রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, ঐতিহ্য ও গবেষণার পরিবেশ আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে যদি অক্সফোর্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে ক্যামব্রিজ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিতে হবে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে রিজভী মন্তব্য করেন, দীর্ঘদিন পর নিজের পরিবারে ফিরে আসার মতো এক অদ্ভুত অনুভূতির সৃষ্টি হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বর, পড়াশোনার আনন্দ এবং ক্যাম্পাসের অবকাঠামোর সঙ্গে তাঁর অনেক স্মৃতি জড়িত রয়েছে। দেশের ভেতরে এবং বিদেশে বিভিন্ন পেশায় ছড়িয়ে থাকা প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আত্মিক ও আবেগের সম্পর্ক আজও অটুট রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে সফরকালে সেখানকার এক বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্তন শিক্ষার্থীর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল এবং ক্যাম্পাসের কথা জানতে পেরে তিনি যে আন্তরিকতা প্রকাশ করেছিলেন তা সত্যিই স্মরণীয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করার যে গর্ব ও আনন্দ, তা আজও স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি। নিজের গ্রাম কিংবা বাড়ির মানুষের সঙ্গে দেখা হওয়ার মতোই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা হলে আনন্দ তৈরি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে এবং এর উন্নয়নে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। প্রতিষ্ঠানটির দেশ-বিদেশে সুনাম রয়েছে এবং রাজশাহীতে যাওয়া অনেক অতিথি এটি পরিদর্শন করেন।
নিজের শিক্ষাজীবনের ছাত্ররাজনীতি স্মরণ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, তাঁদের সময়ে রাজনৈতিক মতভেদে সংঘাত ও মতপার্থক্য সৃষ্টি হলেও পরস্পরের মধ্যে একটি সহাবস্থান ও উদারতার চর্চা বজায় থাকত। সে সময় শিক্ষকেরা কোনো শিক্ষার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় বা ভাবাদর্শ বিবেচনা না করেই স্নেহ ও শিক্ষা দিতেন। একই সঙ্গে রাজনীতির বাইরেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক অটুট থাকত। বর্তমান সময়েও সাংগঠনিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে শিক্ষার্থীদের এই ধরনের সামাজিক বন্ধন বজায় রাখা ভীষণ দরকার বলে তিনি মনে করেন। নিজের ছাত্ররাজনীতির স্মৃতিচারণা করে রিজভী বলেন, আমাদের সময়ে ছাত্ররাজনীতিতে সমস্যা, সংঘাত ও মনোমালিন্য থাকলেও পারস্পরিক সহাবস্থান ও উদারতা ছিল। শিক্ষার্থীরাও রাজনৈতিক সংগঠনের বাইরের সামাজিক সম্পর্কগুলো বজায় রাখতেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক সম্ভাবনা প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী উল্লেখ করেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে নিছক একটি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভাবলে ভুল হবে। এর সঙ্গে বরেন্দ্র জাদুঘরের মতো বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এই ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি প্রাণবন্ত, বৃক্ষশোভিত এবং গবেষণাবান্ধব শিক্ষানগরীতে রূপ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই গৌরবময় সুনাম ও ঐতিহ্য বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। বরেন্দ্র জাদুঘরও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 














