ঢাকা ০৮:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংসদ বয়কটে ক্ষতিগ্রস্ত গণতন্ত্র, অধিকার বঞ্চিত জনগণ : স্পিকার হরমুজ প্রণালীতে ট্যাংকারে গুলি ইরানি বাহিনীর, ঝুঁকিতে যুদ্ধবিরতি হাদি হত্যা : অস্ত্র সরবরাহকারী মাজেদুলের দায় স্বীকার ইউটিউব দেখে অকটেন তৈরির চেষ্টা, বিস্ফোরণে প্রাণ গেলো ব্যবসায়ীর ক্যাপ্টেনস কার্ড নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে তাপসের পোস্ট, পরে ‘ডিলিট’ ‘এমন কোনো লোভ ছিল না, যা শেখ হাসিনা আমাকে দেখাননি’: স্পিকার হাফিজ ন্যাটো সম্পূর্ণ ব্যর্থ: ট্রাম্প সরকারের দুই মাসে ৬০ পদক্ষেপ এক অবিস্মরণীয় অর্জন: মাহদী আমিন কৃষকের বরাদ্দ খেয়ে ফেলতো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা : কৃষিমন্ত্রী নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা

হরমুজ প্রণালীতে ট্যাংকারে গুলি ইরানি বাহিনীর, ঝুঁকিতে যুদ্ধবিরতি

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

হরমুজ প্রণালীতে সতর্কবার্তা ছাড়াই জ্বালানিবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতি।

শনিবার সমুদ্র নিরাপত্তা ও শিপিং সংশ্লিষ্ট যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের (ইউকেএমটিও) বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

এর মধ্যে অন্তত একটি ট্যাংকারে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গানবোট থেকে হামলা চালানো হয়েছে। এমনটি দাবি করেছে সমুদ্র বাণিজ্যবিষয়ক ব্রিটিশ সংস্থা ইউকেএমটিও।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ওমান উপকূল থেকে ২০ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে আইআরজিসির দুটি গানবোট থেকে গুলি চালানো হয়। তবে ট্যাংকার ও এর ক্রু সদস্যরা অক্ষত ও নিরাপদ রয়েছেন। হামলার ফলে জাহাজের কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা এর প্রভাব কতটুকু, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

উল্লেখ্য, শুক্রবারই হরমুজ প্রণালী ‘উন্মুক্ত’ করার ঘোষণা দিয়েছিল ইরান। কিন্তু বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খুলে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শনিবার ফের হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ কার্যকর করেছে তেহরান। দেশটির অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে যে নৌ অবরোধ চালাচ্ছে তা ‘সমুদ্রদস্যুতা’র (পাইরেসি) শামিল, এবং এই অবরোধ তুলে না নিলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথটি বন্ধই থাকবে।

ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর যৌথ সামরিক কমান্ড শনিবার এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে এ তথ্য। দুপুরের দিকে দেয়া সেই বিবৃতিতে যৌথ সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ আবারও পূর্বের অবস্থায় ফিরে এসেছে। পুরো প্রণালীর ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রণ সামরিক বাহিনীর হাতে থাকবে, আগের মতোই।

এর ফলে বৈশ্বিক তেল বাজার, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা-সবকিছুই নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে বিস্ফোরণমুখী রূপ নিয়েছে, কারণ ইরান আবারও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি আরোপ করেছে।

এর আগে, লেবাননে যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল শুক্রবার বিকালে (যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়ের জন্য) সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত ঘোষণা করে ইরান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

পোস্টে তিনি লিখেছেন, “লেবাননে যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়ের জন্য সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত ঘোষণা করা হলো।”

তবে তিনি জানান, জাহাজগুলোকে ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ঘোষিত ‘সমন্বিত রুট’ ব্যবহার করে চলাচল করতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । এ ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১১ শতাংশের বেশি কমে যায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

সংসদ বয়কটে ক্ষতিগ্রস্ত গণতন্ত্র, অধিকার বঞ্চিত জনগণ : স্পিকার

হরমুজ প্রণালীতে ট্যাংকারে গুলি ইরানি বাহিনীর, ঝুঁকিতে যুদ্ধবিরতি

আপডেট সময় ০৬:২৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

হরমুজ প্রণালীতে সতর্কবার্তা ছাড়াই জ্বালানিবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতি।

শনিবার সমুদ্র নিরাপত্তা ও শিপিং সংশ্লিষ্ট যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের (ইউকেএমটিও) বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

এর মধ্যে অন্তত একটি ট্যাংকারে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গানবোট থেকে হামলা চালানো হয়েছে। এমনটি দাবি করেছে সমুদ্র বাণিজ্যবিষয়ক ব্রিটিশ সংস্থা ইউকেএমটিও।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ওমান উপকূল থেকে ২০ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে আইআরজিসির দুটি গানবোট থেকে গুলি চালানো হয়। তবে ট্যাংকার ও এর ক্রু সদস্যরা অক্ষত ও নিরাপদ রয়েছেন। হামলার ফলে জাহাজের কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা এর প্রভাব কতটুকু, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

উল্লেখ্য, শুক্রবারই হরমুজ প্রণালী ‘উন্মুক্ত’ করার ঘোষণা দিয়েছিল ইরান। কিন্তু বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খুলে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শনিবার ফের হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ কার্যকর করেছে তেহরান। দেশটির অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে যে নৌ অবরোধ চালাচ্ছে তা ‘সমুদ্রদস্যুতা’র (পাইরেসি) শামিল, এবং এই অবরোধ তুলে না নিলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথটি বন্ধই থাকবে।

ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর যৌথ সামরিক কমান্ড শনিবার এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে এ তথ্য। দুপুরের দিকে দেয়া সেই বিবৃতিতে যৌথ সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ আবারও পূর্বের অবস্থায় ফিরে এসেছে। পুরো প্রণালীর ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রণ সামরিক বাহিনীর হাতে থাকবে, আগের মতোই।

এর ফলে বৈশ্বিক তেল বাজার, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা-সবকিছুই নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে বিস্ফোরণমুখী রূপ নিয়েছে, কারণ ইরান আবারও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি আরোপ করেছে।

এর আগে, লেবাননে যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল শুক্রবার বিকালে (যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়ের জন্য) সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত ঘোষণা করে ইরান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

পোস্টে তিনি লিখেছেন, “লেবাননে যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়ের জন্য সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত ঘোষণা করা হলো।”

তবে তিনি জানান, জাহাজগুলোকে ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ঘোষিত ‘সমন্বিত রুট’ ব্যবহার করে চলাচল করতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । এ ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১১ শতাংশের বেশি কমে যায়।