ঢাকা ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা নিতে রাজি মিয়ানমার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত আরও ৫ হাজার রোহিঙ্গাকেও প্রথম ধাপে ফেরত নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে সাম্প্রতিক দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ফলেই এ সমঝোতা সম্ভব হয়েছে। তবে বাংলাদেশে থাকা ৩ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টুডের বরাতে তিনি বলেন, অনেকে বলে তাদের ফেরত পাঠাতে। কিন্তু কোথায় পাঠাব? মিয়ানমার তো এতদিন তাদের নিতে চাইত না। তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। এখন তারা প্রথম ধাপে ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিপীড়ন ও সহিংসতার মুখে পালিয়ে আসা লাখো রোহিঙ্গা বর্তমানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রোহিঙ্গা শরণার্থী জনগোষ্ঠীর বসবাস, যেখানে ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রিত রয়েছে।

আনোয়ার বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজতে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তিনি এ সমঝোতাকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও মানবিক সংকট নিরসনের পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এদিকে, ঘোষণাটি এমন সময় এলো যখন সম্প্রতি মালয়েশিয়ার পেনাং রাজ্যের একটি বসতি ছেড়ে শতাধিক রোহিঙ্গা কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়। পরে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ তাদের কুয়ালালামপুর, সেলাঙ্গর ও পেনাংয়ের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নের পর থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা দেশত্যাগে বাধ্য হয়। তাদের অধিকাংশ বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়, আর অনেকে জীবনঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা নিতে রাজি মিয়ানমার

আপডেট সময় ০৫:৪০:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত আরও ৫ হাজার রোহিঙ্গাকেও প্রথম ধাপে ফেরত নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে সাম্প্রতিক দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ফলেই এ সমঝোতা সম্ভব হয়েছে। তবে বাংলাদেশে থাকা ৩ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টুডের বরাতে তিনি বলেন, অনেকে বলে তাদের ফেরত পাঠাতে। কিন্তু কোথায় পাঠাব? মিয়ানমার তো এতদিন তাদের নিতে চাইত না। তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। এখন তারা প্রথম ধাপে ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিপীড়ন ও সহিংসতার মুখে পালিয়ে আসা লাখো রোহিঙ্গা বর্তমানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রোহিঙ্গা শরণার্থী জনগোষ্ঠীর বসবাস, যেখানে ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রিত রয়েছে।

আনোয়ার বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজতে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তিনি এ সমঝোতাকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও মানবিক সংকট নিরসনের পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এদিকে, ঘোষণাটি এমন সময় এলো যখন সম্প্রতি মালয়েশিয়ার পেনাং রাজ্যের একটি বসতি ছেড়ে শতাধিক রোহিঙ্গা কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়। পরে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ তাদের কুয়ালালামপুর, সেলাঙ্গর ও পেনাংয়ের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নের পর থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা দেশত্যাগে বাধ্য হয়। তাদের অধিকাংশ বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়, আর অনেকে জীবনঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়।