ঢাকা ০৫:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ক্ষমতা হস্তান্তর ও গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর প্রচেষ্টা অভিযোগ প্রেস সচিবের ‘ক্ষমতায় গেলে গণঅভ্যুত্থানে হতাহতদের পরিবারকে পুনর্বাসন করবে বিএনপি’:রিজভী রাজনৈতিক দলের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে : ইসি আনোয়ারুল বিসমিল্লাহ সারা জীবন থাকবে, সব সময়ই থাকবে: স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ইসি যোগ্যতার সঙ্গেই নির্বাচন পরিচালনা করতে সক্ষম হবে: মির্জা ফখরুল বাড্ডায় অটোরিকশা চালকদের সড়ক অবরোধে চরম ভোগান্তি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল জন্মহারে বড় ধস, অর্থনৈতিক সংকটের মুখে চীন স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ২১ আপিল শুনানিতে কোনো ধরনের পক্ষপাত করিনি : সিইসি

পৃথিবীতে আছড়ে পড়বে চীনা মহাকাশ কেন্দ্র টিয়াঙ্গং-১

অাকাশ আইসিটি ডেস্ক:

চীনা মহাকাশ কেন্দ্র টিয়াঙ্গং-১ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পৃথিবীতে আছড়ে পড়বে। এই মহাকাশ কেন্দ্রটির ওজন সাড়ে আট টন। কেন্দ্রটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে। টিয়াঙ্গং-১ মহাকাশ কেন্দ্রটি ২০১১ সালে যাত্রা শুরু করেছিল। চীনের প্রথম নারী মহাকাশ যাত্রী লিউ ইয়াং ২০১২ সালে কেন্দ্রটি সফর করেছিলেন। এছাড়া বেশ কয়েকটি জ্ঞাত ও অজ্ঞাত অভিযানে কেন্দ্রটি ব্যবহার করা হয়েছে।

২০১৬ সালে চীনা কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছিলেন যে মহাকাশ কেন্দ্রটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে। ২০১৭ বা ২০১৮ সালে তা পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে পারে। ওই সময় চীনা মহাকাশ সংস্থা জাতিসংঘকে জানায়, ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালে এপ্রিলের মধ্যে তা পৃথিবীতে আঘাত হানতে পারে।

গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর থেকেই কেন্দ্রটির অরবিট ধীরে ধীরে ক্ষয় হচ্ছিল। গত কয়েক সপ্তাহে কেন্দ্রটি পৃথিবীর তাপমাত্রায় পৌঁছে যাওয়ার কারণে পতনের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির জ্যোতিপদার্থবিদ জনাথন ম্যাকডয়েল বলেন, এখন কেন্দ্রটির পতনের গতি ৩০০ কিলোমিটার এবং তা ঘণ তাপমাত্রায় রয়েছে। ক্ষয়ের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমি আশা করছি কয়েক মাসের মধ্যেই তা পৃথিবীতে পতিত হবে। হতে পারে তা ২০১৭ সালের শেষ বা ২০১৮ সালের শুরুতে।

ম্যাকডয়েল জানান, ধারণা করা হচ্ছে কেন্দ্রটির বেশির ভাগ যন্ত্রাংশ পুড়ে যেতে পারে। তবে কিছু যন্ত্রাংশ থাকবে যেগুলো পৃথিবীতে আঘাত হানার সময় ওজন অন্তত ১০০ কিলোগ্রাম থাকবে। পৃথিবীর কোন এলাকায় আঘাত হানবে তা নিশ্চিত করা অসম্ভব বলে জানিয়েছেন ম্যাকডয়েল। চীন জানিয়েছে, কেন্দ্রটির পতন তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।

এর আগে ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ২০ চন ওজনের স্যালিউট সেভেন মহাকাশ কেন্দ্র পৃথিবীতে আছড়ে পড়েছিল। কসমস ১৬৮৬ নামের আরেকটি ২০টন ওজনের মহাকাশ কেন্দ্রে নোঙ্গর করা অবস্থায় তা ভেঙে পড়ে। আর্জেন্টিনার ক্যাপিটান বার্মুডেজ শহরে মহাকাশ কেন্দ্রটি পতিত হয়। ১৯৭৯ সালে নাসার ৭৭ টন ওজনের স্কাইল্যাভ মহাকাশ কেন্দ্রটি পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় পতিত হয়েছিল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্ষমতা হস্তান্তর ও গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর প্রচেষ্টা অভিযোগ প্রেস সচিবের

পৃথিবীতে আছড়ে পড়বে চীনা মহাকাশ কেন্দ্র টিয়াঙ্গং-১

আপডেট সময় ১২:২৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ আইসিটি ডেস্ক:

চীনা মহাকাশ কেন্দ্র টিয়াঙ্গং-১ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পৃথিবীতে আছড়ে পড়বে। এই মহাকাশ কেন্দ্রটির ওজন সাড়ে আট টন। কেন্দ্রটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে। টিয়াঙ্গং-১ মহাকাশ কেন্দ্রটি ২০১১ সালে যাত্রা শুরু করেছিল। চীনের প্রথম নারী মহাকাশ যাত্রী লিউ ইয়াং ২০১২ সালে কেন্দ্রটি সফর করেছিলেন। এছাড়া বেশ কয়েকটি জ্ঞাত ও অজ্ঞাত অভিযানে কেন্দ্রটি ব্যবহার করা হয়েছে।

২০১৬ সালে চীনা কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছিলেন যে মহাকাশ কেন্দ্রটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে। ২০১৭ বা ২০১৮ সালে তা পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে পারে। ওই সময় চীনা মহাকাশ সংস্থা জাতিসংঘকে জানায়, ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালে এপ্রিলের মধ্যে তা পৃথিবীতে আঘাত হানতে পারে।

গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর থেকেই কেন্দ্রটির অরবিট ধীরে ধীরে ক্ষয় হচ্ছিল। গত কয়েক সপ্তাহে কেন্দ্রটি পৃথিবীর তাপমাত্রায় পৌঁছে যাওয়ার কারণে পতনের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির জ্যোতিপদার্থবিদ জনাথন ম্যাকডয়েল বলেন, এখন কেন্দ্রটির পতনের গতি ৩০০ কিলোমিটার এবং তা ঘণ তাপমাত্রায় রয়েছে। ক্ষয়ের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমি আশা করছি কয়েক মাসের মধ্যেই তা পৃথিবীতে পতিত হবে। হতে পারে তা ২০১৭ সালের শেষ বা ২০১৮ সালের শুরুতে।

ম্যাকডয়েল জানান, ধারণা করা হচ্ছে কেন্দ্রটির বেশির ভাগ যন্ত্রাংশ পুড়ে যেতে পারে। তবে কিছু যন্ত্রাংশ থাকবে যেগুলো পৃথিবীতে আঘাত হানার সময় ওজন অন্তত ১০০ কিলোগ্রাম থাকবে। পৃথিবীর কোন এলাকায় আঘাত হানবে তা নিশ্চিত করা অসম্ভব বলে জানিয়েছেন ম্যাকডয়েল। চীন জানিয়েছে, কেন্দ্রটির পতন তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।

এর আগে ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ২০ চন ওজনের স্যালিউট সেভেন মহাকাশ কেন্দ্র পৃথিবীতে আছড়ে পড়েছিল। কসমস ১৬৮৬ নামের আরেকটি ২০টন ওজনের মহাকাশ কেন্দ্রে নোঙ্গর করা অবস্থায় তা ভেঙে পড়ে। আর্জেন্টিনার ক্যাপিটান বার্মুডেজ শহরে মহাকাশ কেন্দ্রটি পতিত হয়। ১৯৭৯ সালে নাসার ৭৭ টন ওজনের স্কাইল্যাভ মহাকাশ কেন্দ্রটি পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় পতিত হয়েছিল।