মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস প্রতিবছর বিশ্বের ধনকুবেরদের তালিকা প্রকাশ করে, যা ‘ফোর্বস ফোর হান্ড্রেড’ নামে পরিচিত। ২০২৫ সালে এই তালিকায় ৪০ বছরের কম বয়সী বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ছিল চারজন, যা ২০২৬ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। এই নতুন প্রজন্মের ১০ জন বিলিয়নিয়ারের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৬৯ বিলিয়ন ডলার, যার হিসাব করা হয়েছে ২০২৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তালিকার এই ১০ জনের মধ্যে সাতজনেরই বিশাল সম্পদের পেছনে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির জয়জয়কার। এআই সফটওয়্যার, স্বয়ংক্রিয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং মডেল প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে তাঁরা অল্প সময়েই বিপুল ঐশ্বর্যের মালিক হয়েছেন। মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ধনী ৪০০ ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করে, যা ‘ফোর্বস ফোর হান্ড্রেড’ নামে পরিচিত। তাঁদের মধ্যে সাতজন নতুন করে তালিকায় জায়গা পেয়েছেন। বয়সের ভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি থেকে কম ক্রমে তাঁদের পরিচয় জেনে নেওয়া যাক। রবিনহুডের দ্রুত বাড়তে থাকা ব্যবসাগুলোর একটি হলো ভবিষ্যৎ ঘটনা নিয়ে বাজি ধরার বাজার, যা ‘প্রেডিকশন মার্কেট’ নামে পরিচিত। এখানে ব্যবহারকারীরা নির্বাচনের ফলাফল, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, খেলাধুলার ফলাফল কিংবা আবহাওয়া কেমন হবে এসব বিষয়ে অর্থের বিনিময়ে চুক্তি কেনাবেচা করতে পারেন। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও জ্ঞানীয় বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেছেন টম ব্রাউন। ২০২০ সালে জিপিটি-৩ নামের ভাষাভিত্তিক এআই মডেল নিয়ে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের প্রধান লেখকও ছিলেন ব্রাউন। ২০২১ সালে ওপেনএআই ছেড়ে ছয় সহকর্মীর সঙ্গে অ্যানথ্রপিক প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান্তা ক্রুজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে অর্থ লেনদেনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্ট্রাইপে কাজ করেন তিনি। পরে ওপেনএআইয়ে নিরাপত্তা ও নীতিবিষয়ক কার্যক্রমের দায়িত্বে ছিলেন। পরে গুগল, ফেসবুক ও টুইটারে কাজ করেন। কোম্পানিটির প্রায় ৭৫ শতাংশ মালিকানা চেনের হাতে। হার্ভার্ড ও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে পড়লেও স্নাতক সম্পন্ন করেননি তিনি। পরে ওপেনএআইয়ে নীতিবিষয়ক পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। ২০২১ সালে সহকর্মীদের সঙ্গে অ্যানথ্রপিক প্রতিষ্ঠার পর এআই খাতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালা তৈরির পক্ষে কাজ করছেন ক্লার্ক। এবছর সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০। এ ক্ষেত্রে বেশি তথ্য ও কম্পিউটিং ক্ষমতা ব্যবহার করলে মডেলের কার্যক্ষমতা কীভাবে উন্নত হয়, সেটি ছিল তাঁর গবেষণার অন্যতম বিষয়। ২০২৬ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠানটিকে সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও সংশ্লিষ্ট সেবার জন্য সর্বোচ্চ ২০ বিলিয়ন ডলারের ১০ বছর মেয়াদি চুক্তি দেয়। মে মাসে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ সংগ্রহের পর আন্দুরিলের মূল্যায়ন দাঁড়ায় ৬১ বিলিয়ন ডলারে। ২০১৪ সালে স্বর্ণপদক জেতার পর হাও তথ্য চিহ্নিতকরণভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্কেল এআইয়ে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেন।
১০. লুকাস ওয়ালটন
- বয়স: ৩৯ বছর
- সম্পদ: ৪৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার
- উৎসের বিবরণ: লুকাস ওয়ালটন শিকাগোভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান বিল্ডার্স ভিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, টেকসই খাদ্যব্যবস্থা ও সমুদ্র সংরক্ষণের মতো খাতে বিনিয়োগের পাশাপাশি তিনি পেশাদার বাস্কেটবল দল শিকাগো বুলসের একাংশের মালিকানাও কিনেছেন।
৯. ভ্লাদ তেনেভ
- বয়স: ৩৮ বছর
- সম্পদ: ৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার
- উৎসের বিবরণ: অনলাইন ব্রোকারেজ প্ল্যাটফর্ম রবিনহুডের মাধ্যমে তিনি সম্পদ গড়েছেন। রবিনহুড এখন ভবিষ্যৎ বাজারের পূর্বাভাস বা প্রেডিকশন মার্কেটেও সক্রিয়। এছাড়া তিনি এআই প্রতিষ্ঠান হারমোনিকের চেয়ারম্যান হিসেবেও কাজ করছেন।
৮. টম ব্রাউন
- বয়স: ৩৭ বছর
- সম্পদ: ১৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার
- উৎসের বিবরণ: ওপেনএআইয়ের শুরুর দিকের ২০ জন কর্মীর একজন টম ব্রাউন। তিনি জিপিটি-৩ এআই মডেলের অন্যতম প্রধান গবেষক ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি অ্যানথ্রপিক প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর এআই চ্যাটবট ক্লড-এর প্রযুক্তিগত কাঠামো পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন।
৭. ড্যানিয়েলা আমোদেই
- বয়স: ৩৭ বছর
- সম্পদ: ১৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার
- উৎসের বিবরণ: অ্যানথ্রপিকের সহপ্রতিষ্ঠাতা ড্যানিয়েলা আমোদেই কোম্পানিটির গবেষণা, প্রকৌশল ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম দেখাশোনা করেন। এর আগে তিনি স্ট্রাইপ ও ওপেনএআইয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
৬. এডউইন চেন
- বয়স: ৩৬ বছর
- সম্পদ: ১৮ বিলিয়ন ডলার
- উৎসের বিবরণ: সার্জ এআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা এডউইন চেন এআই মডেলের প্রশিক্ষণ ও ভুল সংশোধনের কাজ করেন। কোনো ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগ ছাড়াই তার কোম্পানি বার্ষিক এক বিলিয়ন ডলার আয়ের মাইলফলক ছুঁয়েছে।
৫. গ্রেগ ব্রকম্যান
- বয়স: ৩৬ বছর
- সম্পদ: ২৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার
- উৎসের বিবরণ: ওপেনএআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা গ্রেগ ব্রকম্যান শুরুতে স্ট্রাইপের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ছিলেন। ২০১৫ সালে স্যাম অল্টম্যান ও ইলন মাস্কের সঙ্গে মিলে তিনি ওপেনএআই গড়ে তোলেন।
৪. জ্যাক ক্লার্ক
- বয়স: ৩৪ বছর
- সম্পদ: ৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার
- উৎসের বিবরণ: সাংবাদিকতা থেকে এআই উদ্যোক্তা হওয়া জ্যাক ক্লার্ক অ্যানথ্রপিকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বর্তমানে এআই নীতিমালা ও প্রযুক্তিগত সামাজিক প্রভাব নিয়ে কাজ করছেন।
৩. স্যাম ম্যাকক্যান্ডলিশ
- বয়স: ৩৩ বছর
- সম্পদ: ৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার
- উৎসের বিবরণ: তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী ম্যাকক্যান্ডলিশ ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ২০২৬ সালের অক্টোবরে তিনি অ্যানথ্রপিকের প্রধান স্থপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
২. পামার লাকি
- বয়স: ৩০ বছর
- সম্পদ: ৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার
- উৎসের বিবরণ: পামার লাকির প্রতিষ্ঠান আন্দুরিল ড্রোন ও এআইনির্ভর প্রতিরক্ষা সফটওয়্যার তৈরি করে। ২০২৬ সালে মার্কিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের ২০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি হয়েছে।
১. স্টিভেন হাও
- বয়স: ২৯ বছর
- সম্পদ: ৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার
- উৎসের বিবরণ: কগনিশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভেন হাও তালিকার সবচেয়ে কমবয়সী সদস্য। তার প্রতিষ্ঠান ডেভিন নামের এআই এজেন্ট তৈরি করেছে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোড লিখতে ও ভুল সংশোধন করতে সক্ষম। ২০১৪ সালে ইনফরমেটিকস অলিম্পিয়াডে স্বর্ণজয়ী হাও ২০২৩ সালে কগনিশন প্রতিষ্ঠা করেন।
এই তালিকা প্রমাণ করে যে, এআই প্রযুক্তি বর্তমানে নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সাফল্যের পথ তৈরি করে দিয়েছে। কারো ক্ষেত্রে পারিবারিক উত্তরাধিকার ভূমিকা রাখলেও, অধিকাংশ তরুণের সম্পদের মূল ভিত্তি হলো তাদের উদ্ভাবনী সফটওয়্যার, এআই মডেল প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত সমাধানের দক্ষতা।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- সম্পদের উৎস: ওয়ালমার্ট।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























