ঢাকা ০৯:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মৃত্যুর মুহূর্তে রূহ বের হওয়ার সময় কী ঘটে?

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মৃত্যু এমন এক অবশ্যম্ভাবী সত্য, যা থেকে পৃথিবীর কোনো মানুষ রেহাই পাবে না। একদিন সব সম্পর্ক, সম্পদ ও পরিচয় পেছনে ফেলে প্রত্যেককেই একাকি রবের সামনে উপস্থিত হতে হবে। তাই মৃত্যুর মুহূর্ত কেমন হবে— এ প্রশ্ন মানুষের মনে সব সময়ই জাগে। কুরআন ও সহিহ হাদিস আমাদের জানিয়েছে, সেই মুহূর্তে মুমিন ও পাপাচারী মানুষের অবস্থা এক রকম হবে না। কারও জন্য মৃত্যু হবে শান্তি ও সুসংবাদের সূচনা, আবার কারও জন্য হবে কঠিন ও ভয়াবহ এক যাত্রার শুরু।

রূহ বের হওয়ার সময় কী ঘটে?

ইসলামের বর্ণনা অনুযায়ী, মৃত্যুর সময় ফেরেশতারা আল্লাহর নির্দেশে মানুষের রূহ কবজ করেন। নেককার বান্দার রূহ অত্যন্ত কোমলভাবে বের করে নেওয়া হয়, আর অবাধ্য ও পাপাচারীর রূহ কঠিনভাবে টেনে বের করা হয়।

অনেক মানুষ জানতে চান, রূহ বের হওয়ার সময় শরীরের কোন অংশে সবচেয়ে বেশি কষ্ট অনুভূত হয়। কুরআন ও সহিহ হাদিসে শরীরের কোনো নির্দিষ্ট অংশ—যেমন বুক থেকে গলা পর্যন্ত—সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় বলে উল্লেখ নেই। তবে কুরআনে মৃত্যুর সময় প্রাণ গলায় এসে পৌঁছানোর দৃশ্য অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে, যা মৃত্যুর কঠিন বাস্তবতাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

কুরআনের আলোকে মৃত্যুর মুহূর্ত-

১. প্রাণ যখন কণ্ঠনালীতে পৌঁছে যায়:

كَلَّا إِذَا بَلَغَتِ التَّرَاقِيَ ۝ وَقِيلَ مَنْ ۜ رَاقٍ ۝ وَظَنَّ أَنَّهُ الْفِرَاقُ

‘কখনো নয়! যখন প্রাণ কণ্ঠনালীতে এসে পৌঁছাবে, তখন বলা হবে, কে আছে ঝাড়ফুঁককারী? আর সে নিশ্চিত বুঝে নেবে যে, এটাই বিদায়ের সময়।’ (সুরা আল-কিয়ামাহ: আয়াত ২৬–২৮)

২. মৃত্যুযন্ত্রণা অবশ্যম্ভাবী:

وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ۖ ذَٰلِكَ مَا كُنتَ مِنْهُ تَحِيدُ

‘মৃত্যুযন্ত্রণা অবশ্যই সত্যসহ উপস্থিত হবে। এটাই সেই বিষয়, যেখান থেকে তুমি পালিয়ে বেড়াতে।’ (সুরা ক্বাফ: আয়াত ১৯)

সহিহ হাদিসে মুমিন ও পাপাচারীর রূহ বের হওয়ার বর্ণনা:

রাসুলুল্লাহ (সা.) মৃত্যুর সময় মুমিন ও কাফিরের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন—

فَتَخْرُجُ تَسِيلُ كَمَا تَسِيلُ الْقَطْرَةُ مِنْ فِي السِّقَاءِ

‘মুমিনের রূহ এমন সহজে বের হয়ে আসে, যেমন পানির মশক থেকে পানির ফোঁটা সহজে বেরিয়ে আসে।’

আর অবিশ্বাসী বা পাপাচারীর রূহ সম্পর্কে তিনি বলেন—

كَالسَّفُّودِ يُنْتَزَعُ مِنَ الصُّوفِ الْمَبْلُولِ

‘তার রূহ এমনভাবে টেনে বের করা হয়, যেমন ভেজা পশমের ভেতর থেকে লোহার কাঁটাযুক্ত শিক টেনে বের করা হয়।’ (মুসনাদ আহমদ ১৮৫৩৪, আবু দাউদ ৪৭৫৩)

এই আলোচনা থেকে আমাদের শিক্ষা:

#মৃত্যু অবধারিত; তাই এর জন্য প্রস্তুতি নেওয়াই একজন মুমিনের কর্তব্য।
#নেক আমল ও আন্তরিক তওবা মৃত্যুর সময় আল্লাহর রহমত লাভের অন্যতম কারণ।
#পাপের ওপর অটল থাকা মৃত্যুর সময় কঠিন পরিণতির কারণ হতে পারে।
#কুরআন ও সহিহ হাদিসে যা নেই, তা নিশ্চিত ইসলামী তথ্য হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়।
#মৃত্যুর কথা স্মরণ করা মানুষকে দুনিয়ার মোহ থেকে দূরে রেখে আখিরাতের প্রস্তুতিতে উদ্বুদ্ধ করে।

মৃত্যু কোনো সমাপ্তি নয়; বরং অনন্ত জীবনের সূচনা। তাই আমাদের প্রকৃত চিন্তা হওয়া উচিত— রূহ শরীরের কোন অংশ দিয়ে বের হবে বা কোথায় বেশি কষ্ট হবে, তা নয়; বরং মৃত্যুর মুহূর্তে আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনকারী বান্দা হিসেবে বিদায় নিতে পারব কি না। আসুন, নিয়মিত নামাজ, তওবা, কুরআন তিলাওয়াত, সৎকর্ম এবং মানুষের হক আদায়ের মাধ্যমে সেই চূড়ান্ত সফরের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে ঈমানের সঙ্গে, সহজ ও কল্যাণময় মৃত্যু দান করুন এবং উত্তম পরিণতি নসিব করুন। আমিন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

মৃত্যুর মুহূর্তে রূহ বের হওয়ার সময় কী ঘটে?

আপডেট সময় ০৭:৩০:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মৃত্যু এমন এক অবশ্যম্ভাবী সত্য, যা থেকে পৃথিবীর কোনো মানুষ রেহাই পাবে না। একদিন সব সম্পর্ক, সম্পদ ও পরিচয় পেছনে ফেলে প্রত্যেককেই একাকি রবের সামনে উপস্থিত হতে হবে। তাই মৃত্যুর মুহূর্ত কেমন হবে— এ প্রশ্ন মানুষের মনে সব সময়ই জাগে। কুরআন ও সহিহ হাদিস আমাদের জানিয়েছে, সেই মুহূর্তে মুমিন ও পাপাচারী মানুষের অবস্থা এক রকম হবে না। কারও জন্য মৃত্যু হবে শান্তি ও সুসংবাদের সূচনা, আবার কারও জন্য হবে কঠিন ও ভয়াবহ এক যাত্রার শুরু।

রূহ বের হওয়ার সময় কী ঘটে?

ইসলামের বর্ণনা অনুযায়ী, মৃত্যুর সময় ফেরেশতারা আল্লাহর নির্দেশে মানুষের রূহ কবজ করেন। নেককার বান্দার রূহ অত্যন্ত কোমলভাবে বের করে নেওয়া হয়, আর অবাধ্য ও পাপাচারীর রূহ কঠিনভাবে টেনে বের করা হয়।

অনেক মানুষ জানতে চান, রূহ বের হওয়ার সময় শরীরের কোন অংশে সবচেয়ে বেশি কষ্ট অনুভূত হয়। কুরআন ও সহিহ হাদিসে শরীরের কোনো নির্দিষ্ট অংশ—যেমন বুক থেকে গলা পর্যন্ত—সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় বলে উল্লেখ নেই। তবে কুরআনে মৃত্যুর সময় প্রাণ গলায় এসে পৌঁছানোর দৃশ্য অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে, যা মৃত্যুর কঠিন বাস্তবতাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

কুরআনের আলোকে মৃত্যুর মুহূর্ত-

১. প্রাণ যখন কণ্ঠনালীতে পৌঁছে যায়:

كَلَّا إِذَا بَلَغَتِ التَّرَاقِيَ ۝ وَقِيلَ مَنْ ۜ رَاقٍ ۝ وَظَنَّ أَنَّهُ الْفِرَاقُ

‘কখনো নয়! যখন প্রাণ কণ্ঠনালীতে এসে পৌঁছাবে, তখন বলা হবে, কে আছে ঝাড়ফুঁককারী? আর সে নিশ্চিত বুঝে নেবে যে, এটাই বিদায়ের সময়।’ (সুরা আল-কিয়ামাহ: আয়াত ২৬–২৮)

২. মৃত্যুযন্ত্রণা অবশ্যম্ভাবী:

وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ۖ ذَٰلِكَ مَا كُنتَ مِنْهُ تَحِيدُ

‘মৃত্যুযন্ত্রণা অবশ্যই সত্যসহ উপস্থিত হবে। এটাই সেই বিষয়, যেখান থেকে তুমি পালিয়ে বেড়াতে।’ (সুরা ক্বাফ: আয়াত ১৯)

সহিহ হাদিসে মুমিন ও পাপাচারীর রূহ বের হওয়ার বর্ণনা:

রাসুলুল্লাহ (সা.) মৃত্যুর সময় মুমিন ও কাফিরের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন—

فَتَخْرُجُ تَسِيلُ كَمَا تَسِيلُ الْقَطْرَةُ مِنْ فِي السِّقَاءِ

‘মুমিনের রূহ এমন সহজে বের হয়ে আসে, যেমন পানির মশক থেকে পানির ফোঁটা সহজে বেরিয়ে আসে।’

আর অবিশ্বাসী বা পাপাচারীর রূহ সম্পর্কে তিনি বলেন—

كَالسَّفُّودِ يُنْتَزَعُ مِنَ الصُّوفِ الْمَبْلُولِ

‘তার রূহ এমনভাবে টেনে বের করা হয়, যেমন ভেজা পশমের ভেতর থেকে লোহার কাঁটাযুক্ত শিক টেনে বের করা হয়।’ (মুসনাদ আহমদ ১৮৫৩৪, আবু দাউদ ৪৭৫৩)

এই আলোচনা থেকে আমাদের শিক্ষা:

#মৃত্যু অবধারিত; তাই এর জন্য প্রস্তুতি নেওয়াই একজন মুমিনের কর্তব্য।
#নেক আমল ও আন্তরিক তওবা মৃত্যুর সময় আল্লাহর রহমত লাভের অন্যতম কারণ।
#পাপের ওপর অটল থাকা মৃত্যুর সময় কঠিন পরিণতির কারণ হতে পারে।
#কুরআন ও সহিহ হাদিসে যা নেই, তা নিশ্চিত ইসলামী তথ্য হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়।
#মৃত্যুর কথা স্মরণ করা মানুষকে দুনিয়ার মোহ থেকে দূরে রেখে আখিরাতের প্রস্তুতিতে উদ্বুদ্ধ করে।

মৃত্যু কোনো সমাপ্তি নয়; বরং অনন্ত জীবনের সূচনা। তাই আমাদের প্রকৃত চিন্তা হওয়া উচিত— রূহ শরীরের কোন অংশ দিয়ে বের হবে বা কোথায় বেশি কষ্ট হবে, তা নয়; বরং মৃত্যুর মুহূর্তে আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনকারী বান্দা হিসেবে বিদায় নিতে পারব কি না। আসুন, নিয়মিত নামাজ, তওবা, কুরআন তিলাওয়াত, সৎকর্ম এবং মানুষের হক আদায়ের মাধ্যমে সেই চূড়ান্ত সফরের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে ঈমানের সঙ্গে, সহজ ও কল্যাণময় মৃত্যু দান করুন এবং উত্তম পরিণতি নসিব করুন। আমিন।