আকাশ নিউজ ডেস্ক:
অ্যান্টার্কটিকার ঝুঁকিপূর্ণ এক এলাকায় গবেষণা অভিযানের সময় একটি অজানা দ্বীপের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। প্রথমে সেটিকে একটি ‘ময়লা জমে থাকা আইসবার্গ’ বলে মনে হলেও কাছ থেকে পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেটি আসলে সম্পূর্ণ একটি দ্বীপ। ঘটনাটি পৃথিবীর এখনো অনাবিষ্কৃত ভূখণ্ড নিয়ে নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে।
আলফ্রেড ভেগেনার ইনস্টিটিউটের জার্মান গবেষণা জাহাজ পোলারস্টার্ন-এ থাকা ৯৩ সদস্যের আন্তর্জাতিক দলটি গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে অ্যান্টার্কটিকার উত্তর-পশ্চিম ওয়েডেল সাগর এলাকায় গবেষণা চালাচ্ছিল। খারাপ আবহাওয়ার কারণে জাহাজটিকে জয়েনভিল দ্বীপের কাছে আশ্রয় নিতে হয়। তখনই নাবিক ও বিজ্ঞানীরা এমন এক স্থলভাগ দেখতে পান, যা মানচিত্রে আগে শুধু ‘নৌ চলাচলের জন্য বিপদসীমা’ হিসেবে চিহ্নিত ছিল।
অভিযানের সদস্য সাইমন ড্রয়টার জানান, দূর থেকে এটি ময়লা জমে থাকা একটি আইসবার্গের মতো দেখাচ্ছিল। তবে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণে মনে হয় এটি পাথুরে কোনো অংশ। পরে জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করে আরও কাছে যাওয়া হলে নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি কোনো পাথরের টুকরো নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বীপ।
এরপর গবেষণা জাহাজটি দ্বীপের প্রায় ৫০০ ফুট দূরত্বে নিয়ে যাওয়া হয়। ড্রোনের মাধ্যমে ওপর থেকে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, দ্বীপটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫০ ফুট উঁচু, প্রস্থ প্রায় ১৬৫ ফুট এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ৪২৬ ফুট। আকারে এটি মিশরের গিজার মহাপিরামিডের দৈর্ঘ্যের কাছাকাছি।
বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত নন, কেন এই স্থলভাগ এতদিন শুধু বিপদসীমা হিসেবে মানচিত্রে ছিল, অথচ উপকূলরেখা হিসেবে চিহ্নিত হয়নি। আরও বিস্ময়ের বিষয় হলো, মানচিত্রে এর অবস্থান প্রকৃত অবস্থান থেকে প্রায় এক মাইল দূরে দেখানো ছিল। বরফে ঢাকা থাকায় স্যাটেলাইট চিত্রেও এটি আশপাশের আইসবার্গ থেকে আলাদা করে চেনা কঠিন ছিল।
নতুন আবিষ্কৃত এই দ্বীপটির এখনো কোনো নাম দেওয়া হয়নি। গবেষক দল জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার পর ভবিষ্যতে এর নামকরণ করা হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























