ঢাকা ০৬:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

চঞ্চল-জয়াদের বয়কটের ডাক বিজেপি নেতার

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে সাংস্কৃতিক লেনদেন ছিল রমরমা। বাংলাদেশের অভিনয়শিল্পীরা যেমন ভারতীয় ওয়েব কনটেন্ট ও সিনেমায় কাজ করছিলেন, তেমনি ভারতীয় অভিনয়শিল্পীরাও বাংলা সিনেমার শোভা বাড়িয়েছেন। কিন্তু গত আগস্টে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই সাংস্কৃতিক লেনদেনে এখন ধস নামার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের বাংলাদেশের ভারত-ঘেঁষা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পড়ে যায়। এর পরপরই বাংলাদেশিদের জন্য ভারত ভিসা সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। এদিকে আগরতলায় সহকারী হাইকমিশনে কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের হামলার পর বাংলাদেশও এই ইস্যুতে কঠোর হতে পারে।

ভিসা নিয়ে এই জটিলতায় এক দেশের শিল্পীদের অন্য দেশে কাজ করার ক্ষেত্রে এমনিতেই সংকট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের শিল্পীদের বয়কটের ডাক দিয়ে পরিস্থিতি আরও বেগতিক করলেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য।

রোববার (১৫ ডিসেম্বর) সল্টলেক বিজেপি অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, বাংলাদেশে ‘সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার’ চললেও অভিনয়শিল্পীরা নিরব। প্রতিবাদ না করলে তাদেরকে পশ্চিমবঙ্গের কাজ থেকে বয়কট করতে হবে।

এই বিজেপি নেতা বলেন, ‘কোনো ধর্মের মোড়কে বা উপাসনার পদ্ধতির মোড়কে আমরা কারো অভিনয় সত্তাকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে চাই না। কিন্তু এই মুহূর্তে বাংলাদেশের শিল্পীদের বয়কট করতে হবে। সেখানকার যারা ইসলাম ধর্মাবলম্বী অভিনয়শিল্পী আছেন, তারা বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করুন। হিন্দু অত্যাচারের বিরুদ্ধে কথা বলুক তারপর তাদের শুটিংয়ে নামান। ওপার বাংলায় অত্যাচার চলছে, আর তারা এখানে সিনেমা করবেন, কিন্তু কোনো প্রতিবাদ করবেন না, এটা তো হতে পারে না।’

এসময় বাংলাদেশের তারকা অভিনেত্রী জয়া আহসানের নাম উল্লেখ করে এই বিজেপি নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশে জয়া আহসানের তো হিন্দু দর্শকও আছেন। কিন্তু তিনি কোনো প্রতিবাদ করছেন না। জয়া আহসান না হয়ে যদি উনি জয়া ভাদুড়ি হতেন, তাহলে একটা প্রশ্ন ছিল। উনার ছবি মুসলমানেরা যেমন দেখেন, তেমনি হিন্দুরাও দেখেন। উনাকে প্রতিবাদ করতে হবে। আমরা এই ভিন্ন রাজনীতি চাই না।’

পশ্চিমবঙ্গের শিল্পীদেরও একহাত নিয়েছেন শমীক। হতাশা নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানকার শিল্পীদেরও প্রতিবাদ চোখে পড়ছে না। গৌতম ঘোষের প্রতিবাদ কোথায় গেল? তিনি তো বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় সিনেমা করেছেন। তাকেও কোনো কথা বলতে দেখছি না। প্রসেনজিতের মতো অভিনেতার কাছ থেকেও সমাজ এটা আশা করে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

চঞ্চল-জয়াদের বয়কটের ডাক বিজেপি নেতার

আপডেট সময় ০৭:২৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে সাংস্কৃতিক লেনদেন ছিল রমরমা। বাংলাদেশের অভিনয়শিল্পীরা যেমন ভারতীয় ওয়েব কনটেন্ট ও সিনেমায় কাজ করছিলেন, তেমনি ভারতীয় অভিনয়শিল্পীরাও বাংলা সিনেমার শোভা বাড়িয়েছেন। কিন্তু গত আগস্টে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই সাংস্কৃতিক লেনদেনে এখন ধস নামার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের বাংলাদেশের ভারত-ঘেঁষা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পড়ে যায়। এর পরপরই বাংলাদেশিদের জন্য ভারত ভিসা সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। এদিকে আগরতলায় সহকারী হাইকমিশনে কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের হামলার পর বাংলাদেশও এই ইস্যুতে কঠোর হতে পারে।

ভিসা নিয়ে এই জটিলতায় এক দেশের শিল্পীদের অন্য দেশে কাজ করার ক্ষেত্রে এমনিতেই সংকট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের শিল্পীদের বয়কটের ডাক দিয়ে পরিস্থিতি আরও বেগতিক করলেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য।

রোববার (১৫ ডিসেম্বর) সল্টলেক বিজেপি অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, বাংলাদেশে ‘সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার’ চললেও অভিনয়শিল্পীরা নিরব। প্রতিবাদ না করলে তাদেরকে পশ্চিমবঙ্গের কাজ থেকে বয়কট করতে হবে।

এই বিজেপি নেতা বলেন, ‘কোনো ধর্মের মোড়কে বা উপাসনার পদ্ধতির মোড়কে আমরা কারো অভিনয় সত্তাকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে চাই না। কিন্তু এই মুহূর্তে বাংলাদেশের শিল্পীদের বয়কট করতে হবে। সেখানকার যারা ইসলাম ধর্মাবলম্বী অভিনয়শিল্পী আছেন, তারা বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করুন। হিন্দু অত্যাচারের বিরুদ্ধে কথা বলুক তারপর তাদের শুটিংয়ে নামান। ওপার বাংলায় অত্যাচার চলছে, আর তারা এখানে সিনেমা করবেন, কিন্তু কোনো প্রতিবাদ করবেন না, এটা তো হতে পারে না।’

এসময় বাংলাদেশের তারকা অভিনেত্রী জয়া আহসানের নাম উল্লেখ করে এই বিজেপি নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশে জয়া আহসানের তো হিন্দু দর্শকও আছেন। কিন্তু তিনি কোনো প্রতিবাদ করছেন না। জয়া আহসান না হয়ে যদি উনি জয়া ভাদুড়ি হতেন, তাহলে একটা প্রশ্ন ছিল। উনার ছবি মুসলমানেরা যেমন দেখেন, তেমনি হিন্দুরাও দেখেন। উনাকে প্রতিবাদ করতে হবে। আমরা এই ভিন্ন রাজনীতি চাই না।’

পশ্চিমবঙ্গের শিল্পীদেরও একহাত নিয়েছেন শমীক। হতাশা নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানকার শিল্পীদেরও প্রতিবাদ চোখে পড়ছে না। গৌতম ঘোষের প্রতিবাদ কোথায় গেল? তিনি তো বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় সিনেমা করেছেন। তাকেও কোনো কথা বলতে দেখছি না। প্রসেনজিতের মতো অভিনেতার কাছ থেকেও সমাজ এটা আশা করে।’