ঢাকা ০৯:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায় পটুয়াখালীতে দুই বান্ধবীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ধর্ষকের মা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জরুরি নির্দেশনা শিশু পানিতে পড়লেই বাজবে সাইরেন, কল যাবে ফোনে,দাবি ভোলার তরুণ উদ্ভাবকএর আমেরিকার উস্কানিতে ইরানে বিক্ষোভ : মাসুদ পেজেশকিয়ান আমার মনোনয়ন বাতিল করার কোনো কারণ ছিল না: মাহমুদুর রহমান মান্না ব্রিটিশ সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিলেন ইলন মাস্ক ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনে বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে না : শেখ বশিরউদ্দীন

চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপি নেতা শাহে আলমের বিরুদ্ধে মামলা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মীর শাহে আলমসহ ১০ জনের নামে মামলা করা হয়েছে। গত ১৭ অক্টোবর শিবগঞ্জ উপজেলার ভাগখোলা গ্রামের মো. আশরাফুল আলম (৬১) বাদী হয়ে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিবগঞ্জ আমলী আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন-শিবগঞ্জ উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের মৃত সাত্তার তালুকদারের ছেলে মো. মামুন তালুকদার (৪০), মুরাদপুর গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদ মৃধার ছেলে মো. রোকনুজ্জামান রুবেল (৩২), চানপাড়া গ্রামের মো. বুলু মিয়ার ছেলে মো. আতিকুর রহমান (৩৫), ভাগকোলা গ্রামের মৃত হাফিজার রহমানের ছেলে মো. মোহন (৩৫), দক্ষিণ কৃষ্ণপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. বিপুল মিয়া (৪০), নিশিন্দারা পশ্চিমপাড়া গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে মো. আবু সাঈদ (২৭), শব্দদিঘী গ্রামের আলিম উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মজিদ (৩৮) ও একই গ্রামের মো. জাফর আলী এবং এরফান আলী।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২ অক্টোবর বিকেলে আসামি মীর শাহে আলমসহ অন্যান্য আসামিরা আশরাফুল আলমকে শিবগঞ্জ উপজেলার বানাইল এলাকায় ডেকে নিয়ে যায়। পরে সেখানে তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে মীর শাহে আলম। এসময় আশরাফুল চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করলে মামলা দিয়ে জেলে পাঠানোর ভয় দেখানো হয়। এ ছাড়া তাকে বিভিন্ন হুমকি-ধমকি প্রদান করেন আসামিরা।

এদিকে, গত ৮ সেপ্টেম্বর বগুড়া প্রেসক্লাবে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলমের অত্যাচার ও নির্যাতনে বিএনপির দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত অনেক নেতা-কর্মী চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন, এমন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও শিবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মতিয়ার রহমান মতিন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় বিএনপিতে তার অনুসারী না হলেই সেসব নেতা-কর্মীদের মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার আসামি করা হচ্ছে। এলাকায় তিনি ক্ষমতা দেখিয়ে যা ইচ্ছে তাই করছেন। বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় মীর শাহে আলমের কারণে সাধারণ মানুষ রাগে ক্ষোভে বিএনপি বিমুখ হয়ে যাচ্ছে।

এর আগে, ২০২৪ সালে সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী (ট্রাক মার্কা) সাবেক বিএনপি নেত্রী বিউটি বেগমের পক্ষে কাজ করতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলম টাকা নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। টাকা নিয়েও তিনি অন্য প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। এ ঘটনায় বিউটির ছেলে সাবেক ছাত্রদল নেতা শাহ নেওয়াজ বিপুলের সঙ্গে মীর শাহে আলমের কথোপকথনের অডিও ফাঁস হয়।

শিবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক বিপুল জানান, তার মা জেলা বিএনপির সাবেক মহিলাবিষয়ক সম্পাদক বিউটি বেগম বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। তাকে নির্বাচনে সহযোগিতা করতে শাহে আলম কয়েক দফা ফোন করে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছিলেন।

এ ছাড়া বগুড়ার শিবগঞ্জে ২৮ টিসিবির ডিলারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিএনপি। তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ৩৫০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করার অভিযোগ ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, মামলা থেকে নাম কাটার জন্য আলাদা করে ৫০ হাজার টাকা দাবি করারও অভিযোগ ওঠে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী টিসিবির ডিলাররা। সংবাদ সম্মেলনে টিসিবির ডিলার মাসুদ রানা উল্লেখ করেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলমের প্রত্যক্ষ মদদে তার ভাতিজা উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মীর মুন এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল বারী এ চাঁদা দাবি করে। উপজেলার একটি কুচক্রী মহল তাদের স্বার্থ হাসিল করতে উপজেলার ২৮ টিসিবির ডিলারের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে একটি মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শার্টের বুকে ‘কাপুর’ লিখে আলোচনায় আলিয়া ভাট

চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপি নেতা শাহে আলমের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় ১২:০৮:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০২৪

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মীর শাহে আলমসহ ১০ জনের নামে মামলা করা হয়েছে। গত ১৭ অক্টোবর শিবগঞ্জ উপজেলার ভাগখোলা গ্রামের মো. আশরাফুল আলম (৬১) বাদী হয়ে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিবগঞ্জ আমলী আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন-শিবগঞ্জ উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের মৃত সাত্তার তালুকদারের ছেলে মো. মামুন তালুকদার (৪০), মুরাদপুর গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদ মৃধার ছেলে মো. রোকনুজ্জামান রুবেল (৩২), চানপাড়া গ্রামের মো. বুলু মিয়ার ছেলে মো. আতিকুর রহমান (৩৫), ভাগকোলা গ্রামের মৃত হাফিজার রহমানের ছেলে মো. মোহন (৩৫), দক্ষিণ কৃষ্ণপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. বিপুল মিয়া (৪০), নিশিন্দারা পশ্চিমপাড়া গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে মো. আবু সাঈদ (২৭), শব্দদিঘী গ্রামের আলিম উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মজিদ (৩৮) ও একই গ্রামের মো. জাফর আলী এবং এরফান আলী।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২ অক্টোবর বিকেলে আসামি মীর শাহে আলমসহ অন্যান্য আসামিরা আশরাফুল আলমকে শিবগঞ্জ উপজেলার বানাইল এলাকায় ডেকে নিয়ে যায়। পরে সেখানে তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে মীর শাহে আলম। এসময় আশরাফুল চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করলে মামলা দিয়ে জেলে পাঠানোর ভয় দেখানো হয়। এ ছাড়া তাকে বিভিন্ন হুমকি-ধমকি প্রদান করেন আসামিরা।

এদিকে, গত ৮ সেপ্টেম্বর বগুড়া প্রেসক্লাবে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলমের অত্যাচার ও নির্যাতনে বিএনপির দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত অনেক নেতা-কর্মী চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন, এমন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও শিবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মতিয়ার রহমান মতিন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় বিএনপিতে তার অনুসারী না হলেই সেসব নেতা-কর্মীদের মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার আসামি করা হচ্ছে। এলাকায় তিনি ক্ষমতা দেখিয়ে যা ইচ্ছে তাই করছেন। বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় মীর শাহে আলমের কারণে সাধারণ মানুষ রাগে ক্ষোভে বিএনপি বিমুখ হয়ে যাচ্ছে।

এর আগে, ২০২৪ সালে সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী (ট্রাক মার্কা) সাবেক বিএনপি নেত্রী বিউটি বেগমের পক্ষে কাজ করতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলম টাকা নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। টাকা নিয়েও তিনি অন্য প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। এ ঘটনায় বিউটির ছেলে সাবেক ছাত্রদল নেতা শাহ নেওয়াজ বিপুলের সঙ্গে মীর শাহে আলমের কথোপকথনের অডিও ফাঁস হয়।

শিবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক বিপুল জানান, তার মা জেলা বিএনপির সাবেক মহিলাবিষয়ক সম্পাদক বিউটি বেগম বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। তাকে নির্বাচনে সহযোগিতা করতে শাহে আলম কয়েক দফা ফোন করে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছিলেন।

এ ছাড়া বগুড়ার শিবগঞ্জে ২৮ টিসিবির ডিলারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিএনপি। তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ৩৫০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করার অভিযোগ ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, মামলা থেকে নাম কাটার জন্য আলাদা করে ৫০ হাজার টাকা দাবি করারও অভিযোগ ওঠে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী টিসিবির ডিলাররা। সংবাদ সম্মেলনে টিসিবির ডিলার মাসুদ রানা উল্লেখ করেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলমের প্রত্যক্ষ মদদে তার ভাতিজা উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মীর মুন এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল বারী এ চাঁদা দাবি করে। উপজেলার একটি কুচক্রী মহল তাদের স্বার্থ হাসিল করতে উপজেলার ২৮ টিসিবির ডিলারের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে একটি মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।