ঢাকা ১১:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

দুই গ্রামের সংঘর্ষে আহত ৪০, নদী থেকে নারীর টেঁটাবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চর দখল নিয়ে পূ্র্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার তিতাস ও মেঘনা উপজেলার দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষে কোহিনুর বেগম (৩৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর মেঘনা নদী থেকে তার টেঁটাবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। তাদের অধিকাংশই টেঁটাবিদ্ধ হয়েছেন।

আজ রোববার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত মেঘনা উপজেলার চরবিনতপুর গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে তিতাস উপজেলার চরভাটেরা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। তবে এই সংঘর্ষে চরবিনতপুরের পরে আলীপুর গ্রামের বাসিন্দারা যোগ দেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে আহতদের তিতাস ও মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহত কোহিনুর বেগম মেঘনা উপজেলার আলীপুর গ্রামের ট্রলারচালক কাবিল মিয়ার স্ত্রী।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে তিতাসের চরভাটেরা গ্রামের প্রবাসী মো. শাহবাজ ও মজনু মিয়া ব্যক্তিগত কাজে মেঘনা উপজেলায় যান। সেখানে চরবিনতপুর গ্রামের আলী আকবর ও তার লোকজন তাদের মারধর করে আটকে রাখেন। বিষয়টি জানতে পেরে চরভাটেরা গ্রামের লোকজন সেখানে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিকেলে আলীপুর ও চরবিনতপুর গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে চরভাটেরা গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে উভয়পক্ষের প্রায় ৪০ জন আহত হন। তিতাসের ১৫ জন এবং মেঘনার ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

আহতদের মধ্যে চরবিনতপুরের স্বপন মিয়া (২৭), সাগর মিয়া (৪০) এবং চরভাটেরার জসিম উদ্দিনকে (৩৫) গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে সংঘর্ষের পর আলীপুর এলাকায় মেঘনা নদীতে টেঁটাবিদ্ধ এক নারীর লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে লাশটি উদ্ধার করে আলীপুর গ্রামের ট্রলারচালক কাবিল মিয়ার স্ত্রী কোহিনুর বেগমের বলে শনাক্ত করা হয়।

চরবিনতপুর গ্রামের আলী আকবর অভিযোগ করেন, চরভাটেরার শাহ আলম মেম্বারের নেতৃত্বে তিতাসের লোকজন তাদের গ্রামে হামলা চালিয়েছে। এতে প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। হামলার সময় শতাধিক বাড়িতে লুটপাট, নারীদের কানের দুল খুলে নেওয়া এবং গরু নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চরভাটেরা গ্রামের শাহ আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

তিতাস থানার ওসি মো. মমিরুল হক বলেন, ঘটনার পর তিতাস থানা থেকে ২৫ জন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টার পর তিতাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।

মেঘনা থানার ওসি মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষে ১৫ থেকে ১৬ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, মেঘনা নদীর এপারে তিতাস উপজেলা এবং ওপারে মেঘনা উপজেলা। দুই উপজেলার সীমানা-সংলগ্ন চর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এর আগে গত ১৫ জুনও দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন এবং বেশ কিছু বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দুই গ্রামের সংঘর্ষে আহত ৪০, নদী থেকে নারীর টেঁটাবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

আপডেট সময় ০৭:৩০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চর দখল নিয়ে পূ্র্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার তিতাস ও মেঘনা উপজেলার দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষে কোহিনুর বেগম (৩৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর মেঘনা নদী থেকে তার টেঁটাবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। তাদের অধিকাংশই টেঁটাবিদ্ধ হয়েছেন।

আজ রোববার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত মেঘনা উপজেলার চরবিনতপুর গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে তিতাস উপজেলার চরভাটেরা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। তবে এই সংঘর্ষে চরবিনতপুরের পরে আলীপুর গ্রামের বাসিন্দারা যোগ দেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে আহতদের তিতাস ও মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহত কোহিনুর বেগম মেঘনা উপজেলার আলীপুর গ্রামের ট্রলারচালক কাবিল মিয়ার স্ত্রী।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে তিতাসের চরভাটেরা গ্রামের প্রবাসী মো. শাহবাজ ও মজনু মিয়া ব্যক্তিগত কাজে মেঘনা উপজেলায় যান। সেখানে চরবিনতপুর গ্রামের আলী আকবর ও তার লোকজন তাদের মারধর করে আটকে রাখেন। বিষয়টি জানতে পেরে চরভাটেরা গ্রামের লোকজন সেখানে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিকেলে আলীপুর ও চরবিনতপুর গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে চরভাটেরা গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে উভয়পক্ষের প্রায় ৪০ জন আহত হন। তিতাসের ১৫ জন এবং মেঘনার ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

আহতদের মধ্যে চরবিনতপুরের স্বপন মিয়া (২৭), সাগর মিয়া (৪০) এবং চরভাটেরার জসিম উদ্দিনকে (৩৫) গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে সংঘর্ষের পর আলীপুর এলাকায় মেঘনা নদীতে টেঁটাবিদ্ধ এক নারীর লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে লাশটি উদ্ধার করে আলীপুর গ্রামের ট্রলারচালক কাবিল মিয়ার স্ত্রী কোহিনুর বেগমের বলে শনাক্ত করা হয়।

চরবিনতপুর গ্রামের আলী আকবর অভিযোগ করেন, চরভাটেরার শাহ আলম মেম্বারের নেতৃত্বে তিতাসের লোকজন তাদের গ্রামে হামলা চালিয়েছে। এতে প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। হামলার সময় শতাধিক বাড়িতে লুটপাট, নারীদের কানের দুল খুলে নেওয়া এবং গরু নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চরভাটেরা গ্রামের শাহ আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

তিতাস থানার ওসি মো. মমিরুল হক বলেন, ঘটনার পর তিতাস থানা থেকে ২৫ জন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টার পর তিতাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।

মেঘনা থানার ওসি মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষে ১৫ থেকে ১৬ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, মেঘনা নদীর এপারে তিতাস উপজেলা এবং ওপারে মেঘনা উপজেলা। দুই উপজেলার সীমানা-সংলগ্ন চর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এর আগে গত ১৫ জুনও দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন এবং বেশ কিছু বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়।