাওয়া ঠেকাতে সৎ শিশু ছেলেকে হত্যা

আপডেট সময় ১১:০০:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে নিখোঁজ হওয়ার ২০ দিন পর তিন বছরের শিশু ফাহিমের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গাজীপুর সদর উপজেলার কড্ডা এলাকার নদীর পাড় থেকে শিশুটির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ ফাহিমের সত্বাবা সোহাগ মিয়াকে আটক করেছে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহাগ তাঁর সেছলেকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের বাড়ি চাঁদপুরের ছেঙ্গারচর থানার মাইজকান্দি এলাকায়।

পুলিশ বলছে, সোহাগ জানিয়েছে, ফাহিম তাঁর স্ত্রী ফারজানার আগের স্বামীর সন্তান। সম্প্রতি ফারজানাকে তাঁর আগের স্বামী আবার বিয়ে করে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান। ফারজানার চলে যাওয়া ঠেকাতেই তিনি গত ২৯ অক্টোবর গোপনে বাড়ি থেকে নিয়ে ফাহিমকে কড্ডা সেতুর ওপর থেকে নদীতে ফেলে দেন।

নিহতের পরিবার, পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, চার বছর আগে প্রথমে চাঁদপুরের ছেঙ্গারচর থানার মাইজকান্দি এলাকার সোহাগের সঙ্গে একই এলাকার ফারজানার বিয়ে হয়। এর মাস ছয়েক পরে ফারজানা সোহাগকে ছেড়ে একই এলাকার ময়জুদ্দিনকে বিয়ে করেন। সেই ঘরে ফাহিমের জন্ম হয়।

এর পর ময়জুদ্দিন বিদেশে চলে যান। তখন ফারজানা ময়জুদ্দিনকে ছেড়ে আবার সোহাগকে বিয়ে করেন। তখন ফাহিমের বয়স ছিল ছয় মাস। ফাহিমকে নিয়ে সোহাগ ও ফারজানা পরে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের রাখালিয়াচালা এলাকায় এসে ভাড়াবাসায় বসবাস শুরু করেন। সেখানে ফারজানা স্থানীয় লিজফ্যাশন কারখানায় চাকরি নেন। সোহাগ কিছুদিন অন্য একটি কারখানায় চাকরি করে তা ছেড়ে দেন। প্রায় এক বছর চাকরি করার পর ফারজানাও চাকরি ছেড়ে দেন।

এর মধ্যে সোহাগ জানতে পারেন যে ফারজানার আগের স্বামী ময়জুদ্দিন বিদেশ থেকে বাড়িতে চলে এসেছেন। তিনি আবার ফারজানাকে বিয়ে করতে চান। এ খবরে সোহাগ গত ২৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় গোপনে ফাহিমকে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে কড্ডা সেতুর ওপর থেকে ফেলে দেন। পরে বাড়িতে এসে সোহাগই আবার ফারজানার কাছে ফাহিমের কথা জানতে চান। তখন ফারজানাকে নিয়ে সোহাগ এদিক-সেদিক খোঁজাখুঁজির নাটক করে না পেয়ে বিষয়টি থানায় জানান।

পুলিশ জানায়, ফাহিম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা পুলিশকে জানালেও দুই-এক দিন পর সোহাগ আত্মগোপন করেন। এতে পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে মোবাইল ফোন ট্রাক করে গত শুক্রবার রাতে ঢাকার গুলিস্তান থেকে সোহাগকে আটক করে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ। পরে সোহাগের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কড্ডা সেতুর কিছুু দূরে বাইমাইল এলাকা থেকে ফাহিমের লাশ উদ্ধার করা হয়।

কালিয়াকৈর থানার এসআই আতিকুর রহমান রাসেল বলেন, ফাহিমের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ফাহিমের মা ফারজানা বাদী হয়ে সোহাগকে আসামি করে থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।