ঢাকা ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

পূজায় মাতলামি করলে ছাড় নেই

ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভায় তিনি বলেন, পূজার সময় মণ্ডপে মদ পান করে নাচানাচি বা বিশৃঙ্খলা করলে পুলিশ কাউকে ছাড় দেবে না। অপরাধীকে সরাসরি ধরে এনে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ সুপারের এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। কেউ বিশৃঙ্খলা করলে, সে যে-ই হোক না কেন, পুলিশ তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসবে।’।

পুলিশ সুপার আরও জানান, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ফেনীতে মাদকের সহজলভ্যতা রয়েছে। পূজার পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ মেডিকেল টিম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। যারা মাতলামি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, তাদের মেডিকেল টিমের মাধ্যমে ‘ওয়াশ’ করিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় সোপর্দ করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা পুলিশের দায়িত্ব এবং যেকোনো বিশৃঙ্খলা কঠোর হাতে দমন করা হবে। বিশেষ করে শহরকেন্দ্রিক মণ্ডপ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশের নজরদারি বেশি থাকবে। তাদের দেখাদেখি অন্যরাও এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। শহরকেন্দ্রিক পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।

প্রস্তুতি সভায় ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমের সভাপতিত্বে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জেলা প্রশাসক জানান, প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যেকোনো জরুরি অবস্থা মোকাবেলায় একটি কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে এবং গুজব প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানানো হয়েছে। ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমের সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকারের সঞ্চালনায় সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ খালেক, বিজিবি ৪ ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাস। ফেনী জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে ভালো। এখানে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কমিয়েছি আমরা।

পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সমীর কর পুলিশ সুপারের এই কঠোর অবস্থানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ফেনীতে অতীতে এ ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও, আগাম সতর্কতা হিসেবে এই উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানান। যদি কেউ পূজার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াই যৌক্তিক বলে তিনি মন্তব্য করেন। জানতে চাইলে ফেনী জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি সমীর কর বলেন, ‘আমি ইতিপূর্বে বিগত ৭ বছর জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম।

উল্লেখ্য, এবারের শারদীয় দুর্গাপূজায় ফেনীর ছয়টি উপজেলায় মোট ১৫৩টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় তিনটি বেশি। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৬৫টি, ফুলগাজীতে ৩৪টি, সোনাগাজীতে ২৩টি, দাগনভূঞায় ১৯টি, পরশুরামে ৭টি ও ছাগলনাইয়ায় ৫টি মণ্ডপ রয়েছে। প্রতিমা তৈরির পর থেকে বিসর্জন পর্যন্ত সব ধাপেই পুলিশের বিশেষ নজরদারি বজায় থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

পূজায় মাতলামি করলে ছাড় নেই

আপডেট সময় ১২:৪৫:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভায় তিনি বলেন, পূজার সময় মণ্ডপে মদ পান করে নাচানাচি বা বিশৃঙ্খলা করলে পুলিশ কাউকে ছাড় দেবে না। অপরাধীকে সরাসরি ধরে এনে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ সুপারের এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। কেউ বিশৃঙ্খলা করলে, সে যে-ই হোক না কেন, পুলিশ তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসবে।’।

পুলিশ সুপার আরও জানান, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ফেনীতে মাদকের সহজলভ্যতা রয়েছে। পূজার পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ মেডিকেল টিম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। যারা মাতলামি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, তাদের মেডিকেল টিমের মাধ্যমে ‘ওয়াশ’ করিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় সোপর্দ করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা পুলিশের দায়িত্ব এবং যেকোনো বিশৃঙ্খলা কঠোর হাতে দমন করা হবে। বিশেষ করে শহরকেন্দ্রিক মণ্ডপ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশের নজরদারি বেশি থাকবে। তাদের দেখাদেখি অন্যরাও এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। শহরকেন্দ্রিক পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।

প্রস্তুতি সভায় ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমের সভাপতিত্বে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জেলা প্রশাসক জানান, প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যেকোনো জরুরি অবস্থা মোকাবেলায় একটি কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে এবং গুজব প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানানো হয়েছে। ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমের সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকারের সঞ্চালনায় সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ খালেক, বিজিবি ৪ ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাস। ফেনী জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে ভালো। এখানে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কমিয়েছি আমরা।

পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সমীর কর পুলিশ সুপারের এই কঠোর অবস্থানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ফেনীতে অতীতে এ ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও, আগাম সতর্কতা হিসেবে এই উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানান। যদি কেউ পূজার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াই যৌক্তিক বলে তিনি মন্তব্য করেন। জানতে চাইলে ফেনী জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি সমীর কর বলেন, ‘আমি ইতিপূর্বে বিগত ৭ বছর জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম।

উল্লেখ্য, এবারের শারদীয় দুর্গাপূজায় ফেনীর ছয়টি উপজেলায় মোট ১৫৩টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় তিনটি বেশি। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৬৫টি, ফুলগাজীতে ৩৪টি, সোনাগাজীতে ২৩টি, দাগনভূঞায় ১৯টি, পরশুরামে ৭টি ও ছাগলনাইয়ায় ৫টি মণ্ডপ রয়েছে। প্রতিমা তৈরির পর থেকে বিসর্জন পর্যন্ত সব ধাপেই পুলিশের বিশেষ নজরদারি বজায় থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।