ঢাকা ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

জর্জিয়ায় বিক্ষোভে রহস্যজনক হামলা, ৪ শতাধিক গ্রেফতার

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের আলোচনা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জর্জিয়া সরকার। এর বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভে সহিংসতা ও দমন-পীড়নের অভিযোগ উঠেছে।

অধিকার গোষ্ঠী এবং স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই বিক্ষোভে ৪০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী গ্রেফতার হয়েছে। এদের মধ্যে ৩০ জনের বিরুদ্ধে ‘গণ সহিংসতায়’ জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া গিরগি তেরিশভিলি নামে ৫২ বছর বয়সি এক ট্যাক্সি চালককেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তার মা মারিনা জানিয়েছেন, তার বড় ছেলে মামুকা ১৯৯২ সালে একটি জাতীয়তাবাদী সমাবেশে নিহত হয়েছিলেন।

বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছে, পুলিশের টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষার জন্য তারা আতশবাজি ও অন্যান্য বস্তু ছুঁড়ে মেরেছে।

তবে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলার জন্য মুখোশধারী একটি গ্রুপকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। প্রখ্যাত বিরোধীদলীয় নেতা এবং সাংবাদিকরা এসব হামলার শিকার হয়েছেন।

এদিকে শাসক দল জর্জিয়ান ড্রিম পার্টি ইইউ আলোচনা স্থগিতাদেশের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে, এটি রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও শান্তি রক্ষার জন্য একটি বাস্তববাদী পদক্ষেপ।

পশ্চিমা দেশগুলো জর্জিয়া সরকারের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে এবং ইইউ এই দমনপীড়নের জন্য জর্জিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছে।

তবে ক্ষমতাসীন জর্জিয়ান ড্রিম পার্টি এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, বিরোধীদল সরকারকে কলঙ্কিত করার জন্যই এই হামলা চালাচ্ছে।

এদিকে জর্জিয়ার ওম্বাডসম্যান লেভান ইয়োসেলিয়ানি জানিয়েছেন, তিনি ৩২৭ জন বন্দির অবস্থা দেখেছেন। যাদের মধ্যে ২২৫ জন নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন এবং ১৫৭ জনের গায়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কেড়েছে এবং জর্জিয়ার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

জর্জিয়ায় বিক্ষোভে রহস্যজনক হামলা, ৪ শতাধিক গ্রেফতার

আপডেট সময় ০৭:১০:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৪

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের আলোচনা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জর্জিয়া সরকার। এর বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভে সহিংসতা ও দমন-পীড়নের অভিযোগ উঠেছে।

অধিকার গোষ্ঠী এবং স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই বিক্ষোভে ৪০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী গ্রেফতার হয়েছে। এদের মধ্যে ৩০ জনের বিরুদ্ধে ‘গণ সহিংসতায়’ জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া গিরগি তেরিশভিলি নামে ৫২ বছর বয়সি এক ট্যাক্সি চালককেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তার মা মারিনা জানিয়েছেন, তার বড় ছেলে মামুকা ১৯৯২ সালে একটি জাতীয়তাবাদী সমাবেশে নিহত হয়েছিলেন।

বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছে, পুলিশের টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষার জন্য তারা আতশবাজি ও অন্যান্য বস্তু ছুঁড়ে মেরেছে।

তবে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলার জন্য মুখোশধারী একটি গ্রুপকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। প্রখ্যাত বিরোধীদলীয় নেতা এবং সাংবাদিকরা এসব হামলার শিকার হয়েছেন।

এদিকে শাসক দল জর্জিয়ান ড্রিম পার্টি ইইউ আলোচনা স্থগিতাদেশের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে, এটি রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও শান্তি রক্ষার জন্য একটি বাস্তববাদী পদক্ষেপ।

পশ্চিমা দেশগুলো জর্জিয়া সরকারের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে এবং ইইউ এই দমনপীড়নের জন্য জর্জিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছে।

তবে ক্ষমতাসীন জর্জিয়ান ড্রিম পার্টি এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, বিরোধীদল সরকারকে কলঙ্কিত করার জন্যই এই হামলা চালাচ্ছে।

এদিকে জর্জিয়ার ওম্বাডসম্যান লেভান ইয়োসেলিয়ানি জানিয়েছেন, তিনি ৩২৭ জন বন্দির অবস্থা দেখেছেন। যাদের মধ্যে ২২৫ জন নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন এবং ১৫৭ জনের গায়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কেড়েছে এবং জর্জিয়ার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।