ঢাকা ১২:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ফুলকোর্ট সভায় সুপ্রিম কোর্টের বিবৃতি প্রসঙ্গ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ও ছুটি নেয়ার প্রেক্ষাপট নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের দেয়া বিবৃতির বিষয়ে সকল বিচারপতিকে অবহিত করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা। তিনি বলেন, যেহেতু প্রধান বিচারপতি বিদেশে যাবার সময় একটি বিবৃতি দিয়ে যান তাই সুপ্রিম কোর্ট পরে একটি বিবৃতি দিয়ে পুরো বিষয়টি পরিস্কার করেছে।

সোমবার বিকেল ৪টা থেকে প্রায় পৌণে এক ঘণ্টা ধরে সুপ্রিম কোর্টের ফুলকোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হয়। ফুলকোর্ট সভায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার হাইকোর্ট বিভাগের দুই বিচারপতি প্রতিনিধিসহ আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির দীর্ঘ বৈঠকের পর সুপ্রিম কোর্ট ওই বিবৃতিটি দিয়েছিল। তবে, হাইকোর্টের বেশিরভাগ বিচারপতি সরাসরি বিৃবতিটির বিষয়ে জানতেন না বলে ফুলকোর্ট সভায় তাদেরকে বিষয়টি অবহিত করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি।

বিবৃতি বলা হয়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ছাড়া আপিল বিভাগের অন্য পাঁচ বিচারপতিকে বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানান। বিদেশে থাকায় মোঃ ইমান আলী ছাড়া আপিল বিভাগের চার বিচারপতি-আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এবং মির্জা হোসেইন হায়দার এতে যোগ দেন।

আলোচনার এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্বলিত দালিলিক তথ্য উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপতি। এর মধ্যে আছে বিদেশে অর্থ পাচার, দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম এবং নৈতিক স্খলন।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের পর বিচারপতি মোঃ ইমান আলী দেশে ফিরে আসার পর ১ অক্টোবর আপিল বিভাগের ৫ বিচারপতি বৈঠকে মিলিত হন এবং প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে যে ১১টি অভিযোগ সেগুলো বিশদভাবে পর্যালোচনা করেন। সিদ্ধান্ত হয় যে, গুরুতর অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রধান বিচারপতিকে অবহিত করা হবে। তিনি যদি ওই অভিযোগগুলোর বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব বা সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হন তাহলে তার সঙ্গে বিচারালয়ে বসে বিচারকার্য পরিচালনা সম্ভব হবে না।

ওইদিনই বেলা ১১:৩০টার দিকে প্রধান বিচারপতির অনুমতি নিয়ে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার হেয়ার রোডের বাসায় দেখা করে অভিযোগগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। সুপ্রিম কোর্টের বিবৃতি অনুযায়ী, দীর্ঘ আলোচনার পরও প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি কোন গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা বা সদুত্তর পাননি। তখন তারা জানিয়ে দেন, অভিযোগগুলোর বিষয়ে সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির সঙ্গে একই বেঞ্চে বসে তাদের পক্ষে বিচারকাজ পরিচালনা সম্ভব হবে না।

প্রধান বিচারপতি তখন সুস্পষ্টভাবে বলেন, সেক্ষেত্রে তিনি পদত্যাগ করবেন। তবে, এ ব্যাপারে পরদিন (২ অক্টোবর) তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। বিৃবতিতে বলা হয়, আপিল বিভাগের বিচারপতিদেরকে পরদিন কিছু না জানিয়ে প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতির কাছে ১ মাসের ছুটির আবেদন করলে রাষ্ট্রপতি তা অনুমোদন করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

ফুলকোর্ট সভায় সুপ্রিম কোর্টের বিবৃতি প্রসঙ্গ

আপডেট সময় ০১:১৪:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ও ছুটি নেয়ার প্রেক্ষাপট নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের দেয়া বিবৃতির বিষয়ে সকল বিচারপতিকে অবহিত করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা। তিনি বলেন, যেহেতু প্রধান বিচারপতি বিদেশে যাবার সময় একটি বিবৃতি দিয়ে যান তাই সুপ্রিম কোর্ট পরে একটি বিবৃতি দিয়ে পুরো বিষয়টি পরিস্কার করেছে।

সোমবার বিকেল ৪টা থেকে প্রায় পৌণে এক ঘণ্টা ধরে সুপ্রিম কোর্টের ফুলকোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হয়। ফুলকোর্ট সভায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার হাইকোর্ট বিভাগের দুই বিচারপতি প্রতিনিধিসহ আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির দীর্ঘ বৈঠকের পর সুপ্রিম কোর্ট ওই বিবৃতিটি দিয়েছিল। তবে, হাইকোর্টের বেশিরভাগ বিচারপতি সরাসরি বিৃবতিটির বিষয়ে জানতেন না বলে ফুলকোর্ট সভায় তাদেরকে বিষয়টি অবহিত করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি।

বিবৃতি বলা হয়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ছাড়া আপিল বিভাগের অন্য পাঁচ বিচারপতিকে বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানান। বিদেশে থাকায় মোঃ ইমান আলী ছাড়া আপিল বিভাগের চার বিচারপতি-আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এবং মির্জা হোসেইন হায়দার এতে যোগ দেন।

আলোচনার এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্বলিত দালিলিক তথ্য উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপতি। এর মধ্যে আছে বিদেশে অর্থ পাচার, দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম এবং নৈতিক স্খলন।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের পর বিচারপতি মোঃ ইমান আলী দেশে ফিরে আসার পর ১ অক্টোবর আপিল বিভাগের ৫ বিচারপতি বৈঠকে মিলিত হন এবং প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে যে ১১টি অভিযোগ সেগুলো বিশদভাবে পর্যালোচনা করেন। সিদ্ধান্ত হয় যে, গুরুতর অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রধান বিচারপতিকে অবহিত করা হবে। তিনি যদি ওই অভিযোগগুলোর বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব বা সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হন তাহলে তার সঙ্গে বিচারালয়ে বসে বিচারকার্য পরিচালনা সম্ভব হবে না।

ওইদিনই বেলা ১১:৩০টার দিকে প্রধান বিচারপতির অনুমতি নিয়ে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার হেয়ার রোডের বাসায় দেখা করে অভিযোগগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। সুপ্রিম কোর্টের বিবৃতি অনুযায়ী, দীর্ঘ আলোচনার পরও প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি কোন গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা বা সদুত্তর পাননি। তখন তারা জানিয়ে দেন, অভিযোগগুলোর বিষয়ে সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির সঙ্গে একই বেঞ্চে বসে তাদের পক্ষে বিচারকাজ পরিচালনা সম্ভব হবে না।

প্রধান বিচারপতি তখন সুস্পষ্টভাবে বলেন, সেক্ষেত্রে তিনি পদত্যাগ করবেন। তবে, এ ব্যাপারে পরদিন (২ অক্টোবর) তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। বিৃবতিতে বলা হয়, আপিল বিভাগের বিচারপতিদেরকে পরদিন কিছু না জানিয়ে প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতির কাছে ১ মাসের ছুটির আবেদন করলে রাষ্ট্রপতি তা অনুমোদন করেন।