ঢাকা ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

পাপের সবচেয়ে বড় শাস্তি কী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

আমরা কত শত ভুল করি, কত ধরনের পাপের সাগরে ডুব দিই! এরপর যখন দেখি আমাদের আয়-উন্নতি ঠিকঠাক চলছে, অসুখবিসুখ হচ্ছে না, তখন বুক ফুলিয়ে বলি-‘কই? আল্লাহ তো আমাদের কোনো শাস্তি দিচ্ছেন না! আমরা তো বেশ ভালোই আছি।’

​ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘বাদায়িউল ফাওয়াইদ’-এ এক অমোঘ সত্য লিখে গেছেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো বান্দার জন্য অন্তরের কঠোরতা বা হৃদয় পাথর হয়ে যাওয়ার চেয়ে বড় কোনো শাস্তি আর হতে পারে না।’

​আপনি হয়তো ভাবছেন আপনার রিজিক ঠিক আছে মানেই আপনি নিরাপদ। হয়তো অবজ্ঞার সুরে বলছেন-শাস্তিটা কোথায়?

তাহলে শুনুন, আপনার বর্তমান অবস্থাটাই তো একটা ভয়াবহ শাস্তি! ​আপনার পাশ দিয়ে জানাজার খাটিয়া চলে যায়, অথচ আপনার ভেতরের মানুষটা একটুও নড়েচড়ে বসে না। আপনার একটা পশমও শিউরে ওঠে না।

​আপনার কানে কোরআন তিলাওয়াতের সুর আসে, কিন্তু সেই সুর এক কান দিয়ে ঢুকে অন্য কান দিয়ে বেরিয়ে যায়। আপনার কলিজায় কি কোনো কম্পন সৃষ্টি হয়? ​আপনার নামাজগুলো একের পর এক কাজা হয়ে যাচ্ছে, অথচ আপনার শরীরের প্রতিটি কোষ যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে উঠছে না।

আপনি দিব্যি স্বাভাবিক আছেন! ​আপনি যখন বিপদগ্রস্ত মানুষদের দেখেন, তখনও কি আপনার নিজের সুস্থতা ও নিয়ামত নিয়ে একবারও আত্মতৃপ্তি আর কৃতজ্ঞতায় চোখ ভিজে উঠছে?

​ভাই আমার, আপনি কি এখনো জিজ্ঞাস করবেন-‘শাস্তি কোথায়?’ আপনার জ্যান্ত কলিজাটা যখন আজ পাথর হয়ে গেছে, তখন এর চেয়ে বড় আজাব আর কী হতে পারে?

​নিজেকে একটু সময় দিন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মৃতপ্রায় হৃদয়টাকে প্রশ্ন করুন। ফেরার সময় কি এখনো হয়নি?

​মূল বার্তা : পাপের সবচেয়ে বড় শাস্তি হলো ইবাদতে স্বাদ না পাওয়া এবং গুনাহ করার পরও মনে অনুশোচনা না আসা। রিজিক বা দুনিয়াবি সুখ থাকা মানেই আল্লাহ সন্তুষ্ট-এমন ভাবাটা এক ধরনের বিভ্রম।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

পাপের সবচেয়ে বড় শাস্তি কী

আপডেট সময় ০৫:৩১:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

আমরা কত শত ভুল করি, কত ধরনের পাপের সাগরে ডুব দিই! এরপর যখন দেখি আমাদের আয়-উন্নতি ঠিকঠাক চলছে, অসুখবিসুখ হচ্ছে না, তখন বুক ফুলিয়ে বলি-‘কই? আল্লাহ তো আমাদের কোনো শাস্তি দিচ্ছেন না! আমরা তো বেশ ভালোই আছি।’

​ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘বাদায়িউল ফাওয়াইদ’-এ এক অমোঘ সত্য লিখে গেছেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো বান্দার জন্য অন্তরের কঠোরতা বা হৃদয় পাথর হয়ে যাওয়ার চেয়ে বড় কোনো শাস্তি আর হতে পারে না।’

​আপনি হয়তো ভাবছেন আপনার রিজিক ঠিক আছে মানেই আপনি নিরাপদ। হয়তো অবজ্ঞার সুরে বলছেন-শাস্তিটা কোথায়?

তাহলে শুনুন, আপনার বর্তমান অবস্থাটাই তো একটা ভয়াবহ শাস্তি! ​আপনার পাশ দিয়ে জানাজার খাটিয়া চলে যায়, অথচ আপনার ভেতরের মানুষটা একটুও নড়েচড়ে বসে না। আপনার একটা পশমও শিউরে ওঠে না।

​আপনার কানে কোরআন তিলাওয়াতের সুর আসে, কিন্তু সেই সুর এক কান দিয়ে ঢুকে অন্য কান দিয়ে বেরিয়ে যায়। আপনার কলিজায় কি কোনো কম্পন সৃষ্টি হয়? ​আপনার নামাজগুলো একের পর এক কাজা হয়ে যাচ্ছে, অথচ আপনার শরীরের প্রতিটি কোষ যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে উঠছে না।

আপনি দিব্যি স্বাভাবিক আছেন! ​আপনি যখন বিপদগ্রস্ত মানুষদের দেখেন, তখনও কি আপনার নিজের সুস্থতা ও নিয়ামত নিয়ে একবারও আত্মতৃপ্তি আর কৃতজ্ঞতায় চোখ ভিজে উঠছে?

​ভাই আমার, আপনি কি এখনো জিজ্ঞাস করবেন-‘শাস্তি কোথায়?’ আপনার জ্যান্ত কলিজাটা যখন আজ পাথর হয়ে গেছে, তখন এর চেয়ে বড় আজাব আর কী হতে পারে?

​নিজেকে একটু সময় দিন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মৃতপ্রায় হৃদয়টাকে প্রশ্ন করুন। ফেরার সময় কি এখনো হয়নি?

​মূল বার্তা : পাপের সবচেয়ে বড় শাস্তি হলো ইবাদতে স্বাদ না পাওয়া এবং গুনাহ করার পরও মনে অনুশোচনা না আসা। রিজিক বা দুনিয়াবি সুখ থাকা মানেই আল্লাহ সন্তুষ্ট-এমন ভাবাটা এক ধরনের বিভ্রম।