স্থানীয় ও গর্ভবতী তরুণীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিরিন বাবা-মার বিচ্ছেদের পর জীবিকার তাগিদে ঢাকার একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেয়। আর উল্লাপাড়ার নিতাই বাগচীও ঢাকায় তার গার্মেন্টসের পাশের একটি সেলুনে কাজ করতো। সেই রাস্তা দিয়েই কর্মস্থল থেকে যাওয়া-আসার পথে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
নিতাই বাগচী তার নিজ ধর্ম ও তার পিতার নাম এবং নিজ নাম-পরিচয় গোপন রেখে প্রতারণা করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে শিরিনকে। প্রেম করার সুবাদে নিজেকে মুসলিম পরিচয় দেয় সে। এভাবেই নিতাই বাগচী বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শিরিনের সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবত অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এতে শিরিন ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।
এক পর্যায়ে নিজের গর্ভের সন্তানকে পিতার পরিচয় দিতে নিতাইকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে ভুক্তভোগী শিরিন। কিন্তু নিতাই বিয়ে না করে ভয়ে ঢাকা থেকে পালিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসে এবং গত একমাস যাবত সে সেখানেই অবস্থান করছে। পরে নিরুপায় হয়ে অসহায় তরুণী শিরিন গর্ভের সন্তানের পিতার স্বীকৃতি আদায়ে নিতাইকে খুঁজতে খুঁজতে বুধবার তার গ্রামের বাড়িতে এসে পৌছে এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও প্রধানদের কাছে বিষয়টি জানায়। তারা বিষয়টি জানার পর নিতাইয়ের বাড়িতে গেলে নিতাই ও তার বাবা পালিয়ে যান। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে শিরিনের মা পলি খাতুন মুঠোফানে জানান, ‘‘আমি জানি শিরিন প্রেম করে বিয়ে করেছে। সে সুখে আছে। কিন্তু আমি জানতাম না যে, তার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে এবং সে গর্ভবতী হয়েছে।’’
নিতাইয়ের মা জানান, ‘শিরিনকে বাড়িতে তুলেছি এবং তাকে হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিত করে কোর্টের মাধ্যমে বিয়ে পড়ানো হবে।’’
এ বিষয়ে দুর্গানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ইউপি) আফছার উদ্দিন জানান, বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। পরিবার থেকে আমাকে জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
সহকারী পুলিশ সুপার (উল্লাপাড়া সার্কেল) শরাফত ইসলাম জানান, বিষয়টি পুলিশকে অবগত করা হয়নি। যদি মেয়ে আইনের আশ্রয় নেন তাহলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























