ঢাকা ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে আশার আলো

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অবশেষে আশার আলো দেখা যাচ্ছে, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে। গেলো অক্টোবর মাসে ১১৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত সেপ্টেম্বর মাসের চেয়ে ৩০ কোটি ৩০ লাখ ডলার বেশি। আর ২০১৬ সালের অক্টোবরের চেয়ে ১৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, ‘প্রবাসী আয় বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এরই প্রভাব পড়েছে রেমিট্যান্সে । আশা করা যায়, আগামীতে প্রবাসী আয় আরও বাড়বে।’ প্রসঙ্গত, বেশ কিছুদিন ধরে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ কমে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. জায়েদ বখতও মনে করেন, প্রবাসী আয় বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হলে ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স আরও বাড়বে। তিনি বলেন, ‘অবৈধ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নামে হুন্ডি ঠেকানো সম্ভব হলে প্রবাসী আয় আরও বাড়বে। এ জন্য নানামুখী উদ্যোগ থাকতে হবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে মাত্র ৮৫ কোটি ৬৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। মাস হিসাবে বিগত সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে এটি ছিল সর্বনিম্ন।

রেমিট্যান্স বাড়াতে মাশুল না নেওয়াসহ নানা ঘোষণাও দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রবাসীদের জন্য বেশ কিছু সুযোগ- সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়। সর্বশেষ হুন্ডি রোধে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে কড়াকড়ি আরোপ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ১৪ সেপ্টেম্বর হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স বিতরণের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশের দুই হাজার ৮৮৭ জন এজেন্টের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রবাসীরা চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-অক্টোবর) ব্যাংকিং চ্যানেলে ৪৪৫ কোটি এক লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে প্রথম মাস জুলাইয়ে এসেছে ১১৫ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। দ্বিতীয় মাস আগস্টে ১৪১ কোটি ৮৬ লাখ ডলার পাঠান প্রবাসীরা। সেপ্টেম্বরে পাঠিয়েছেন ৮৫ কোটি ৬৮ লাখ ডলার এবং অক্টোবরে পাঠিয়েছেন ১১৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

প্রসঙ্গত, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড পরিমাণ এক হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ (১৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স আসে। এরপর প্রতিবছরই রেমিট্যান্স কমেছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আড়াই শতাংশ কমে গিয়ে রেমিট্যান্স আসে এক হাজার ৪৯৩ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে (২০১৬-১৭) তা সাড়ে ১৪ শতাংশ কমে আসে এক হাজার ২৭৭ কোটি ডলার, যা ছিল আগের ছয় অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। যদিও বাংলাদেশের জিডিপিতে ১২ শতাংশ অবদান রাখে প্রবাসীদের পাঠানো এই বৈদেশিক মুদ্রা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে আশার আলো

আপডেট সময় ০৭:৪২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অবশেষে আশার আলো দেখা যাচ্ছে, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে। গেলো অক্টোবর মাসে ১১৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত সেপ্টেম্বর মাসের চেয়ে ৩০ কোটি ৩০ লাখ ডলার বেশি। আর ২০১৬ সালের অক্টোবরের চেয়ে ১৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, ‘প্রবাসী আয় বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এরই প্রভাব পড়েছে রেমিট্যান্সে । আশা করা যায়, আগামীতে প্রবাসী আয় আরও বাড়বে।’ প্রসঙ্গত, বেশ কিছুদিন ধরে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ কমে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. জায়েদ বখতও মনে করেন, প্রবাসী আয় বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হলে ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স আরও বাড়বে। তিনি বলেন, ‘অবৈধ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নামে হুন্ডি ঠেকানো সম্ভব হলে প্রবাসী আয় আরও বাড়বে। এ জন্য নানামুখী উদ্যোগ থাকতে হবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে মাত্র ৮৫ কোটি ৬৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। মাস হিসাবে বিগত সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে এটি ছিল সর্বনিম্ন।

রেমিট্যান্স বাড়াতে মাশুল না নেওয়াসহ নানা ঘোষণাও দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রবাসীদের জন্য বেশ কিছু সুযোগ- সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়। সর্বশেষ হুন্ডি রোধে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে কড়াকড়ি আরোপ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ১৪ সেপ্টেম্বর হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স বিতরণের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশের দুই হাজার ৮৮৭ জন এজেন্টের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রবাসীরা চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-অক্টোবর) ব্যাংকিং চ্যানেলে ৪৪৫ কোটি এক লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে প্রথম মাস জুলাইয়ে এসেছে ১১৫ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। দ্বিতীয় মাস আগস্টে ১৪১ কোটি ৮৬ লাখ ডলার পাঠান প্রবাসীরা। সেপ্টেম্বরে পাঠিয়েছেন ৮৫ কোটি ৬৮ লাখ ডলার এবং অক্টোবরে পাঠিয়েছেন ১১৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

প্রসঙ্গত, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড পরিমাণ এক হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ (১৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স আসে। এরপর প্রতিবছরই রেমিট্যান্স কমেছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আড়াই শতাংশ কমে গিয়ে রেমিট্যান্স আসে এক হাজার ৪৯৩ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে (২০১৬-১৭) তা সাড়ে ১৪ শতাংশ কমে আসে এক হাজার ২৭৭ কোটি ডলার, যা ছিল আগের ছয় অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। যদিও বাংলাদেশের জিডিপিতে ১২ শতাংশ অবদান রাখে প্রবাসীদের পাঠানো এই বৈদেশিক মুদ্রা।