ঢাকা ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

ধামরাইয়ে স্বামীর মারধরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু, স্বামী গ্রেপ্তার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকার ধামরাইয়ে পারিবারিক কলহের জেরে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ পপি রাণী সরকার ওরফে সোমা (২৭)কে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী লিটন সরকারের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

রোববার রাত ১০টার দিকে উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের গোমগ্রাম এলাকা থেকে পপি রাণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সোমবার সকালে আটক লিটন সরকারকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গোমগ্রাম এলাকার মৃত নরেশ সরকারের ছেলে অটোরিকশাচালক লিটন সরকার প্রায় আট বছর আগে একই ইউনিয়নের দেলুটিয়া গ্রামের পরিমল সরকারের মেয়ে পপি রাণীকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর লিটন মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন এবং প্রায়ই স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।

রোববার দুপুরে পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে তাদের সাত বছরের সন্তানের সামনেই লিটন লাঠি দিয়ে পপি রাণীকে মারধর করেন । একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে বাথরুমের সামনে ফেলে রেখে লিটন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান।

পরে সন্ধ্যায় পপির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে লিটন স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে কালামপুর হলি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাত ৮টার দিকে লাশ বাড়িতে নিয়ে এলে স্থানীয়রা লিটনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।

নিহতের বাবা পরিমল সরকার অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়ের ওপর নির্যাতন চালাতেন লিটন। এর আগেও মারধর করে একটি সেতুর নিচে ফেলে দিয়েছিলেন। প্রতিবার ক্ষমা চেয়ে মেয়েকে আবার বাড়িতে নিয়ে যেতেন। এবার অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মারধর করে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি এ ঘটনার বিচার ও অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিকভাবে নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। নিহতের বাবা থানায় মামলা করেছেন। আটক লিটন সরকারকে সোমবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ধামরাইয়ে স্বামীর মারধরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু, স্বামী গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ১২:১০:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকার ধামরাইয়ে পারিবারিক কলহের জেরে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ পপি রাণী সরকার ওরফে সোমা (২৭)কে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী লিটন সরকারের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

রোববার রাত ১০টার দিকে উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের গোমগ্রাম এলাকা থেকে পপি রাণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সোমবার সকালে আটক লিটন সরকারকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গোমগ্রাম এলাকার মৃত নরেশ সরকারের ছেলে অটোরিকশাচালক লিটন সরকার প্রায় আট বছর আগে একই ইউনিয়নের দেলুটিয়া গ্রামের পরিমল সরকারের মেয়ে পপি রাণীকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর লিটন মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন এবং প্রায়ই স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।

রোববার দুপুরে পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে তাদের সাত বছরের সন্তানের সামনেই লিটন লাঠি দিয়ে পপি রাণীকে মারধর করেন । একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে বাথরুমের সামনে ফেলে রেখে লিটন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান।

পরে সন্ধ্যায় পপির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে লিটন স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে কালামপুর হলি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাত ৮টার দিকে লাশ বাড়িতে নিয়ে এলে স্থানীয়রা লিটনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।

নিহতের বাবা পরিমল সরকার অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়ের ওপর নির্যাতন চালাতেন লিটন। এর আগেও মারধর করে একটি সেতুর নিচে ফেলে দিয়েছিলেন। প্রতিবার ক্ষমা চেয়ে মেয়েকে আবার বাড়িতে নিয়ে যেতেন। এবার অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মারধর করে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি এ ঘটনার বিচার ও অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিকভাবে নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। নিহতের বাবা থানায় মামলা করেছেন। আটক লিটন সরকারকে সোমবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।