ঢাকা ০৮:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

বাবার দাফন শেষ করে বাড়ি ফেরার সময় তুজাম পেলেন মেয়ের মৃত্যুর খবর

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবার জানাজা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন করে কবরস্থান থেকে বাড়ি ফিরছিলেন বাবা তুজাম উদ্দিন। ঠিক সেই মুহূর্তে মুঠোফোনে পেলেন তার ২০ বছর বয়সী মেয়ে মুন্নির মৃত্যুর খবর। মাত্র ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে বাবা ও মেয়েকে হারিয়ে এখন দিশেহারা তুজামের পরিবার। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় স্তব্ধ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পূর্বপাড়া গ্রাম।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। একই দিনে একই কবরস্থানে দাদা ও নাতনিকে চিরনিদ্রায় শায়িত করার দৃশ্য দেখে বাকরুদ্ধ এলাকাবাসী।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুর সদর ইউনিয়নের উপজেলা পরিষদ লাগোয়া পূর্বপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ফুলবাস আলী (৭৪) বার্ধক্যজনিত কারণে শুক্রবার বিকেলে মৃত্যুবরণ করেন। শনিবার সকাল ১০টায় মানিকদিয়ার কবরস্থানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাসের উপস্থিতিতে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।

কিন্তু শোকের আবহ শেষ হতে না হতেই পরিবারটি পায় দ্বিতীয় আঘাত। দাদার প্রিয় নাতনি মুন্নি খাতুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিয়ের আগ পর্যন্ত দাদার সব দেখভাল করতেন মুন্নিই। শুক্রবার গভীর রাতে দাদাকে হারিয়ে মরদেহের পাশে বসে অনবরত বিলাপ করছিলেন তিনি। বিলাপের একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারালে তাকে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে শনিবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সময় মারা যান।

নিহতের স্বজন সাইদুল ইসলাম বলেন, চাচা ফুলবাস আলীর দাফনের পর বাড়ি ফিরতেই ভাতিজি মুন্নির মৃত্যুর খবর পেলাম। এমন শোকের ভার যেন কোনো পরিবারকে কখনো বহন করতে না হয়।

মুন্নির বাবা তুজাম উদ্দিন বলেন, প্রায় এক বছর আগে দৌলতপুর থানাপাড়া গ্রামের মোস্তাকের সঙ্গে মুন্নির বিয়ে হয়। তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন এবং কিছুদিন ধরে টাইফয়েডে ভুগছিলেন। শোকের ধাক্কায় শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে তার। একই দিন (শনিবার) বিকেল সাড়ে ৩টায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ফুলবাস আলীর কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় নাতনি মুন্নি খাতুনকে।

গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, সকালে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শেষ বিদায় জানিয়েছি। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তার নাতনির মৃত্যুসংবাদ পুরো গ্রামকে কাঁদিয়েছে। একই দিনে দাদা-নাতনির এভাবে চলে যাওয়া আর পাশাপাশি দাফনের এমন নির্মম দৃশ্য আমরা কখনো দেখিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাবার দাফন শেষ করে বাড়ি ফেরার সময় তুজাম পেলেন মেয়ের মৃত্যুর খবর

আপডেট সময় ০৮:১০:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবার জানাজা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন করে কবরস্থান থেকে বাড়ি ফিরছিলেন বাবা তুজাম উদ্দিন। ঠিক সেই মুহূর্তে মুঠোফোনে পেলেন তার ২০ বছর বয়সী মেয়ে মুন্নির মৃত্যুর খবর। মাত্র ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে বাবা ও মেয়েকে হারিয়ে এখন দিশেহারা তুজামের পরিবার। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় স্তব্ধ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পূর্বপাড়া গ্রাম।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। একই দিনে একই কবরস্থানে দাদা ও নাতনিকে চিরনিদ্রায় শায়িত করার দৃশ্য দেখে বাকরুদ্ধ এলাকাবাসী।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুর সদর ইউনিয়নের উপজেলা পরিষদ লাগোয়া পূর্বপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ফুলবাস আলী (৭৪) বার্ধক্যজনিত কারণে শুক্রবার বিকেলে মৃত্যুবরণ করেন। শনিবার সকাল ১০টায় মানিকদিয়ার কবরস্থানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাসের উপস্থিতিতে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।

কিন্তু শোকের আবহ শেষ হতে না হতেই পরিবারটি পায় দ্বিতীয় আঘাত। দাদার প্রিয় নাতনি মুন্নি খাতুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিয়ের আগ পর্যন্ত দাদার সব দেখভাল করতেন মুন্নিই। শুক্রবার গভীর রাতে দাদাকে হারিয়ে মরদেহের পাশে বসে অনবরত বিলাপ করছিলেন তিনি। বিলাপের একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারালে তাকে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে শনিবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সময় মারা যান।

নিহতের স্বজন সাইদুল ইসলাম বলেন, চাচা ফুলবাস আলীর দাফনের পর বাড়ি ফিরতেই ভাতিজি মুন্নির মৃত্যুর খবর পেলাম। এমন শোকের ভার যেন কোনো পরিবারকে কখনো বহন করতে না হয়।

মুন্নির বাবা তুজাম উদ্দিন বলেন, প্রায় এক বছর আগে দৌলতপুর থানাপাড়া গ্রামের মোস্তাকের সঙ্গে মুন্নির বিয়ে হয়। তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন এবং কিছুদিন ধরে টাইফয়েডে ভুগছিলেন। শোকের ধাক্কায় শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে তার। একই দিন (শনিবার) বিকেল সাড়ে ৩টায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ফুলবাস আলীর কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় নাতনি মুন্নি খাতুনকে।

গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, সকালে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শেষ বিদায় জানিয়েছি। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তার নাতনির মৃত্যুসংবাদ পুরো গ্রামকে কাঁদিয়েছে। একই দিনে দাদা-নাতনির এভাবে চলে যাওয়া আর পাশাপাশি দাফনের এমন নির্মম দৃশ্য আমরা কখনো দেখিনি।