ঢাকা ০৯:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায় পটুয়াখালীতে দুই বান্ধবীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ধর্ষকের মা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জরুরি নির্দেশনা শিশু পানিতে পড়লেই বাজবে সাইরেন, কল যাবে ফোনে,দাবি ভোলার তরুণ উদ্ভাবকএর আমেরিকার উস্কানিতে ইরানে বিক্ষোভ : মাসুদ পেজেশকিয়ান আমার মনোনয়ন বাতিল করার কোনো কারণ ছিল না: মাহমুদুর রহমান মান্না ব্রিটিশ সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিলেন ইলন মাস্ক ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনে বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে না : শেখ বশিরউদ্দীন

নড়াইলে মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে শামুক

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নড়াইলে মাছের ঘেরগুলোকে খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে শামুক। শামুকের ভিতরের মাংস সাদা মাছ ও চিংড়ির জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাবার হওয়ায় ঘের মালিকরা ক্রয় করছেন। অনেকে এ মৌসুমে দিনে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা আয় করছেন শামুক বিক্রি করে।

জানা গেছে, নড়াইলে চিংড়ি ও সাদা মাছের ঘের রয়েছে ৬ হাজার ৩০টি। মৎস্য চাষের সঙ্গে কমপক্ষে ১২ হাজার মানুষ জড়িত রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৩ থেকে ৪ মাস এসব মৎস্য ঘেরগুলোতে খাবারের জন্য শামুক ব্যবহার করেন ঘের মালিকরা। শামুক মাছের জন্য পুষ্টিকর খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বর্ষার কারণে বাড়ির পাশের খাল-বিল, নদী-নালা গুলোতে প্রচুর শামুক পাওয়া যায়। এসব শামুক খাল-বিল থেকে তুলে এনে অনেকে বিক্রিও করছেন।

অনেক পরিবারের সদস্যরা তাদের নিজেদের ঘেরের জন্য শামুক কুড়িয়ে ঘেরে দিচ্ছেন। প্রতিকেজি আস্ত শামুক বিক্রি হয় ৫ থেকে ৭ টাকা করে। আর শামুকের ভেতরের অংশ বের করতে এক টাকা পঞ্চাশ পয়শা থেকে দুই টাকা করে দিতে হয় কেজি প্রতি। শামুকে খোলা বিক্রি হয় প্রতি বস্তা ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। বর্ষা মৌসুমে জেলায় কমপক্ষে ২ হাজার মানুষ শামুক কুড়িয়ে বিক্রি করে থাকেন।

সদর উপজেলার ছোনখোলা গ্রামের মর্জিনা বেগম বলেন, আমাদের নিজেদের ঘেরের জন্য শামুক কুড়িয়ে এনে ভেঙ্গে মাছের ঘেরে দেই। বর্ষ মৌসুমে আমরা অন্য খাবারের চেয়ে বেশি শামুক মাছের ঘেরে দেই।

সেলিমা বেগম বলেন, আমাদের দুইটি ঘের রয়েছে একটি ১০ বিঘার আর একটি সাড়ে ৩ বিঘার বর্ষা মৌসুমে অন্যান খাবারের থেকে বেশি শামুক ঘেরে দিয়ে থাকি।

বিল থেকে শামুক কুড়িয়ে এনে বিক্রি করেন মিরাজ হোসেন তিনি বলেন, প্রতিদিন ভোর থেকে দুপুর পর্যন্তু শামুক পাওয়া যায়। যখন প্রচণ্ড গরম শুরু হয় তখন আর শামুক পাওয়া যায় না।

জাকির মিয়া ও রাকিব হোসেন বলেন, শামুক প্রতিদিন সমানভাবে পাওয়া যায়না একজন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্তু ৫০ কেজি তুলতে পারে। আমরা এগুলো বিক্রি করি প্রতিকেজি ৫ থেকে ৭ টাকা করে দিনে সাড়ে ৩ থেকে ৪’শ টাকা আয় হয়।

মির্জাপুর গ্রামের শেখ কবির হোসেন বলেন, আমাদের ৪ ভাইয়ের ৫টি ঘের রয়েছে খাল-বিল থেকে শামুক কুড়িয়ে এনে নিজেরা ভেঙ্গে ঘেরে দেই মাছের খাবারের জন্য।

তার স্ত্রী সাথী বেগম বলেন, শামুক প্রতিদিন সমানভাবে পাওয়া যায়না কখও কম কখনও বেশি। একজন একদিনে কমপক্ষে ৫০ কেজি শামুক ধরতে পারে অনেকে বেশিও ধরতে পারে।

জালাল হোসেন বলেন, আমরা বর্ষা মৌসুমে শামুক থেকে মাংস ছাড়িয়ে খোসা বিক্রি করি প্রতিবস্তা ৮০ থেকে ১০০ টাকা করে। শামুকের খোসা চুন তৈরি করার কাজে ব্যবহৃত হয়।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানাগেছে, জেলায় মাছের ঘের রয়েছে ৬ হাজার ৩০টি এর আয়তন ২ হাজার ৩শ’ ৩১ হেক্টর। জেলায় বছরে মাছের চাহিদা রয়েছে ১৫ হাজার ৯শ’ ২৪ মেট্টিকটন উৎপাদন হয় ২২ হাজার ৪শ’ ৯৫ মেট্টিকটন। চলতি বছরে মাছের উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার মেট্টিকটন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হরিপদ মণ্ডল বলেন, শামুকে প্রটিন, লিপিট, কার্বারাইডেড থাকে যা মাছের জন্য উপকারী। তাই ঘের মালিকরা এটি মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। জেলার অনেকেই এ মৌসুমে শামুক কুড়িয়ে বিক্রি করে অতিরিক্ত অর্থ আয় করে থাকেন বলেও জানান তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শার্টের বুকে ‘কাপুর’ লিখে আলোচনায় আলিয়া ভাট

নড়াইলে মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে শামুক

আপডেট সময় ০৯:৫৪:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নড়াইলে মাছের ঘেরগুলোকে খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে শামুক। শামুকের ভিতরের মাংস সাদা মাছ ও চিংড়ির জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাবার হওয়ায় ঘের মালিকরা ক্রয় করছেন। অনেকে এ মৌসুমে দিনে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা আয় করছেন শামুক বিক্রি করে।

জানা গেছে, নড়াইলে চিংড়ি ও সাদা মাছের ঘের রয়েছে ৬ হাজার ৩০টি। মৎস্য চাষের সঙ্গে কমপক্ষে ১২ হাজার মানুষ জড়িত রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৩ থেকে ৪ মাস এসব মৎস্য ঘেরগুলোতে খাবারের জন্য শামুক ব্যবহার করেন ঘের মালিকরা। শামুক মাছের জন্য পুষ্টিকর খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বর্ষার কারণে বাড়ির পাশের খাল-বিল, নদী-নালা গুলোতে প্রচুর শামুক পাওয়া যায়। এসব শামুক খাল-বিল থেকে তুলে এনে অনেকে বিক্রিও করছেন।

অনেক পরিবারের সদস্যরা তাদের নিজেদের ঘেরের জন্য শামুক কুড়িয়ে ঘেরে দিচ্ছেন। প্রতিকেজি আস্ত শামুক বিক্রি হয় ৫ থেকে ৭ টাকা করে। আর শামুকের ভেতরের অংশ বের করতে এক টাকা পঞ্চাশ পয়শা থেকে দুই টাকা করে দিতে হয় কেজি প্রতি। শামুকে খোলা বিক্রি হয় প্রতি বস্তা ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। বর্ষা মৌসুমে জেলায় কমপক্ষে ২ হাজার মানুষ শামুক কুড়িয়ে বিক্রি করে থাকেন।

সদর উপজেলার ছোনখোলা গ্রামের মর্জিনা বেগম বলেন, আমাদের নিজেদের ঘেরের জন্য শামুক কুড়িয়ে এনে ভেঙ্গে মাছের ঘেরে দেই। বর্ষ মৌসুমে আমরা অন্য খাবারের চেয়ে বেশি শামুক মাছের ঘেরে দেই।

সেলিমা বেগম বলেন, আমাদের দুইটি ঘের রয়েছে একটি ১০ বিঘার আর একটি সাড়ে ৩ বিঘার বর্ষা মৌসুমে অন্যান খাবারের থেকে বেশি শামুক ঘেরে দিয়ে থাকি।

বিল থেকে শামুক কুড়িয়ে এনে বিক্রি করেন মিরাজ হোসেন তিনি বলেন, প্রতিদিন ভোর থেকে দুপুর পর্যন্তু শামুক পাওয়া যায়। যখন প্রচণ্ড গরম শুরু হয় তখন আর শামুক পাওয়া যায় না।

জাকির মিয়া ও রাকিব হোসেন বলেন, শামুক প্রতিদিন সমানভাবে পাওয়া যায়না একজন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্তু ৫০ কেজি তুলতে পারে। আমরা এগুলো বিক্রি করি প্রতিকেজি ৫ থেকে ৭ টাকা করে দিনে সাড়ে ৩ থেকে ৪’শ টাকা আয় হয়।

মির্জাপুর গ্রামের শেখ কবির হোসেন বলেন, আমাদের ৪ ভাইয়ের ৫টি ঘের রয়েছে খাল-বিল থেকে শামুক কুড়িয়ে এনে নিজেরা ভেঙ্গে ঘেরে দেই মাছের খাবারের জন্য।

তার স্ত্রী সাথী বেগম বলেন, শামুক প্রতিদিন সমানভাবে পাওয়া যায়না কখও কম কখনও বেশি। একজন একদিনে কমপক্ষে ৫০ কেজি শামুক ধরতে পারে অনেকে বেশিও ধরতে পারে।

জালাল হোসেন বলেন, আমরা বর্ষা মৌসুমে শামুক থেকে মাংস ছাড়িয়ে খোসা বিক্রি করি প্রতিবস্তা ৮০ থেকে ১০০ টাকা করে। শামুকের খোসা চুন তৈরি করার কাজে ব্যবহৃত হয়।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানাগেছে, জেলায় মাছের ঘের রয়েছে ৬ হাজার ৩০টি এর আয়তন ২ হাজার ৩শ’ ৩১ হেক্টর। জেলায় বছরে মাছের চাহিদা রয়েছে ১৫ হাজার ৯শ’ ২৪ মেট্টিকটন উৎপাদন হয় ২২ হাজার ৪শ’ ৯৫ মেট্টিকটন। চলতি বছরে মাছের উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার মেট্টিকটন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হরিপদ মণ্ডল বলেন, শামুকে প্রটিন, লিপিট, কার্বারাইডেড থাকে যা মাছের জন্য উপকারী। তাই ঘের মালিকরা এটি মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। জেলার অনেকেই এ মৌসুমে শামুক কুড়িয়ে বিক্রি করে অতিরিক্ত অর্থ আয় করে থাকেন বলেও জানান তিনি।