২০২৭ পঞ্জিকাবর্ষে ইস্টার্ন রিফাইনারি প্রক্রিয়াকরণের জন্য সৌদি আরব এবং আবুধাবি থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ১৪ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মূলত জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতে সৌদি আরবের আরামকো এবং আবুধাবির ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (এডনক) থেকে জি টু জি বা সরকারি পর্যায়ে চুক্তির আওতায় এই তেল আনা হবে।
বিপিসি বা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ইস্টার্ন রিফাইনারির পুরনো প্ল্যান্টে প্রক্রিয়াকরণের জন্য অ্যারাবিয়ান লাইট এবং মারবান ক্রুড অয়েল সবচেয়ে উপযোগী ও অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী। অন্য কোনো উৎস থেকে এই মানের তেল পাওয়ার নিশ্চয়তা না থাকায় রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে সরকারি ক্রয় আইন ২০০৬-এর ৬৮(১) ধারা ও সরকারি ক্রয় বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ১০৭(২) অনুযায়ী সরাসরি পদ্ধতিতে আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এই ক্রয়ের অর্থায়ন আসবে আন্তর্জাতিক ইসলামিক বাণিজ্য অর্থায়ন সংস্থার (আইটিএফসি) ঋণ থেকে। একইসঙ্গে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে জ্বালানি বিভাগের আরেকটি প্রস্তাবেরও নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। ইআরপিএলসির প্ল্যান্টটি দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় এর প্রক্রিয়াকরণের জন্য ‘অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড অয়েল’ এবং ‘মারবান ক্রুড অয়েল’ তুলনামূলকভাবে বেশি উপযোগী ও আর্থিকভাবে লাভজনক। এছাড়া চাহিদা অনুযায়ী অন্য কোনো দেশ বা সরবরাহকারীর কাছ থেকে এসব ক্রুড অয়েল পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই বলে বৈঠকে জানানো হয়। কমিটি প্রস্তাবটি নীতিগত অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও আমদানির গতি বাড়াতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের সময়সীমা ৪২ দিন থেকে কমিয়ে ২১ দিন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিডিংয়ের এই সময়সীমা অর্ধেক কমিয়ে আনা হলে জাতীয় প্রয়োজনে দ্রুত তেল আমদানি করা সম্ভব হবে এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
















