ঢাকা ০৯:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি

মহেশখালীর সংরক্ষিত বনে সড়ক নির্মাণ বন্ধের দাবি

কক্সবাজারের মহেশখালীর সংরক্ষিত বনভূমির মধ্য দিয়ে ২২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক নির্মাণের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের দাবি অনুযায়ী, এই সড়ক নির্মিত হলে দুটি ইউনিয়নের মধ্যে যোগাযোগ সহজ হবে। কিন্তু এই প্রকল্পের আড়ালে বনভূমির পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। বন বিভাগের তথ্যমতে, সংরক্ষিত এলাকায় অবৈধভাবে বসবাসকারী চার হাজারেরও বেশি মানুষ এই সড়কের সুবিধা ভোগ করবে। মূলত সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই অবকাঠামো বন দখলের পথকে আরও সুগম করে তুলবে। সড়কটি নির্মিত হলে দুই ইউনিয়নের মধ্যকার দূরত্ব কমবে—স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ এমন যুক্তি দিয়েছে; কিন্তু কারা এর সুবিধাভোগী হবেন এবং এর বিনিময়ে পরিবেশের কী ক্ষতি হবে, সেটা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না।

সংরক্ষিত বনাঞ্চল দখল করে গড়ে ওঠা বসতির জন্য সরকারি অর্থে সড়ক নির্মাণ করা হলে তা অবৈধ দখলদারদের এক প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা দেওয়ার নামান্তর। এটি এমন এক ভুল বার্তা দেয় যে, সরকারি জমি দখল করে রাখলে কালক্রমে নাগরিক সুবিধাও পাওয়া সম্ভব। এর ফলে বনাঞ্চল দখলের প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাবে, যা বন সংরক্ষণের মূল উদ্দেশ্যকে নস্যাৎ করে দেয়। এতে এই বার্তাই দেওয়া হবে যে সরকারি জমি কিংবা বনভূমি দখল করে দীর্ঘদিন অবস্থান করতে পারলে একসময় সেখানে সড়ক, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা পৌঁছে যায়। এর ফলে বর্তমান দখলদারেরা উৎসাহিত হওয়ার পাশাপাশি নতুন করে বন দখলের প্রবণতাও বাড়বে।

মহেশখালী দ্বীপের পাহাড়ি বন শুধু গাছপালার ভাণ্ডার নয়, এটি চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, পাহাড়ি কচ্ছপ, মুখপোড়া হনুমান এবং অজগরসহ অসংখ্য বন্য প্রাণীর প্রাকৃতিক আবাসস্থল। দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা এই বাস্তুতন্ত্রের মাঝখানে প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করা হলে বন্য প্রাণীর চলাচলের পথ খণ্ডিত হবে। সেই সঙ্গে যানবাহনের চাপ ও মানুষের অবাধ বিচরণ বাড়লে সংরক্ষিত বনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। মহেশখালী দেশের একমাত্র পাহাড়ি বনসমৃদ্ধ দ্বীপ। প্রাকৃতিক বন, পাহাড়ি ছড়া, জলাধার, উদ্ভিদ, কীটপতঙ্গ ও মাটির অণুজীবের পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময়ে এই বাস্তুতন্ত্র গড়ে উঠেছে।

বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন-২০২৬ অনুযায়ী, প্রাকৃতিক বনকে বনবিরোধী বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার সুযোগ নেই। জাতীয় নীতি এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষিত বনে সড়ক নির্মাণ আইনত নিষিদ্ধ। এছাড়া সংবিধানের ১৮(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। অথচ আইনি নিষেধাজ্ঞা ও মামলার তথ্য জানার পরও নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখা আইনের প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শনের শামিল। আদালতের লিখিত আদেশের অজুহাতে কাজ চালিয়ে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তাই অবিলম্বে এই প্রকল্প বাতিল করে সংরক্ষিত বনভূমি উদ্ধারে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। বিদ্যমান দখলদারদের সুবিধা বাড়ানোর পরিবর্তে বনভূমি উদ্ধার ও পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা নিতে হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা: ওসি জাহাঙ্গীর প্রত্যাহার, রদবদল পুলিশে

মহেশখালীর সংরক্ষিত বনে সড়ক নির্মাণ বন্ধের দাবি

আপডেট সময় ০৯:১১:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কক্সবাজারের মহেশখালীর সংরক্ষিত বনভূমির মধ্য দিয়ে ২২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক নির্মাণের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের দাবি অনুযায়ী, এই সড়ক নির্মিত হলে দুটি ইউনিয়নের মধ্যে যোগাযোগ সহজ হবে। কিন্তু এই প্রকল্পের আড়ালে বনভূমির পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। বন বিভাগের তথ্যমতে, সংরক্ষিত এলাকায় অবৈধভাবে বসবাসকারী চার হাজারেরও বেশি মানুষ এই সড়কের সুবিধা ভোগ করবে। মূলত সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই অবকাঠামো বন দখলের পথকে আরও সুগম করে তুলবে। সড়কটি নির্মিত হলে দুই ইউনিয়নের মধ্যকার দূরত্ব কমবে—স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ এমন যুক্তি দিয়েছে; কিন্তু কারা এর সুবিধাভোগী হবেন এবং এর বিনিময়ে পরিবেশের কী ক্ষতি হবে, সেটা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না।

সংরক্ষিত বনাঞ্চল দখল করে গড়ে ওঠা বসতির জন্য সরকারি অর্থে সড়ক নির্মাণ করা হলে তা অবৈধ দখলদারদের এক প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা দেওয়ার নামান্তর। এটি এমন এক ভুল বার্তা দেয় যে, সরকারি জমি দখল করে রাখলে কালক্রমে নাগরিক সুবিধাও পাওয়া সম্ভব। এর ফলে বনাঞ্চল দখলের প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাবে, যা বন সংরক্ষণের মূল উদ্দেশ্যকে নস্যাৎ করে দেয়। এতে এই বার্তাই দেওয়া হবে যে সরকারি জমি কিংবা বনভূমি দখল করে দীর্ঘদিন অবস্থান করতে পারলে একসময় সেখানে সড়ক, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা পৌঁছে যায়। এর ফলে বর্তমান দখলদারেরা উৎসাহিত হওয়ার পাশাপাশি নতুন করে বন দখলের প্রবণতাও বাড়বে।

মহেশখালী দ্বীপের পাহাড়ি বন শুধু গাছপালার ভাণ্ডার নয়, এটি চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, পাহাড়ি কচ্ছপ, মুখপোড়া হনুমান এবং অজগরসহ অসংখ্য বন্য প্রাণীর প্রাকৃতিক আবাসস্থল। দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা এই বাস্তুতন্ত্রের মাঝখানে প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করা হলে বন্য প্রাণীর চলাচলের পথ খণ্ডিত হবে। সেই সঙ্গে যানবাহনের চাপ ও মানুষের অবাধ বিচরণ বাড়লে সংরক্ষিত বনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। মহেশখালী দেশের একমাত্র পাহাড়ি বনসমৃদ্ধ দ্বীপ। প্রাকৃতিক বন, পাহাড়ি ছড়া, জলাধার, উদ্ভিদ, কীটপতঙ্গ ও মাটির অণুজীবের পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময়ে এই বাস্তুতন্ত্র গড়ে উঠেছে।

বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন-২০২৬ অনুযায়ী, প্রাকৃতিক বনকে বনবিরোধী বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার সুযোগ নেই। জাতীয় নীতি এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষিত বনে সড়ক নির্মাণ আইনত নিষিদ্ধ। এছাড়া সংবিধানের ১৮(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। অথচ আইনি নিষেধাজ্ঞা ও মামলার তথ্য জানার পরও নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখা আইনের প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শনের শামিল। আদালতের লিখিত আদেশের অজুহাতে কাজ চালিয়ে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তাই অবিলম্বে এই প্রকল্প বাতিল করে সংরক্ষিত বনভূমি উদ্ধারে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। বিদ্যমান দখলদারদের সুবিধা বাড়ানোর পরিবর্তে বনভূমি উদ্ধার ও পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা নিতে হবে।