ঢাকা ০৭:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

বাতাসের চেয়ে হালকা কিন্তু কঠিন পদার্থ কি জানেন?

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

বিজ্ঞানের জয়যাত্রা আমাদের প্রতিনিয়ত অবাক করে দিচ্ছে। আপনি কি জানেন, এমন এক কঠিন পদার্থ আছে যা দেখতে অনেকটা মেঘ বা জমানো ধোঁয়ার মতো, কিন্তু ওজনে তা বাতাসের চেয়েও হালকা? অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটিই ধ্রুব সত্য। এই পদার্থের নাম গ্রাফিন অ্যারোজেল (Graphene Aerogel)। এটি বর্তমানে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনুযায়ী পৃথিবীর সবচেয়ে হালকা কঠিন পদার্থ।

গ্রাফিন অ্যারোজেল কী?

গ্রাফিন অ্যারোজেল হলো কার্বনের একটি বিশেষ রূপ। এটি মূলত গ্রাফিন দিয়ে তৈরি এক ধরণের জেল, যার ভেতরে থাকা তরল অংশটি বের করে সেখানে বাতাস ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে এটি দেখতে কঠিন পদার্থের মতো হলেও এর ৯৯.৮ শতাংশই হলো বাতাস।

এটি কতটা হালকা?

এর ওজনের কথা শুনলে আপনি চমকে উঠবেন। এক ঘনসেন্টিমিটার গ্রাফিন অ্যারোজেলের ওজন মাত্র ০.১৬ মিলিগ্রাম। এটি বাতাসের ঘনত্বের চেয়েও কম ঘন। তুলনা করলে বলা যায়, এটি সাধারণ বাতাসের চেয়ে প্রায় ৭ গুণ হালকা! এক টুকরো গ্রাফিন অ্যারোজেলকে যদি একটি পাপড়ি বা ফুলের ওপর রাখা হয়, তবে সেই ফুলটি এতটুকুও নুইয়ে পড়বে না।

গ্রাফিন অ্যারোজেলের জাদুকরী ক্ষমতা

কেবল হালকা হওয়াই এর একমাত্র বৈশিষ্ট্য নয়। গ্রাফিন অ্যারোজেলের রয়েছে আরও কিছু জাদুকরী ক্ষমতা:

অবিশ্বাস্য শোষণ ক্ষমতা: এটি নিজের ওজনের চেয়ে প্রায় ৯০০ গুণ বেশি তেল বা তরল শোষণ করতে পারে। সমুদ্রের পানিতে তেল ছড়িয়ে পড়লে তা পরিষ্কার করতে এটি সেরা সমাধান হতে পারে।

বিস্ময়কর শক্তি: এটি ওজনে হালকা হলেও অত্যন্ত মজবুত এবং নমনীয়। একে সংকুচিত করার পর এটি আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।

তাপ নিরোধক: এটি তাপ ও বিদ্যুতের চমৎকার পরিবাহী এবং একই সাথে উন্নতমানের ইনসুলেটর হিসেবেও কাজ করতে পারে।

কোথায় ব্যবহৃত হয় এই পদার্থ?

মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে পরিবেশ রক্ষা—সবখানেই এর জয়জয়কার। নাসা (NASA) তাদের বিভিন্ন মিশনে মহাজাগতিক ধূলিকণা সংগ্রহ করতে এবং নভোচারীদের পোশাকের তাপ নিরোধক হিসেবে অ্যারোজেল ব্যবহার করে। এছাড়াও উন্নত ব্যাটারি তৈরি এবং পানির ফিল্টার হিসেবেও এর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।

কে আবিষ্কার করেন?

চীনের ঝেজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ২০১৩ সালে এই ‘গ্রাফিন অ্যারোজেল’ আবিষ্কার করেন। এর আগে ‘গ্রাফাইট অ্যারোজেল’ ছিল বিশ্বের সবচেয়ে হালকা পদার্থ, যা এখন ইতিহাস।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ায় ২৬৫ বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ ২০ জন আটক

বাতাসের চেয়ে হালকা কিন্তু কঠিন পদার্থ কি জানেন?

আপডেট সময় ০৯:৫০:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

বিজ্ঞানের জয়যাত্রা আমাদের প্রতিনিয়ত অবাক করে দিচ্ছে। আপনি কি জানেন, এমন এক কঠিন পদার্থ আছে যা দেখতে অনেকটা মেঘ বা জমানো ধোঁয়ার মতো, কিন্তু ওজনে তা বাতাসের চেয়েও হালকা? অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটিই ধ্রুব সত্য। এই পদার্থের নাম গ্রাফিন অ্যারোজেল (Graphene Aerogel)। এটি বর্তমানে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনুযায়ী পৃথিবীর সবচেয়ে হালকা কঠিন পদার্থ।

গ্রাফিন অ্যারোজেল কী?

গ্রাফিন অ্যারোজেল হলো কার্বনের একটি বিশেষ রূপ। এটি মূলত গ্রাফিন দিয়ে তৈরি এক ধরণের জেল, যার ভেতরে থাকা তরল অংশটি বের করে সেখানে বাতাস ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে এটি দেখতে কঠিন পদার্থের মতো হলেও এর ৯৯.৮ শতাংশই হলো বাতাস।

এটি কতটা হালকা?

এর ওজনের কথা শুনলে আপনি চমকে উঠবেন। এক ঘনসেন্টিমিটার গ্রাফিন অ্যারোজেলের ওজন মাত্র ০.১৬ মিলিগ্রাম। এটি বাতাসের ঘনত্বের চেয়েও কম ঘন। তুলনা করলে বলা যায়, এটি সাধারণ বাতাসের চেয়ে প্রায় ৭ গুণ হালকা! এক টুকরো গ্রাফিন অ্যারোজেলকে যদি একটি পাপড়ি বা ফুলের ওপর রাখা হয়, তবে সেই ফুলটি এতটুকুও নুইয়ে পড়বে না।

গ্রাফিন অ্যারোজেলের জাদুকরী ক্ষমতা

কেবল হালকা হওয়াই এর একমাত্র বৈশিষ্ট্য নয়। গ্রাফিন অ্যারোজেলের রয়েছে আরও কিছু জাদুকরী ক্ষমতা:

অবিশ্বাস্য শোষণ ক্ষমতা: এটি নিজের ওজনের চেয়ে প্রায় ৯০০ গুণ বেশি তেল বা তরল শোষণ করতে পারে। সমুদ্রের পানিতে তেল ছড়িয়ে পড়লে তা পরিষ্কার করতে এটি সেরা সমাধান হতে পারে।

বিস্ময়কর শক্তি: এটি ওজনে হালকা হলেও অত্যন্ত মজবুত এবং নমনীয়। একে সংকুচিত করার পর এটি আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।

তাপ নিরোধক: এটি তাপ ও বিদ্যুতের চমৎকার পরিবাহী এবং একই সাথে উন্নতমানের ইনসুলেটর হিসেবেও কাজ করতে পারে।

কোথায় ব্যবহৃত হয় এই পদার্থ?

মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে পরিবেশ রক্ষা—সবখানেই এর জয়জয়কার। নাসা (NASA) তাদের বিভিন্ন মিশনে মহাজাগতিক ধূলিকণা সংগ্রহ করতে এবং নভোচারীদের পোশাকের তাপ নিরোধক হিসেবে অ্যারোজেল ব্যবহার করে। এছাড়াও উন্নত ব্যাটারি তৈরি এবং পানির ফিল্টার হিসেবেও এর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।

কে আবিষ্কার করেন?

চীনের ঝেজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ২০১৩ সালে এই ‘গ্রাফিন অ্যারোজেল’ আবিষ্কার করেন। এর আগে ‘গ্রাফাইট অ্যারোজেল’ ছিল বিশ্বের সবচেয়ে হালকা পদার্থ, যা এখন ইতিহাস।