ঢাকা ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

সুদিনে আল্লাহকে স্মরণ করার গুরুত্ব

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

আমাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল মহান রাব্বুল আলামিন। তাই আমাদের উচিত সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করা। তিনি ছাড়া আর কেউ বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারে না। সুখ-শান্তি দিতে পারে না।

এ কারণে আমাদের উচিত সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না—সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহর ওপর অগাধ বিশ্বাস রাখা, তাঁর কাছেই আশ্রয় চাওয়া। যারা সুখের দিনে আল্লাহকে ভুলে যায় এবং দুঃখের দিনে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং দুঃখ থেকে উদ্ধার হলেই আবারও পুরনো বস্তুবাদী চিন্তায় ফেরত যায়, মহান আল্লাহ তাদের পছন্দ করেন না।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর তারা যখন নৌযানে আরোহণ করে, তখন তারা আনুগত্যে বিশুদ্ধ হয়ে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকে ডাকে। তারপর তিনি যখন স্থলে ভিড়িয়ে তাদের উদ্ধার করেন, তখন তারা শিরকে লিপ্ত হয়।’ (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ৬৫)

বাস্তব জীবনেও মানুষ যখন গভীর সমুদ্রে ঝড়ের কবলে পড়ে, যখন বেঁচে ফেরার আর কোনো আশা থাকে না, তখন সবাই এক বাক্যে আল্লাহকে ডাকতে থাকে। কিন্তু যখন মহান আল্লাহ ঝড় থামিয়ে তাদের নিরাপদে পারে পৌঁছে দেন, তখন অনেকে মন্তব্য করে বসে যে আমাদের জাহাজ ভালো হওয়ায় বেঁচে গেছি, নাবিক ভালো হওয়ায় বেঁচে গেছি ইত্যাদি।

তবে এ কথা সত্য যে মানুষ যত বড় খোদাদ্রোহীই হোক, বিপদে সে মহান আল্লাহর কাছেই ফিরে আসে। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে তখন অনেক দেরি হয়ে যায়।

যেমন ফেরাউন আজীবন মহান আল্লাহর নাফরমানিতে লিপ্ত ছিল। যখন সে সাগরে ডুবে মৃত্যুর মুখে পড়ে বলতে শুরু করল, আমি ঈমান এনেছি, যে আল্লাহর ওপর বনি ইসরাঈলরা ঈমান এনেছে, তাঁকে ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই। আর আমি তাঁরই আনুগত্যকারীদের অন্তর্ভুক্ত। তখন স্বয়ং আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তার উত্তর দেওয়া হয়েছে, এখন (ঈমান এনেছ)? অথচ এর আগে তুমি অবাধ্য ছিলে এবং অশান্তি সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে।’
(সুরা : ইউনুস, আয়াত : ৯১)

এ কারণে সুখের দিনেও মহান আল্লাহর শুকরিয়া করা উচিত।

মহান আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা উচিত। তাহলে বিপদের দিনে মহান আল্লাহই আমাদের তাঁর রহমতের চাদরে আশ্রয় দেবেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে লোক বিপদ-আপদ ও সংকটের সময় আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ লাভ করতে চায়, সে যেন সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের সময় বেশি পরিমাণে দোয়া করে।
(তিরমিজি, হাদিস : ৩৩৮২)।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সর্বাবস্থায় তাঁর অনুগত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

সুদিনে আল্লাহকে স্মরণ করার গুরুত্ব

আপডেট সময় ০৮:৩০:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৫

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

আমাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল মহান রাব্বুল আলামিন। তাই আমাদের উচিত সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করা। তিনি ছাড়া আর কেউ বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারে না। সুখ-শান্তি দিতে পারে না।

এ কারণে আমাদের উচিত সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না—সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহর ওপর অগাধ বিশ্বাস রাখা, তাঁর কাছেই আশ্রয় চাওয়া। যারা সুখের দিনে আল্লাহকে ভুলে যায় এবং দুঃখের দিনে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং দুঃখ থেকে উদ্ধার হলেই আবারও পুরনো বস্তুবাদী চিন্তায় ফেরত যায়, মহান আল্লাহ তাদের পছন্দ করেন না।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর তারা যখন নৌযানে আরোহণ করে, তখন তারা আনুগত্যে বিশুদ্ধ হয়ে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকে ডাকে। তারপর তিনি যখন স্থলে ভিড়িয়ে তাদের উদ্ধার করেন, তখন তারা শিরকে লিপ্ত হয়।’ (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ৬৫)

বাস্তব জীবনেও মানুষ যখন গভীর সমুদ্রে ঝড়ের কবলে পড়ে, যখন বেঁচে ফেরার আর কোনো আশা থাকে না, তখন সবাই এক বাক্যে আল্লাহকে ডাকতে থাকে। কিন্তু যখন মহান আল্লাহ ঝড় থামিয়ে তাদের নিরাপদে পারে পৌঁছে দেন, তখন অনেকে মন্তব্য করে বসে যে আমাদের জাহাজ ভালো হওয়ায় বেঁচে গেছি, নাবিক ভালো হওয়ায় বেঁচে গেছি ইত্যাদি।

তবে এ কথা সত্য যে মানুষ যত বড় খোদাদ্রোহীই হোক, বিপদে সে মহান আল্লাহর কাছেই ফিরে আসে। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে তখন অনেক দেরি হয়ে যায়।

যেমন ফেরাউন আজীবন মহান আল্লাহর নাফরমানিতে লিপ্ত ছিল। যখন সে সাগরে ডুবে মৃত্যুর মুখে পড়ে বলতে শুরু করল, আমি ঈমান এনেছি, যে আল্লাহর ওপর বনি ইসরাঈলরা ঈমান এনেছে, তাঁকে ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই। আর আমি তাঁরই আনুগত্যকারীদের অন্তর্ভুক্ত। তখন স্বয়ং আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তার উত্তর দেওয়া হয়েছে, এখন (ঈমান এনেছ)? অথচ এর আগে তুমি অবাধ্য ছিলে এবং অশান্তি সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে।’
(সুরা : ইউনুস, আয়াত : ৯১)

এ কারণে সুখের দিনেও মহান আল্লাহর শুকরিয়া করা উচিত।

মহান আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা উচিত। তাহলে বিপদের দিনে মহান আল্লাহই আমাদের তাঁর রহমতের চাদরে আশ্রয় দেবেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে লোক বিপদ-আপদ ও সংকটের সময় আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ লাভ করতে চায়, সে যেন সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের সময় বেশি পরিমাণে দোয়া করে।
(তিরমিজি, হাদিস : ৩৩৮২)।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সর্বাবস্থায় তাঁর অনুগত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।