ঢাকা ১২:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা দেশ গড়ার কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রাঙামাটির সাবেক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা

রাঙামাটির সাবেক পৌর কাউন্সিলর নেয়াজ আহমেদের বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণচেষ্টা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। ভুক্তভোগী ২৬ বছর বয়সী গৃহবধূ কানিজ সুলতানা কেয়ার দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে বিচার বিভাগীয় তদন্তে এই তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) আদালতে জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটি কোতোয়ালী থানার ১৮/২৬ নম্বর মামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মাকসুদা হক গণমাধ্যমকে জানান, তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা প্রতিবেদনে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে। এই মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আদালত আগামী ৫ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছেন। অভিযুক্ত নেয়াজ আহমেদের বয়স ৫০ বছর এবং তিনি রাঙামাটি শহরের ডিসি বাংলো এলাকার বাসিন্দা।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর আদালতে দায়ের করা এই মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তের সঙ্গে বাদীর পরিবারের আগে থেকেই জানাশোনা ছিল। এই সুবাদে ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ব্যবসায়িক সংকটের কথা বলে তিনি গৃহবধূর কাছ থেকে ৫ ভরি ২ আনা স্বর্ণালংকার ধার নেন। পরবর্তীতে গয়না ফেরত না দিয়ে উল্টো ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে কুপ্রস্তাব দিতে শুরু করেন তিনি। এতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৪)(খ)/১০ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৩/৪০৬/৪২০/৫০৬(ii) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটি সামাজিকভাবে মীমাংসার নামে কালক্ষেপণ করা হলে পরে থানা কর্তৃপক্ষের পরামর্শে বাদী আদালতের শরণাপন্ন হন বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে এবং তার স্বামীকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়ানো ও বিবাহবিচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয়। ২৩ আগস্ট রাতে অভিযুক্ত গৃহবধূর ভাড়া বাসায় জোরপূর্বক প্রবেশ করেন এবং তাকে মারধর ও শ্লীলতাহানির পর ধর্ষণের চেষ্টা চালান। গৃহবধূর চিৎকারে স্বামী ছুটে এলে অভিযুক্ত দ্রুত পালিয়ে যান। এর আগে ২ অক্টোবর ফোন করে তিনি স্বর্ণালংকার ফেরত দেবেন না বলে জানিয়ে দেন এবং বিষয়টির বিষয়ে মুখ খুললে হত্যার হুমকি দেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৩ আগস্ট রাতে অভিযুক্ত বনরূপার কাটা পাহাড় লেন এলাকায় গৃহবধূর ভাড়া বাসায় প্রবেশ করে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন।

ভুক্তভোগী পরিবার বর্তমানে গভীর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। মামলার নথিতে ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের পাশাপাশি আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানানো হয়েছে। তবে অভিযুক্ত নেয়াজ আহমেদের দাবি, তিনি নিজেই প্রতারণার শিকার হয়েছেন এবং আনীত অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তার ভাষ্যমতে, আত্মীয়তার সম্পর্ক নিয়ে ভুল-বোঝাবুঝির অবসান ঘটলেও এখন নতুন করে ইস্যু তৈরি করা হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে রাঙামাটি কোতোয়ালী থানার ওসি জসিম উদ্দিন জানান, ওই গৃহবধূ আগে একবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে এসেছিলেন। তখন তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভুক্তভোগীকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি আপস হয়েছে বলে শুনেছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আপলোডকারীর তথ্য

রাঙামাটির সাবেক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা

আপডেট সময় ১১:৩৯:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

রাঙামাটির সাবেক পৌর কাউন্সিলর নেয়াজ আহমেদের বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণচেষ্টা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। ভুক্তভোগী ২৬ বছর বয়সী গৃহবধূ কানিজ সুলতানা কেয়ার দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে বিচার বিভাগীয় তদন্তে এই তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) আদালতে জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটি কোতোয়ালী থানার ১৮/২৬ নম্বর মামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মাকসুদা হক গণমাধ্যমকে জানান, তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা প্রতিবেদনে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে। এই মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আদালত আগামী ৫ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছেন। অভিযুক্ত নেয়াজ আহমেদের বয়স ৫০ বছর এবং তিনি রাঙামাটি শহরের ডিসি বাংলো এলাকার বাসিন্দা।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর আদালতে দায়ের করা এই মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তের সঙ্গে বাদীর পরিবারের আগে থেকেই জানাশোনা ছিল। এই সুবাদে ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ব্যবসায়িক সংকটের কথা বলে তিনি গৃহবধূর কাছ থেকে ৫ ভরি ২ আনা স্বর্ণালংকার ধার নেন। পরবর্তীতে গয়না ফেরত না দিয়ে উল্টো ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে কুপ্রস্তাব দিতে শুরু করেন তিনি। এতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৪)(খ)/১০ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৩/৪০৬/৪২০/৫০৬(ii) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটি সামাজিকভাবে মীমাংসার নামে কালক্ষেপণ করা হলে পরে থানা কর্তৃপক্ষের পরামর্শে বাদী আদালতের শরণাপন্ন হন বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে এবং তার স্বামীকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়ানো ও বিবাহবিচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয়। ২৩ আগস্ট রাতে অভিযুক্ত গৃহবধূর ভাড়া বাসায় জোরপূর্বক প্রবেশ করেন এবং তাকে মারধর ও শ্লীলতাহানির পর ধর্ষণের চেষ্টা চালান। গৃহবধূর চিৎকারে স্বামী ছুটে এলে অভিযুক্ত দ্রুত পালিয়ে যান। এর আগে ২ অক্টোবর ফোন করে তিনি স্বর্ণালংকার ফেরত দেবেন না বলে জানিয়ে দেন এবং বিষয়টির বিষয়ে মুখ খুললে হত্যার হুমকি দেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৩ আগস্ট রাতে অভিযুক্ত বনরূপার কাটা পাহাড় লেন এলাকায় গৃহবধূর ভাড়া বাসায় প্রবেশ করে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন।

ভুক্তভোগী পরিবার বর্তমানে গভীর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। মামলার নথিতে ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের পাশাপাশি আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানানো হয়েছে। তবে অভিযুক্ত নেয়াজ আহমেদের দাবি, তিনি নিজেই প্রতারণার শিকার হয়েছেন এবং আনীত অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তার ভাষ্যমতে, আত্মীয়তার সম্পর্ক নিয়ে ভুল-বোঝাবুঝির অবসান ঘটলেও এখন নতুন করে ইস্যু তৈরি করা হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে রাঙামাটি কোতোয়ালী থানার ওসি জসিম উদ্দিন জানান, ওই গৃহবধূ আগে একবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে এসেছিলেন। তখন তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভুক্তভোগীকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি আপস হয়েছে বলে শুনেছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।