আকাশ নিউজ ডেস্ক:
প্রায় ছয় দশক আগে আবিষ্কৃত এক মহাজাগতিক রহস্য আজও বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করছে। প্রথম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হওয়া ব্ল্যাক হোল সিগনাস এক্স-১ এখনো মহাকাশে বিশাল শক্তি ছড়িয়ে যাচ্ছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এটি এমন শক্তিশালী কণার ধারা (জেট) ছুড়ছে, যার শক্তি প্রায় ১০ হাজার সূর্যের সমান।
১৯৬৪ সালে প্রথম এই ব্ল্যাক হোল শনাক্ত হয়। বিজ্ঞানীরা তখনো ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ব নিয়েই সন্দিহান ছিলেন। সম্প্রতি কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে এক গবেষণা ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে এই জেটগুলোর শক্তি নির্ণয় করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা যায়, এই জেটগুলো লক্ষ লক্ষ আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। এগুলো এত উজ্জ্বল কারণ কণাগুলো আলোর গতির কাছাকাছি পৌঁছে যায়। তখন তারা প্রচণ্ড শক্তি ছড়ায় এবং অদ্ভুত আচরণ করে—যা বহু আগে আলবার্ট আইনস্টাইন তত্ত্বে বলেছিলেন।
বিশ্বজুড়ে সংযুক্ত টেলিস্কোপ ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, নক্ষত্রের বাতাস (তারকা থেকে আসা শক্তিশালী গ্যাস প্রবাহ) এই জেটগুলোকে বাঁকিয়ে দেয়। অনেকটা ফোয়ারার পানিকে বাতাস যেমন দোলায়, তেমনভাবেই। এতে তাদের শক্তি বোঝা যায়।
হিসাব করে দেখা গেছে, এই জেটগুলো আলোর গতির প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটার বেগে চলে।
গবেষক ডক্টর স্টিভ প্রাবু জানান, ব্ল্যাক হোলে পদার্থ ঢোকার সময় যে শক্তি তৈরি হয়, তার প্রায় ১০ শতাংশ এই জেটের মাধ্যমে বাইরে বের হয়ে যায়। আগে এটি ধারণা করা হলেও সরাসরি প্রমাণ পাওয়া কঠিন ছিল।
প্রায় ৭ হাজার আলোকবর্ষ দূরে থাকা এই ব্ল্যাক হোল সূর্যের তুলনায় প্রায় ২১ গুণ ভারী। এটি এইচডিই ২২৬৮৬৮ নামের একটি তারার সঙ্গে যুগল কক্ষপথে ঘোরে এবং প্রতি ৫ দশমিক ৬ দিনে একবার ঘূর্ণন সম্পন্ন করে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























