ঢাকা ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

পাপের সবচেয়ে বড় শাস্তি কী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

আমরা কত শত ভুল করি, কত ধরনের পাপের সাগরে ডুব দিই! এরপর যখন দেখি আমাদের আয়-উন্নতি ঠিকঠাক চলছে, অসুখবিসুখ হচ্ছে না, তখন বুক ফুলিয়ে বলি-‘কই? আল্লাহ তো আমাদের কোনো শাস্তি দিচ্ছেন না! আমরা তো বেশ ভালোই আছি।’

​ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘বাদায়িউল ফাওয়াইদ’-এ এক অমোঘ সত্য লিখে গেছেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো বান্দার জন্য অন্তরের কঠোরতা বা হৃদয় পাথর হয়ে যাওয়ার চেয়ে বড় কোনো শাস্তি আর হতে পারে না।’

​আপনি হয়তো ভাবছেন আপনার রিজিক ঠিক আছে মানেই আপনি নিরাপদ। হয়তো অবজ্ঞার সুরে বলছেন-শাস্তিটা কোথায়?

তাহলে শুনুন, আপনার বর্তমান অবস্থাটাই তো একটা ভয়াবহ শাস্তি! ​আপনার পাশ দিয়ে জানাজার খাটিয়া চলে যায়, অথচ আপনার ভেতরের মানুষটা একটুও নড়েচড়ে বসে না। আপনার একটা পশমও শিউরে ওঠে না।

​আপনার কানে কোরআন তিলাওয়াতের সুর আসে, কিন্তু সেই সুর এক কান দিয়ে ঢুকে অন্য কান দিয়ে বেরিয়ে যায়। আপনার কলিজায় কি কোনো কম্পন সৃষ্টি হয়? ​আপনার নামাজগুলো একের পর এক কাজা হয়ে যাচ্ছে, অথচ আপনার শরীরের প্রতিটি কোষ যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে উঠছে না।

আপনি দিব্যি স্বাভাবিক আছেন! ​আপনি যখন বিপদগ্রস্ত মানুষদের দেখেন, তখনও কি আপনার নিজের সুস্থতা ও নিয়ামত নিয়ে একবারও আত্মতৃপ্তি আর কৃতজ্ঞতায় চোখ ভিজে উঠছে?

​ভাই আমার, আপনি কি এখনো জিজ্ঞাস করবেন-‘শাস্তি কোথায়?’ আপনার জ্যান্ত কলিজাটা যখন আজ পাথর হয়ে গেছে, তখন এর চেয়ে বড় আজাব আর কী হতে পারে?

​নিজেকে একটু সময় দিন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মৃতপ্রায় হৃদয়টাকে প্রশ্ন করুন। ফেরার সময় কি এখনো হয়নি?

​মূল বার্তা : পাপের সবচেয়ে বড় শাস্তি হলো ইবাদতে স্বাদ না পাওয়া এবং গুনাহ করার পরও মনে অনুশোচনা না আসা। রিজিক বা দুনিয়াবি সুখ থাকা মানেই আল্লাহ সন্তুষ্ট-এমন ভাবাটা এক ধরনের বিভ্রম।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পাপের সবচেয়ে বড় শাস্তি কী

আপডেট সময় ০৫:৩১:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

আমরা কত শত ভুল করি, কত ধরনের পাপের সাগরে ডুব দিই! এরপর যখন দেখি আমাদের আয়-উন্নতি ঠিকঠাক চলছে, অসুখবিসুখ হচ্ছে না, তখন বুক ফুলিয়ে বলি-‘কই? আল্লাহ তো আমাদের কোনো শাস্তি দিচ্ছেন না! আমরা তো বেশ ভালোই আছি।’

​ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘বাদায়িউল ফাওয়াইদ’-এ এক অমোঘ সত্য লিখে গেছেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো বান্দার জন্য অন্তরের কঠোরতা বা হৃদয় পাথর হয়ে যাওয়ার চেয়ে বড় কোনো শাস্তি আর হতে পারে না।’

​আপনি হয়তো ভাবছেন আপনার রিজিক ঠিক আছে মানেই আপনি নিরাপদ। হয়তো অবজ্ঞার সুরে বলছেন-শাস্তিটা কোথায়?

তাহলে শুনুন, আপনার বর্তমান অবস্থাটাই তো একটা ভয়াবহ শাস্তি! ​আপনার পাশ দিয়ে জানাজার খাটিয়া চলে যায়, অথচ আপনার ভেতরের মানুষটা একটুও নড়েচড়ে বসে না। আপনার একটা পশমও শিউরে ওঠে না।

​আপনার কানে কোরআন তিলাওয়াতের সুর আসে, কিন্তু সেই সুর এক কান দিয়ে ঢুকে অন্য কান দিয়ে বেরিয়ে যায়। আপনার কলিজায় কি কোনো কম্পন সৃষ্টি হয়? ​আপনার নামাজগুলো একের পর এক কাজা হয়ে যাচ্ছে, অথচ আপনার শরীরের প্রতিটি কোষ যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে উঠছে না।

আপনি দিব্যি স্বাভাবিক আছেন! ​আপনি যখন বিপদগ্রস্ত মানুষদের দেখেন, তখনও কি আপনার নিজের সুস্থতা ও নিয়ামত নিয়ে একবারও আত্মতৃপ্তি আর কৃতজ্ঞতায় চোখ ভিজে উঠছে?

​ভাই আমার, আপনি কি এখনো জিজ্ঞাস করবেন-‘শাস্তি কোথায়?’ আপনার জ্যান্ত কলিজাটা যখন আজ পাথর হয়ে গেছে, তখন এর চেয়ে বড় আজাব আর কী হতে পারে?

​নিজেকে একটু সময় দিন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মৃতপ্রায় হৃদয়টাকে প্রশ্ন করুন। ফেরার সময় কি এখনো হয়নি?

​মূল বার্তা : পাপের সবচেয়ে বড় শাস্তি হলো ইবাদতে স্বাদ না পাওয়া এবং গুনাহ করার পরও মনে অনুশোচনা না আসা। রিজিক বা দুনিয়াবি সুখ থাকা মানেই আল্লাহ সন্তুষ্ট-এমন ভাবাটা এক ধরনের বিভ্রম।