আকাশ বিনোদন ডেস্ক :
অভিনয় থেকে উপস্থাপনা। নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি। তবে সমালোচনা বা আলোচনা যাই হোক না কেনো তিনি এখনও ঠায় দাঁড়িয়ে নিজের অঙ্গনে। ১৯৯৭ সালে অভিনেতা টিভিতে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। সেই যে পথ চলা আর থামেনি। এখনো চলমান। গতিতে ধীর এসেছে। তবে চলছে এখনও।
অভিনয়ের পাশাপাশি নাটক, সিনেমাও পরিচালনা করেছেন। মোটকথা শোবিজ অঙ্গনে জয় নিজের গতিতেই চলেছেন, চলছেন। নিজের এই পথচলা সম্পর্কে শাহরিয়ার নাজিম বলেন, নাটক অভিনয়ের আগে থিয়েটার করেছি। সবমিলিয়ে অভিনেতা হিসেবে আমার ত্রিশ বছরের ক্যারিয়ার। সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে আমার এগিয়ে কখনও থেমে থাকেনি। আমি খুবই সৌভাগ্যবান যে, এখনো আমাকে অন্যতম প্রধান চরিত্রে ডাকা হয়। ওটিটিতে ৭ নাম্বার ফ্লোর, ৮৪০, জিম্মি, গুটি, পাপকাহিনি সবগুলোতে আমাকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখেছে দর্শক, পছন্দ করেছেন। আগামীতে পাপকাহিনি সিজন ২ করতে যাচ্ছি। বহুমুখী মাধ্যম থেকে আমি ভালোবাসা পেয়েছি দর্শকদের, এজন্য আমি অভিনেতা পরিচয়ে অনেক বেশি গর্বিত। বেশ কয়েকবছর উপস্থপনাও করেছি, সেই পরিচয়ও আমাকে জনপ্রিয়তা দিয়েছে। তবে উপস্থাপনাটাও আমার একধরনের অভিনয় ছিল।
শাহরিয়ার নাজিম জয় অভিনীত তুমুল জনপ্রিয় নাটক ছিল খড়ের পুতুল, মুখোশ, বিলেতি বিলাস, লাল ঘুড়ি, পাতা ঝরে বৃক্ষ মরে না, প্রতিদিন একটি গোলাপ, যদিও সন্ধ্যা, সমুদ্র বিলাশ, বিয়ের আংটি নাটকগুলো তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছি।
তিনি বলেন, ফেরদৌস হাসান, সোহেল আরমান, অরুন চৌধুরী, সেলিম আল দ্বীন, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, চয়নিকা চৌধুরী, অরুণ চৌধুরী, অরণ্য আনোয়ারসহ বহু জনপ্রিয় নির্মাতার কাজ করেছি। সবমিলিয়ে আমি একহাজারের উপর নাটক করেছি। এসব কাজ আমার ক্যারিয়ারকে সমৃদ্ধ করেছে। গ্রাম গঞ্জের পিরিতি, জীবনের গল্প এই দুটি সিনেমাও আমাকে অনেক বেশি দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। আমার নির্মিত প্রার্থনা সিনেমা দুটি ন্যাশনাল এওয়ার্ড পেয়েছে। আরও নির্মিত সিনেমার মধ্যে অর্পিতা, প্রিয়কমলা।
ত্রিশ বছরের অভিনয় ক্যারিয়ারে প্রাপ্তি প্রসঙ্গে জয় বলেন, ত্রিশ বছরে আমার অভিনয় দেখে কেউ বিরক্ত হয়নি। কেউ আমাকে বলেনি, আমি স্ক্রিনে এসে তাদের বিরক্ত করেছি। এমনকি কেউ আমার অভিনয় নিয়ে সমালোচনা করেনি। আমি ভালো ভালো কাজ করার চেষ্টা করেছি। দর্শক আমার সেই কাজগুলো দেখে প্রশংসা করেছে। এই ভালোবাসাটাই আমি অভিনেতা হিসেবে সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করি।
অভিনয় ক্যারিয়ার নিয়ে ভবিষ্যৎ প্ল্যান প্রসঙ্গে জয়ের বলেন, সময়ের সঙ্গে থাকতে পারাটাই আমার চ্যালেঞ্জ। এখন ওটিটির কাজ জনপ্রিয় হচ্ছে। এর ফলে নতুন জেনারেশনের কাছে পৌঁছানো যাচ্ছে। অভিনেতা হিসেবে যে কাজটাই করি খুব সিরিয়াস ভাবে প্রস্তুত হয়ে করছি। আমার চাপ হচ্ছে সময়ের সঙ্গে আপডেট থাকা, নইলে আমি ছিটকে যাবো। মানুষের চলার পথে নানা ভুলভ্রান্তি থাকবেই, সেজন্য সচেতনভাবে সবকিছু করছি। আমি দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় শিখেছি, খারাপ সময় যদি কেউ ধৈর্য ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ফেইস করতে পারে তবে সেটা বারুদ হয়ে বের হবে। সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা আছে, সবার দোয়া ও সাপোর্টে আমি এখন আত্মবিশ্বাসী কেউ আমাকে এখন আর আটকে রাখতে পারবে না।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























