ঢাকা ১২:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানব রচিত আইন এ বাংলায় চলতে দেওয়া হবে না: চরমোনাইর পীর বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ঐক্য, সম্প্রীতি ও নতুন প্রত্যয়ের আহ্বান রাষ্ট্রপতির আগামী বছরের মধ্যে গোটা রাখাইন দখলের ঘোষণা আরাকান আর্মির অবরোধ ভাঙতে চাইলে ইরানের ‘অ্যাটাক শিপ’ ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে দেশ নতুন সাংবিধানিক সংকটে পড়বে:শিশির মনির সরকারের কাঁধে শেখ হাসিনার ভূত চেপেছে: মামুনুল হক খোলা চিঠিতে ‘বিদায়ের বার্তা’ দিলেন মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্য পুলিশ কমিশন গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কারাগার থেকেই বার কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ নিতে চান ব্যারিস্টার সুমন সংসদীয় সার্বভৌমত্বের নামে ‘সংসদীয় স্বৈরতন্ত্র’ কায়েম হচ্ছে: সারোয়ার তুষার

বাতাসের চেয়ে হালকা কিন্তু কঠিন পদার্থ কি জানেন?

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

বিজ্ঞানের জয়যাত্রা আমাদের প্রতিনিয়ত অবাক করে দিচ্ছে। আপনি কি জানেন, এমন এক কঠিন পদার্থ আছে যা দেখতে অনেকটা মেঘ বা জমানো ধোঁয়ার মতো, কিন্তু ওজনে তা বাতাসের চেয়েও হালকা? অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটিই ধ্রুব সত্য। এই পদার্থের নাম গ্রাফিন অ্যারোজেল (Graphene Aerogel)। এটি বর্তমানে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনুযায়ী পৃথিবীর সবচেয়ে হালকা কঠিন পদার্থ।

গ্রাফিন অ্যারোজেল কী?

গ্রাফিন অ্যারোজেল হলো কার্বনের একটি বিশেষ রূপ। এটি মূলত গ্রাফিন দিয়ে তৈরি এক ধরণের জেল, যার ভেতরে থাকা তরল অংশটি বের করে সেখানে বাতাস ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে এটি দেখতে কঠিন পদার্থের মতো হলেও এর ৯৯.৮ শতাংশই হলো বাতাস।

এটি কতটা হালকা?

এর ওজনের কথা শুনলে আপনি চমকে উঠবেন। এক ঘনসেন্টিমিটার গ্রাফিন অ্যারোজেলের ওজন মাত্র ০.১৬ মিলিগ্রাম। এটি বাতাসের ঘনত্বের চেয়েও কম ঘন। তুলনা করলে বলা যায়, এটি সাধারণ বাতাসের চেয়ে প্রায় ৭ গুণ হালকা! এক টুকরো গ্রাফিন অ্যারোজেলকে যদি একটি পাপড়ি বা ফুলের ওপর রাখা হয়, তবে সেই ফুলটি এতটুকুও নুইয়ে পড়বে না।

গ্রাফিন অ্যারোজেলের জাদুকরী ক্ষমতা

কেবল হালকা হওয়াই এর একমাত্র বৈশিষ্ট্য নয়। গ্রাফিন অ্যারোজেলের রয়েছে আরও কিছু জাদুকরী ক্ষমতা:

অবিশ্বাস্য শোষণ ক্ষমতা: এটি নিজের ওজনের চেয়ে প্রায় ৯০০ গুণ বেশি তেল বা তরল শোষণ করতে পারে। সমুদ্রের পানিতে তেল ছড়িয়ে পড়লে তা পরিষ্কার করতে এটি সেরা সমাধান হতে পারে।

বিস্ময়কর শক্তি: এটি ওজনে হালকা হলেও অত্যন্ত মজবুত এবং নমনীয়। একে সংকুচিত করার পর এটি আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।

তাপ নিরোধক: এটি তাপ ও বিদ্যুতের চমৎকার পরিবাহী এবং একই সাথে উন্নতমানের ইনসুলেটর হিসেবেও কাজ করতে পারে।

কোথায় ব্যবহৃত হয় এই পদার্থ?

মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে পরিবেশ রক্ষা—সবখানেই এর জয়জয়কার। নাসা (NASA) তাদের বিভিন্ন মিশনে মহাজাগতিক ধূলিকণা সংগ্রহ করতে এবং নভোচারীদের পোশাকের তাপ নিরোধক হিসেবে অ্যারোজেল ব্যবহার করে। এছাড়াও উন্নত ব্যাটারি তৈরি এবং পানির ফিল্টার হিসেবেও এর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।

কে আবিষ্কার করেন?

চীনের ঝেজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ২০১৩ সালে এই ‘গ্রাফিন অ্যারোজেল’ আবিষ্কার করেন। এর আগে ‘গ্রাফাইট অ্যারোজেল’ ছিল বিশ্বের সবচেয়ে হালকা পদার্থ, যা এখন ইতিহাস।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বেলুনের ভেতরেই চলছে নির্মাণকাজ, ধুলা-শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে চীনের নতুন প্রযুক্তি

বাতাসের চেয়ে হালকা কিন্তু কঠিন পদার্থ কি জানেন?

আপডেট সময় ০৯:৫০:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

বিজ্ঞানের জয়যাত্রা আমাদের প্রতিনিয়ত অবাক করে দিচ্ছে। আপনি কি জানেন, এমন এক কঠিন পদার্থ আছে যা দেখতে অনেকটা মেঘ বা জমানো ধোঁয়ার মতো, কিন্তু ওজনে তা বাতাসের চেয়েও হালকা? অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটিই ধ্রুব সত্য। এই পদার্থের নাম গ্রাফিন অ্যারোজেল (Graphene Aerogel)। এটি বর্তমানে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনুযায়ী পৃথিবীর সবচেয়ে হালকা কঠিন পদার্থ।

গ্রাফিন অ্যারোজেল কী?

গ্রাফিন অ্যারোজেল হলো কার্বনের একটি বিশেষ রূপ। এটি মূলত গ্রাফিন দিয়ে তৈরি এক ধরণের জেল, যার ভেতরে থাকা তরল অংশটি বের করে সেখানে বাতাস ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে এটি দেখতে কঠিন পদার্থের মতো হলেও এর ৯৯.৮ শতাংশই হলো বাতাস।

এটি কতটা হালকা?

এর ওজনের কথা শুনলে আপনি চমকে উঠবেন। এক ঘনসেন্টিমিটার গ্রাফিন অ্যারোজেলের ওজন মাত্র ০.১৬ মিলিগ্রাম। এটি বাতাসের ঘনত্বের চেয়েও কম ঘন। তুলনা করলে বলা যায়, এটি সাধারণ বাতাসের চেয়ে প্রায় ৭ গুণ হালকা! এক টুকরো গ্রাফিন অ্যারোজেলকে যদি একটি পাপড়ি বা ফুলের ওপর রাখা হয়, তবে সেই ফুলটি এতটুকুও নুইয়ে পড়বে না।

গ্রাফিন অ্যারোজেলের জাদুকরী ক্ষমতা

কেবল হালকা হওয়াই এর একমাত্র বৈশিষ্ট্য নয়। গ্রাফিন অ্যারোজেলের রয়েছে আরও কিছু জাদুকরী ক্ষমতা:

অবিশ্বাস্য শোষণ ক্ষমতা: এটি নিজের ওজনের চেয়ে প্রায় ৯০০ গুণ বেশি তেল বা তরল শোষণ করতে পারে। সমুদ্রের পানিতে তেল ছড়িয়ে পড়লে তা পরিষ্কার করতে এটি সেরা সমাধান হতে পারে।

বিস্ময়কর শক্তি: এটি ওজনে হালকা হলেও অত্যন্ত মজবুত এবং নমনীয়। একে সংকুচিত করার পর এটি আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।

তাপ নিরোধক: এটি তাপ ও বিদ্যুতের চমৎকার পরিবাহী এবং একই সাথে উন্নতমানের ইনসুলেটর হিসেবেও কাজ করতে পারে।

কোথায় ব্যবহৃত হয় এই পদার্থ?

মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে পরিবেশ রক্ষা—সবখানেই এর জয়জয়কার। নাসা (NASA) তাদের বিভিন্ন মিশনে মহাজাগতিক ধূলিকণা সংগ্রহ করতে এবং নভোচারীদের পোশাকের তাপ নিরোধক হিসেবে অ্যারোজেল ব্যবহার করে। এছাড়াও উন্নত ব্যাটারি তৈরি এবং পানির ফিল্টার হিসেবেও এর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।

কে আবিষ্কার করেন?

চীনের ঝেজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ২০১৩ সালে এই ‘গ্রাফিন অ্যারোজেল’ আবিষ্কার করেন। এর আগে ‘গ্রাফাইট অ্যারোজেল’ ছিল বিশ্বের সবচেয়ে হালকা পদার্থ, যা এখন ইতিহাস।