ঢাকা ১০:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

রোজা রেখে ইনজেকশন-ইনসুলিন নেওয়া যাবে কি?

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রমজান মাসে রোজা রাখা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মুসলমানের ওপর ফরজ। শরিয়তসম্মত কারণ ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ত্যাগ করা গুরুতর গুনাহ। আল্লাহ তাআলা বলেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ

‘হে ইমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৮৩)

তবে রোজা অবস্থায় অনেক সময় রোগীর ওষুধ গ্রহণ, ইনজেকশন নেওয়া বা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সংশয় দেখা দেয়—এসব চিকিৎসা গ্রহণ করলে রোজা নষ্ট হবে কি না। সমসাময়িক ইসলামী চিন্তাবিদ ও ফকিহরা কুরআন-সুন্নাহর আলোকে এ বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। নিচে ইনজেকশন, ইনসুলিন ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা সংক্রান্ত বিধান উপস্থাপন করা হলো।

রোজা রেখে ইনজেকশন ও ইনসুলিন নেওয়া যাবে কি? আধুনিক মাসায়েলার আলোকে বিশ্লেষণ

ইনজেকশন নেওয়ার বিধান:

রোজা অবস্থায় শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি ছাড়া অন্য যেকোনো চিকিৎসাগত কারণে ইনজেকশন নিলে রোজা নষ্ট হবে না—চাই তা মাংসে (ইন্ট্রামাসকুলার) দেওয়া হোক বা রগে/শিরায় (ইন্ট্রাভেনাস)।

কারণ ইনজেকশনের মাধ্যমে ওষুধ শরীরে প্রবেশ করে একটি অস্বাভাবিক পথ দিয়ে (অর্থাৎ মুখ, নাক বা স্বাভাবিক খাদ্যগ্রহণের পথ নয়)। ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী, রোজা ভঙ্গ হওয়ার জন্য খাদ্য বা পানীয় জাতীয় কিছু স্বাভাবিক প্রবেশপথ দিয়ে পাকস্থলীতে পৌঁছানো শর্ত। ইনজেকশনের ক্ষেত্রে তা ঘটে না। (আল্লামা ইবনে আবিদিন, রদ্দুল মুহতার, খণ্ড ২, পৃ. ৩৯৫; ইবনু নুজাইম, আল-বাহরুর রায়েক, খণ্ড ২, পৃ. ২৭৮; আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল, খণ্ড ৩, পৃ. ২১৪)

ইনসুলিন গ্রহণের বিধান:

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ইনসুলিন নেওয়া একটি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা। শরিয়তের দৃষ্টিতে ইনসুলিন নিলে রোজা ভঙ্গ হবে না। কারণ, ইনসুলিনও ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং তা খাদ্য বা পানীয় হিসেবে গণ্য হয় না। এটি স্বাভাবিক খাদ্যগ্রহণের পথ দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে না এবং পাকস্থলীতে পৌঁছায় না। ফলে রোজা নষ্ট হওয়ার কোনো কারণ সৃষ্টি হয় না। (ইবনে আবিদিন, খণ্ড ৩, পৃ. ৩৬৭; ইসলাম ও আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান, পৃ. ৩২৭)

ডায়াবেটিস পরীক্ষা ও রক্ত নেওয়া:

ডায়াবেটিস রোগীরা নিয়মিত সুগার পরীক্ষা করেন। এ ক্ষেত্রে আঙুলে সূচ ফুটিয়ে একফোঁটা রক্ত নেওয়া হয়। ফকিহদের মতে, এতটুকু রক্ত নেওয়ার ফলে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। কারণ, এতে শরীরে কোনো খাদ্য বা পানীয় প্রবেশ করে না; বরং অল্প পরিমাণ রক্ত বের হয়, যা রোজা ভঙ্গের কারণ নয়।

রোজা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তবে ইসলাম একটি সহজ ও বাস্তবসম্মত জীবনব্যবস্থা। অসুস্থ ব্যক্তির প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণে শরিয়ত বাধা দেয় না। ইনজেকশন (শক্তিবর্ধক না হলে), ইনসুলিন গ্রহণ এবং সুগার পরীক্ষা—এসবের মাধ্যমে রোজা নষ্ট হয় না বলে প্রখ্যাত ফকিহ ও সমসাময়িক আলেমরা মত দিয়েছেন।

অতএব, যারা দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগছেন, বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীরা, তারা অযথা দুশ্চিন্তা না করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন। তবে জটিল বা বিশেষ পরিস্থিতিতে নিজ নিজ বিশ্বস্ত আলেম ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সহিহভাবে রোজা পালনের তৌফিক দান করুন। আমিন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রোজা রেখে ইনজেকশন-ইনসুলিন নেওয়া যাবে কি?

আপডেট সময় ০৭:৪২:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রমজান মাসে রোজা রাখা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মুসলমানের ওপর ফরজ। শরিয়তসম্মত কারণ ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ত্যাগ করা গুরুতর গুনাহ। আল্লাহ তাআলা বলেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ

‘হে ইমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৮৩)

তবে রোজা অবস্থায় অনেক সময় রোগীর ওষুধ গ্রহণ, ইনজেকশন নেওয়া বা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সংশয় দেখা দেয়—এসব চিকিৎসা গ্রহণ করলে রোজা নষ্ট হবে কি না। সমসাময়িক ইসলামী চিন্তাবিদ ও ফকিহরা কুরআন-সুন্নাহর আলোকে এ বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। নিচে ইনজেকশন, ইনসুলিন ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা সংক্রান্ত বিধান উপস্থাপন করা হলো।

রোজা রেখে ইনজেকশন ও ইনসুলিন নেওয়া যাবে কি? আধুনিক মাসায়েলার আলোকে বিশ্লেষণ

ইনজেকশন নেওয়ার বিধান:

রোজা অবস্থায় শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি ছাড়া অন্য যেকোনো চিকিৎসাগত কারণে ইনজেকশন নিলে রোজা নষ্ট হবে না—চাই তা মাংসে (ইন্ট্রামাসকুলার) দেওয়া হোক বা রগে/শিরায় (ইন্ট্রাভেনাস)।

কারণ ইনজেকশনের মাধ্যমে ওষুধ শরীরে প্রবেশ করে একটি অস্বাভাবিক পথ দিয়ে (অর্থাৎ মুখ, নাক বা স্বাভাবিক খাদ্যগ্রহণের পথ নয়)। ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী, রোজা ভঙ্গ হওয়ার জন্য খাদ্য বা পানীয় জাতীয় কিছু স্বাভাবিক প্রবেশপথ দিয়ে পাকস্থলীতে পৌঁছানো শর্ত। ইনজেকশনের ক্ষেত্রে তা ঘটে না। (আল্লামা ইবনে আবিদিন, রদ্দুল মুহতার, খণ্ড ২, পৃ. ৩৯৫; ইবনু নুজাইম, আল-বাহরুর রায়েক, খণ্ড ২, পৃ. ২৭৮; আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল, খণ্ড ৩, পৃ. ২১৪)

ইনসুলিন গ্রহণের বিধান:

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ইনসুলিন নেওয়া একটি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা। শরিয়তের দৃষ্টিতে ইনসুলিন নিলে রোজা ভঙ্গ হবে না। কারণ, ইনসুলিনও ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং তা খাদ্য বা পানীয় হিসেবে গণ্য হয় না। এটি স্বাভাবিক খাদ্যগ্রহণের পথ দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে না এবং পাকস্থলীতে পৌঁছায় না। ফলে রোজা নষ্ট হওয়ার কোনো কারণ সৃষ্টি হয় না। (ইবনে আবিদিন, খণ্ড ৩, পৃ. ৩৬৭; ইসলাম ও আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান, পৃ. ৩২৭)

ডায়াবেটিস পরীক্ষা ও রক্ত নেওয়া:

ডায়াবেটিস রোগীরা নিয়মিত সুগার পরীক্ষা করেন। এ ক্ষেত্রে আঙুলে সূচ ফুটিয়ে একফোঁটা রক্ত নেওয়া হয়। ফকিহদের মতে, এতটুকু রক্ত নেওয়ার ফলে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। কারণ, এতে শরীরে কোনো খাদ্য বা পানীয় প্রবেশ করে না; বরং অল্প পরিমাণ রক্ত বের হয়, যা রোজা ভঙ্গের কারণ নয়।

রোজা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তবে ইসলাম একটি সহজ ও বাস্তবসম্মত জীবনব্যবস্থা। অসুস্থ ব্যক্তির প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণে শরিয়ত বাধা দেয় না। ইনজেকশন (শক্তিবর্ধক না হলে), ইনসুলিন গ্রহণ এবং সুগার পরীক্ষা—এসবের মাধ্যমে রোজা নষ্ট হয় না বলে প্রখ্যাত ফকিহ ও সমসাময়িক আলেমরা মত দিয়েছেন।

অতএব, যারা দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগছেন, বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীরা, তারা অযথা দুশ্চিন্তা না করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন। তবে জটিল বা বিশেষ পরিস্থিতিতে নিজ নিজ বিশ্বস্ত আলেম ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সহিহভাবে রোজা পালনের তৌফিক দান করুন। আমিন।