রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় ইট মৌসুম শুরু হতে না হতেই ইটভাটাগুলোতে চলছে ইট পোড়ানোর ব্যাপক তোড়জোড়। অথচ উপজেলার ১৪টি ইটভাটার মধ্যে জেলা প্রশাসকের বৈধ অনুমোদন রয়েছে মাত্র পাঁচটির। এছাড়া, সরকারি নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে বছরের পর বছর ছাড়পত্রহীন এসব ভাটা চালানো হচ্ছে, যার ফলে একদিকে যেমন সরকার বিশাল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি অপরিকল্পিত এসব ভাটার কারণে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপরও পড়ছে বিরূপ প্রভাব। বাকি ভাটাগুলো অনুমোদন ছাড়াই চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। মালিকেরা প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা মুনাফা করলেও সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্যও চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে অনুমোদনহীন ইটভাটাগুলো।
অনুমোদিত ভাটাগুলোর মধ্যে রয়েছে মেঘনা-১ ও ২, সুকদেবপুর যমুনা ব্রিকস, মেল্লাপাড়া জগপাড়া মদিনা ব্রিকস এবং মেল্লাপাড়া দোয়েল ব্রিকস। অন্যদিকে, অনুমোদনহীন ভাটাগুলোর তালিকায় আছে বারইপাড়া এমএসবি, সদরের এএসএস, পশ্চিমভাগ এমআরএফ ব্রিকস, লেপপাড়ার ছালাম মন্ডলের ভাটা, তাহেরপুর জেকে ব্রিকস ও তাহেরপুর হক ব্রিকস। তবে চলতি মৌসুমে মেঘনা-৩, বানেশ্বর দিঘলকান্দি সুপার ব্রিকস এবং দনোকুড়ি এলাকার আতাউরের ভাটা বন্ধ থাকার কথা রয়েছে।
বারইপাড়া ও পশ্চিমভাগ বাজারের আশেপাশে ফসলি জমির ওপর গড়ে ওঠা ইটভাটাগুলোতে শ্রমিকরা পুরোদমে মাঠ তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সূত্রমতে, প্রতিটি ইটভাটায় ইট পোড়ানো শুরুর পর্যায়ে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ মণ কাঠের খড়ি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে এসব ভাটায় খড়ি বা গাছ জড়ো করার কাজ শুরু হয়েছে এবং নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই ইট পোড়ানো শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. হাসান আলী মোল্লা সতর্ক করে বলেন, ইটভাটার কালো ধোঁয়া মানুষের ফুসফুসে সরাসরি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এই দূষণের ফলে অ্যাজমা, অ্যালার্জি, শ্বাসকষ্ট, কাশি, সিওপিডি, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এছাড়া গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে জটিলতা এবং গর্ভের শিশুর ক্ষতির শঙ্কা থাকে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এতে অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জিসহ নানা রোগ দেখা দিতে পারে।
ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন জানান, কয়লার উচ্চমূল্যের কারণে চারটি ভাটা বন্ধ রাখা হচ্ছে। তার দাবি, পাঁচটি ভাটার পরিবেশগত অনুমোদন রয়েছে এবং অন্যরা অনুমোদনের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও রাজশাহী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. তাছমিনা খাতুনের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় মোট ১৪টির মধ্যে ছয়টির পরিবেশগত অনুমোদন আছে। তিনি জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় মালিকদের এই বিষয়ে সচেতন করা হয়েছে এবং সরকারি নিয়ম না মানলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ অবস্থায় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। জানা গেছে, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী, ইটভাটা যে জেলায় অবস্থিত, সেই জেলার জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে লাইসেন্স গ্রহণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি ইটভাটা স্থাপন ও ইট প্রস্তুত করতে পারবেন না। কয়লার দাম বেশি হওয়ায় চারটি ভাটা বন্ধ থাকবে বলে শুনেছেন। এ ছাড়া নোটিশের মাধ্যমেও তাদের অবগত করা হয়েছে।
উপজেলার ইটভাটাগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান জানান, বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে এবং অচিরেই তাদের সাথে নিয়ে এই অনুমোদনহীন ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে যৌথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























