ঢাকা ০৪:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতীয় পতাকা আমাকে প্রতি মুহূর্তে সততা-দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয় আর্জেন্টিনাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে গান গাওয়ায় ১৭ শিক্ষার্থীকে পেটালেন শিক্ষক গাজী নজরুলের আরেকটি ভিডিও ভাইরাল, ‘নতুন তরুণীকে’ ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শেখ হাসিনার ফোনালাপ, যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তিন দাবিতে শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সুফিবাদী সুন্নি মহাসমাবেশ ১১২ টাকায় সরকারি চাকরি সরকারের স্বচ্ছতার নিদর্শন: ত্রাণমন্ত্রী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম লাইফ সাপোর্টে সরকারের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ককরোচ জনতা পার্টির চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করলো বিজিবি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা চলছে

ভারতীয় ঋণে যেসব প্রকল্প করবে বাংলাদেশ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ভারতের দেয়া ৪৫০ কোটি ডলার বা ৩৬ হাজার কোটি টাকা ঋণের অর্থ দিয়ে ১৭টি প্রকল্প করার জন্য একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেছে বাংলাদেশ। তবে ঋণচুক্তিতে কোন প্রকল্পের নাম উল্লেখ থাকবে না বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে।

প্রকল্পগুলো হলো- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ বিতরণ অবকাঠামো উন্নয়ন, পায়রা বন্দরের বহুমুখী টার্মিনাল নির্মাণ, মোংলা বন্দর উন্নয়ন, বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার ও তীর সংরক্ষণ, বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত দ্বৈতগেজ রেলপথ নির্মাণ, সৈয়দপুর বিমানবন্দর উন্নতকরণ, বেনাপোল-যশোর-ভাটিয়াপাড়া-ভাঙ্গা সড়ককে চার লেনে উন্নীত করা, ঈশ্বরদীতে কনটেইনার ডিপো নির্মাণ, চট্টগ্রামে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ, কাটিহার-পার্বতীপুর-বরনগর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন তৈরি, চট্টগ্রামে ড্রাই ডক নির্মাণ, মিরসরাইয়ের বারৈয়ারহাট থেকে রামগড় পর্যন্ত চার লেনে সড়ক উন্নীত করা, মিরসরাই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন, মোল্লাহাটে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, কুমিল্লা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর হয়ে সরাইল পর্যন্ত চার লেন সড়ক নির্মাণ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে ১ লাখ এলইডি বাল্ব সরবরাহ প্রকল্প।

ভারতের তৃতীয় এলওসির এই অর্থের জন্য বছরে এক শতাংশ হারে সুদ আর প্রতিশ্রুতি মাশুল আধা শতাংশ পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশকে। এই ঋণ ৫ বছরের রেয়াত সময়সহ (গ্রেস পিরিয়ড) ২০ বছর সময়কালে পরিশোধ করা যাবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোন ঋণচুক্তির আওতায় এটিই হচ্ছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঋণ। এর আগে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়ার সঙ্গে ১ হাজার ১৩৮ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি করে বাংলাদেশ।

ইআরডি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশকে দেয়া ভারতের আগের দুটি এলওসির মতো তৃতীয় এলওসির শর্ত একই। আগের মতোই এসব প্রকল্পের কাজ পাবেন ভারতীয় ঠিকাদাররা। ঋণের টাকায় পূর্তকাজের প্রকল্প হলে ৬৫ শতাংশ মালামাল ও সেবা আনতে হবে ভারত থেকে। অন্য প্রকল্পে ৭৫ শতাংশ মালামাল ও সেবা ভারত থেকে আনতে হবে। আগের দুটি এলওসিতে মোট ৩০০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি হয়। গত জুন মাস পর্যন্ত প্রথম এলওসির মাত্র ৩৫ কোটি টাকা ছাড় হয়েছে। প্রথম এলওসির ১৫টি প্রকল্পের মধ্যে ৮টি প্রকল্প শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় এলওসির কোন প্রকল্পে অর্থ ছাড় হয়নি এখনও।

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ১০০ কোটি ডলারের প্রথম এলওসি ঋণচুক্তি হয় ২০১০ সালে। পরে অবশ্য ১৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার অনুদানে রূপান্তর করে ভারত। এরপর ২০১৫ সালের জুন মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় ২০০ কোটি ডলার ঋণ বা দ্বিতীয় এলওসির সমঝোতা চুক্তি হয়। পরে ২০১৬ সালের মার্চ মাসে ভারতের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ঋণচুক্তি হয়। এ ঋণের আওতায় ১৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা হাতে নেয় বাংলাদেশ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় পতাকা আমাকে প্রতি মুহূর্তে সততা-দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়

ভারতীয় ঋণে যেসব প্রকল্প করবে বাংলাদেশ

আপডেট সময় ১০:১১:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ভারতের দেয়া ৪৫০ কোটি ডলার বা ৩৬ হাজার কোটি টাকা ঋণের অর্থ দিয়ে ১৭টি প্রকল্প করার জন্য একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেছে বাংলাদেশ। তবে ঋণচুক্তিতে কোন প্রকল্পের নাম উল্লেখ থাকবে না বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে।

প্রকল্পগুলো হলো- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ বিতরণ অবকাঠামো উন্নয়ন, পায়রা বন্দরের বহুমুখী টার্মিনাল নির্মাণ, মোংলা বন্দর উন্নয়ন, বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার ও তীর সংরক্ষণ, বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত দ্বৈতগেজ রেলপথ নির্মাণ, সৈয়দপুর বিমানবন্দর উন্নতকরণ, বেনাপোল-যশোর-ভাটিয়াপাড়া-ভাঙ্গা সড়ককে চার লেনে উন্নীত করা, ঈশ্বরদীতে কনটেইনার ডিপো নির্মাণ, চট্টগ্রামে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ, কাটিহার-পার্বতীপুর-বরনগর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন তৈরি, চট্টগ্রামে ড্রাই ডক নির্মাণ, মিরসরাইয়ের বারৈয়ারহাট থেকে রামগড় পর্যন্ত চার লেনে সড়ক উন্নীত করা, মিরসরাই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন, মোল্লাহাটে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, কুমিল্লা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর হয়ে সরাইল পর্যন্ত চার লেন সড়ক নির্মাণ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে ১ লাখ এলইডি বাল্ব সরবরাহ প্রকল্প।

ভারতের তৃতীয় এলওসির এই অর্থের জন্য বছরে এক শতাংশ হারে সুদ আর প্রতিশ্রুতি মাশুল আধা শতাংশ পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশকে। এই ঋণ ৫ বছরের রেয়াত সময়সহ (গ্রেস পিরিয়ড) ২০ বছর সময়কালে পরিশোধ করা যাবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোন ঋণচুক্তির আওতায় এটিই হচ্ছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঋণ। এর আগে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়ার সঙ্গে ১ হাজার ১৩৮ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি করে বাংলাদেশ।

ইআরডি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশকে দেয়া ভারতের আগের দুটি এলওসির মতো তৃতীয় এলওসির শর্ত একই। আগের মতোই এসব প্রকল্পের কাজ পাবেন ভারতীয় ঠিকাদাররা। ঋণের টাকায় পূর্তকাজের প্রকল্প হলে ৬৫ শতাংশ মালামাল ও সেবা আনতে হবে ভারত থেকে। অন্য প্রকল্পে ৭৫ শতাংশ মালামাল ও সেবা ভারত থেকে আনতে হবে। আগের দুটি এলওসিতে মোট ৩০০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি হয়। গত জুন মাস পর্যন্ত প্রথম এলওসির মাত্র ৩৫ কোটি টাকা ছাড় হয়েছে। প্রথম এলওসির ১৫টি প্রকল্পের মধ্যে ৮টি প্রকল্প শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় এলওসির কোন প্রকল্পে অর্থ ছাড় হয়নি এখনও।

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ১০০ কোটি ডলারের প্রথম এলওসি ঋণচুক্তি হয় ২০১০ সালে। পরে অবশ্য ১৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার অনুদানে রূপান্তর করে ভারত। এরপর ২০১৫ সালের জুন মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় ২০০ কোটি ডলার ঋণ বা দ্বিতীয় এলওসির সমঝোতা চুক্তি হয়। পরে ২০১৬ সালের মার্চ মাসে ভারতের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ঋণচুক্তি হয়। এ ঋণের আওতায় ১৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা হাতে নেয় বাংলাদেশ।