প্রথমবারের মতো কারও সাথে দেখা করা বা ডেটে যাওয়া কোনো চাকরির ইন্টারভিউ নয়। সেখানে নিজের প্রতিটি কাজের পক্ষে যুক্তি দিয়ে সামনের মানুষটিকে সন্তুষ্ট করার প্রয়োজন পড়ে না। বরং এটি হলো দুজন মানুষের আলাপচারিতা, পরস্পরকে চেনার চেষ্টা এবং একসাথে সময় কাটানোর ক্ষেত্রে নিজেদের স্বাচ্ছন্দ্য পরীক্ষা করা। তাই প্রথম দেখাতেই কিছু বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত কৈফিয়ত বা বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দেওয়াই শ্রেয়।
প্রথমত, নিজের ব্যক্তিগত সীমারেখা নিয়ে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রথম আলাপেই সব বিষয়ে সহজ হওয়া সম্ভব না-ও হতে পারে। আপনি হয়তো কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিগত বিষয়ে কথা বলতে চান না কিংবা সাক্ষাতের স্থানটি নিজের পছন্দ অনুযায়ী নির্ধারণ করতে চান। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘ যুক্তি না দেখিয়ে শুধু এটুকু বলাই যথেষ্ট যে, আপনি এই মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে স্বচ্ছন্দ নন। আপনার এই সীমানাকে সামনের মানুষটি সম্মান করছেন কি না, তা খেয়াল করা জরুরি। সুস্থ সম্পর্কের অন্যতম মূল ভিত্তি পারস্পরিক সম্মান, যার জন্য আলাদা কোনো প্রমাণের প্রয়োজন হয় না। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০-এর কোঠায় যাঁরা সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই ধরনের সুস্থ আচরণ বজায় রাখতেন, ৮০ বছর বয়সে তাঁরাই ছিলেন সবচেয়ে সুখী। আপনি এখন যেখানে আছেন, সেটি আপনার জীবনের একটি পর্যায় মাত্র। যোগাযোগে আগ্রহ থাকলে সেটি প্রকাশ করাও জরুরি। ঘুরে আসুন ঢাকার নতুন বিনোদনকেন্দ্র অ্যাকুয়ারিয়াম পার্কে, যেখানে আছে মাছ, পাখি ও জলপ্রপাত।
দ্বিতীয়ত, নিজের জীবন বা ক্যারিয়ার এখনো পুরোপুরি গুছিয়ে উঠতে পারেনি—এই নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভোগার কিছু নেই। প্রথম দেখাতেই নিজের সব সফলতা বা জীবনের ঘাটতিগুলো উজাড় করে দিতে হবে না। চাকরি মনের মতো না হওয়া, ক্যারিয়ার পরিবর্তনের চিন্তা বা পড়াশোনা শেষ হলেও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্ট না থাকা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। সবার জীবনের গতি এক রকম হয় না; কারও ক্যারিয়ার আগে গোছায়, কারও আবার ব্যক্তিগত জীবন। বর্তমান অবস্থাকে প্রথম দিনেই যৌক্তিক প্রমাণ করার চেষ্টা না করে নিজের মতো স্বাভাবিক থাকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তৃতীয়ত, যোগাযোগের ক্ষেত্রে কিছুটা দেরি হলে তার জন্য অপরাধবোধে ভুগবেন না। সম্পর্কের শুরুতে মেসেজের উত্তর দিতে কয়েক ঘণ্টা দেরি হলে তার জন্য দীর্ঘ ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রবণতা অনেকের মাঝেই দেখা যায়। কিন্তু পড়াশোনা, চাকরি, পরিবার বা বন্ধুদের সময় দেওয়া কিংবা নিজের জন্য কিছু মুহূর্ত রাখার পর উত্তর দেওয়ায় কোনো ভুল নেই। ইচ্ছে করে কাউকে অবহেলা করা আর ব্যস্ততার কারণে দেরিতে উত্তর দেওয়া এক বিষয় নয়। প্রথম ডেটেই বুঝে নেওয়া ভালো যে, সামনের মানুষটি আপনার এই স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে সম্মান জানান কি না।
চতুর্থত, নিজের সহজাত স্বভাবের জন্য প্রথম আলাপেই ক্ষমা চাওয়া বন্ধ করুন। অনেকেই শুরুতে বলেন, ‘আমি একটু বেশি কথা বলি’ কিংবা ‘আমি আসলে অনেক চুপচাপ, কিছু মনে করবেন না।’ আপনি কথা বলতে ভালোবাসেন, একটু লাজুক, অনেক প্রশ্ন করেন কিংবা নিজের মতামত সরাসরি জানান—এসবই আপনার ব্যক্তিত্বের অংশ। প্রথম দেখাতেই অন্যকে খুশি করতে নিজেকে বদলে ফেলার চেষ্টা করলে পরবর্তীতে সেই আচরণ বজায় রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। দুজন মানুষ নিজেদের আসল রূপে কতটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন, তা বোঝাই প্রথম সাক্ষাতের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। অবশ্য নিজের আচরণে অন্য কেউ অস্বস্তি বোধ করলে তা বোঝার চেষ্টা করা দরকার।
পঞ্চমত, ‘এখনো কেন সিঙ্গেল?’—এই প্রশ্নের মুখোমুখি হলে বিস্তারিত ইতিহাস ঘেঁটে উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এই প্রশ্ন শুনেই অনেকে পুরোনো সম্পর্কের টানাপোড়েন বা বিচ্ছেদের গল্প বলা শুরু করেন। অথচ একা থাকা কোনো সমস্যা নয় যার জন্য আপনাকে কৈফিয়ত দিতে হবে। আপনি ক্যারিয়ারে ব্যস্ত থাকতে পারেন কিংবা নিজের মতো সময় কাটাতে ভালোবাসেন। কারণ যাই হোক, প্রথম দেখাতেই অতীতের সব ব্যক্তিগত বিষয় তুলে ধরার কোনো নিয়ম নেই। প্রথম ডেট কেবল নিজেকে পছন্দ করানোর পরীক্ষা নয়, বরং পরস্পরকে চেনার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তাই কোনো অবান্তর কৈফিয়ত না দিয়ে আলাপচারিতাকে সহজ ও সাবলীল রাখুন। টাইমস অফ ইন্ডিয়া অবলম্বনে হুমায়রা মাহজাবিন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















