ঢাকা ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

চারটি জিনিস জানুন, হবে নরমাল ডেলিভারি

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

গর্ভধারণের পর থেকেই উত্তেজনার পাশাপাশি চিন্তা ও ভয় চলে আসে। দিন যতই এগিয়ে আসে যন্ত্রণার ভয়, অজানা আতঙ্ক ততই বাড়তে থাকে। এ কারণে অনেকে অপারেশন বা সিজারিয়ানের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। নরমাল ডেলিভারির পর্যায়গুলো জানা থাকলে প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়ে যায়। জেনে নিন নরম্যাল ডেলিভারির পর্যায়গুলো। গর্ভযন্ত্রণার প্রথম ধাপকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।

প্রাথমিক পর্যায় সার্ভিক্স ধীরে ধীরে প্রসারিত হতে শুরু করে। খুব বেশি যন্ত্রণা না হলেও পিরিয়ডের সময় যে রকম খিঁচ ধরে পেটের পেশীতে সে রকম যন্ত্রণা অনুভূত হয়। কোমরের নিচের দিকে, তলপেটে ৩০-৬০ সেকেন্ড এই ব্যথা স্থায়ী হয়। ৫-২০ মিনিটের মধ্যে ব্যথা ফিরে ফিরে আসে। সকলের ক্ষেত্রে এই সময় এক থাকে না।

দ্বিতীয় পর্যায়ে একে বলা হয়ে থাকে সক্রিয় গর্ভযন্ত্রণা। এই সময় সার্ভিক্স প্রায় ১.৬ থেকে ৩ ইঞ্চি পর্যন্ত প্রসারিত হয়। কোমরের দিক থেকে পেটের দিকে আসতে থাকে ব্যথা। ৩-৮ ঘণ্টা পর্যন্ত এই ব্যথা স্থায়ী হয়।

স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞরা জানান, এই সময় গরম জলে স্নান করলে আরাম পাবেন।

তৃতীয় পর্যায়ে সার্ভিক্স ৩-৪ ইঞ্চি প্রসারিত হয়। যন্ত্রণা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বমি পেতে থাকে, ঘাম হয়, কাঁপুনি দিতে থাকে।

তৃতীয় পর্যায় খুব কম সময়ের হলেও সবচেয়ে কঠিন। ১৫ মিনিট থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ডাক্তার না বলা পর্যন্ত এই সময় ‘পুশ’ করা উচিত নয় বলে জানান চিকিৎসকরা।

দ্বিতীয় ধাপ-পুশ

দ্বিতীয় ধাপেই শিশুর জন্ম হয়। ডাক্তাররা এই সময় পুশ করতে বলেন। ‘পুশ করার সঙ্গে সঙ্গেই রিল্যাক্স থাকতে হবে। এক সঙ্গে পুশ ও রিল্যাক্স করা কঠিন হলেও তা সম্ভব। ডাক্তার যেভাবে বলছেন, সেভাবেই পুশ করুন।

প্রথমে শিশুর মাথা বেরিয়ে আসে। সেই সময় একটু জ্বালা করলেও ধীরে ধীরে কমে আসে।

তৃতীয় ধাপ-প্লাসেন্টা

তৃতীয় ধাপে প্লাসেন্টা শরীরের বাইরে বেরিয়ে আসে। প্লাসেন্টা বেরনো পর্যন্ত জরায়ুর সংকোচন হবে। ডাক্তার, নার্সরা এই সময় পেটে হালকা মাসাজ করতে থাকেন।

এই পর্যায় কিছু অস্বস্তিকর। প্লাসেন্টা বেরিয়ে আসার পর তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন চিকিত্সকরা। এই সময় যোনিতে অসম্ভব ব্যথা অনুভূত হয়।

চতুর্থ ধাপ

ডেলিভারি শেষ। জরায়ুর কিছু কাজ বাকি থেকে যায় এই সময়। জরায়ু আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসার কারণে সংকোচন অনুভূত হয়। কিন্তু এই সময় ব্যথা হয় না। নরম্যাল ডেলিভারির পর শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে দু’দিন সময় লাগে। এই সময় হাসপাতালে থাকতে বলেন চিকিত্সকরা।

প্রচুর পরিমাণ পানি খেয়ে শরীর হাইড্রেটেড রেখে মলত্যাগ স্বাভাবিক হলে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

চারটি জিনিস জানুন, হবে নরমাল ডেলিভারি

আপডেট সময় ০৪:৫৫:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

গর্ভধারণের পর থেকেই উত্তেজনার পাশাপাশি চিন্তা ও ভয় চলে আসে। দিন যতই এগিয়ে আসে যন্ত্রণার ভয়, অজানা আতঙ্ক ততই বাড়তে থাকে। এ কারণে অনেকে অপারেশন বা সিজারিয়ানের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। নরমাল ডেলিভারির পর্যায়গুলো জানা থাকলে প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়ে যায়। জেনে নিন নরম্যাল ডেলিভারির পর্যায়গুলো। গর্ভযন্ত্রণার প্রথম ধাপকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।

প্রাথমিক পর্যায় সার্ভিক্স ধীরে ধীরে প্রসারিত হতে শুরু করে। খুব বেশি যন্ত্রণা না হলেও পিরিয়ডের সময় যে রকম খিঁচ ধরে পেটের পেশীতে সে রকম যন্ত্রণা অনুভূত হয়। কোমরের নিচের দিকে, তলপেটে ৩০-৬০ সেকেন্ড এই ব্যথা স্থায়ী হয়। ৫-২০ মিনিটের মধ্যে ব্যথা ফিরে ফিরে আসে। সকলের ক্ষেত্রে এই সময় এক থাকে না।

দ্বিতীয় পর্যায়ে একে বলা হয়ে থাকে সক্রিয় গর্ভযন্ত্রণা। এই সময় সার্ভিক্স প্রায় ১.৬ থেকে ৩ ইঞ্চি পর্যন্ত প্রসারিত হয়। কোমরের দিক থেকে পেটের দিকে আসতে থাকে ব্যথা। ৩-৮ ঘণ্টা পর্যন্ত এই ব্যথা স্থায়ী হয়।

স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞরা জানান, এই সময় গরম জলে স্নান করলে আরাম পাবেন।

তৃতীয় পর্যায়ে সার্ভিক্স ৩-৪ ইঞ্চি প্রসারিত হয়। যন্ত্রণা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বমি পেতে থাকে, ঘাম হয়, কাঁপুনি দিতে থাকে।

তৃতীয় পর্যায় খুব কম সময়ের হলেও সবচেয়ে কঠিন। ১৫ মিনিট থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ডাক্তার না বলা পর্যন্ত এই সময় ‘পুশ’ করা উচিত নয় বলে জানান চিকিৎসকরা।

দ্বিতীয় ধাপ-পুশ

দ্বিতীয় ধাপেই শিশুর জন্ম হয়। ডাক্তাররা এই সময় পুশ করতে বলেন। ‘পুশ করার সঙ্গে সঙ্গেই রিল্যাক্স থাকতে হবে। এক সঙ্গে পুশ ও রিল্যাক্স করা কঠিন হলেও তা সম্ভব। ডাক্তার যেভাবে বলছেন, সেভাবেই পুশ করুন।

প্রথমে শিশুর মাথা বেরিয়ে আসে। সেই সময় একটু জ্বালা করলেও ধীরে ধীরে কমে আসে।

তৃতীয় ধাপ-প্লাসেন্টা

তৃতীয় ধাপে প্লাসেন্টা শরীরের বাইরে বেরিয়ে আসে। প্লাসেন্টা বেরনো পর্যন্ত জরায়ুর সংকোচন হবে। ডাক্তার, নার্সরা এই সময় পেটে হালকা মাসাজ করতে থাকেন।

এই পর্যায় কিছু অস্বস্তিকর। প্লাসেন্টা বেরিয়ে আসার পর তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন চিকিত্সকরা। এই সময় যোনিতে অসম্ভব ব্যথা অনুভূত হয়।

চতুর্থ ধাপ

ডেলিভারি শেষ। জরায়ুর কিছু কাজ বাকি থেকে যায় এই সময়। জরায়ু আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসার কারণে সংকোচন অনুভূত হয়। কিন্তু এই সময় ব্যথা হয় না। নরম্যাল ডেলিভারির পর শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে দু’দিন সময় লাগে। এই সময় হাসপাতালে থাকতে বলেন চিকিত্সকরা।

প্রচুর পরিমাণ পানি খেয়ে শরীর হাইড্রেটেড রেখে মলত্যাগ স্বাভাবিক হলে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।